1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় বিকাল ৪:২৪ আজ রবিবার, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি




গাইবান্ধার পরচুলা যাচ্ছে চীনে

  • সংবাদ সময় : সোমবার, ২২ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৬১ বার দেখা হয়েছে

আফতাব হোসেন:
গাইবান্ধায় জেলার ৯ শতাধিক কিশোরী ও নারী ব্যস্ত সময় পার করছেন পরচুলা তৈরিতে। স্থানীয়ভাবে আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উপার্জনের সাথে যুক্ত হয়ে বেড়েছে উপার্জন ক্ষমতা ও পারিবারিক মর্যাদা। আর গ্রামীণ নারী ও কিশোরীদের এই পরচুলার ক্যাপ চীন হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর নানা দেশে। পরচুলার চীনসহ বিভিন্ন দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকায় দেশের নারীদের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক আয়ের উজ্জল সম্ভাবনা কথা জানান উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান সততা হেয়ার প্রসেসিং।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী গ্রামে মাস ছয়েক আগে ১৫০জন নারী নিয়ে সততা হেয়ার প্রসেসিং নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর এই অল্প সময়ের মধ্যে ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার আরো ৫টি হেয়ার প্রসেসিং সেন্টার চালু করা হয়েছে। আর এই ৫টি সেন্টারে এখন প্রায় এক হাজার নারী ও কিশোরীর কাজ করছে।

শিক্ষার্থী স্বপ্না রানী রবিদাস জানান, করোনাকালীন ঘরে বন্দি ছিলাম, অনলাইনে ক্লাশের পাশাপাশি এই পরচুলার প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করে এখানে থেকে মাসে ১২ হাজার টাকা আয় করছি। এতে নিজের পড়ালেখার খরচ মিটিয়ে বাবা মাকে সহযোগতা করছেও সে।
আরেক কলেজ শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার জানান, অভাবের সংসারে নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে পড়ালেখা করার সুযোগ হয়েছে। এতে তার পড়ালেখার কোন ক্ষতি হচেছ না বলেও জানান। মুন্নি বেগম জানান, প্রশিক্ষণ শেষে কাজ দেয়া হয় আর মাস শেষে বেতন দেয়া হয় আর এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাও নারীবান্ধব বলে তিনি জানান।
গাইবান্ধা শহর থেকে এখানে এসে কাজ করছেন মিথি বেগম। তিনি জানান, কাজের জন্য এখানে আসা।
কর্মহীন নারীদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও পরচুলার তৈরির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। এতে করে মাসে প্রত্যেকে নারী কারিগর গড়ে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করছেন।
আর সততা হেয়ার প্রসেসিং এর বোয়ারূী কেন্দ্রের ম্যানেজার ফিরোজ কবীর জানান, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাজু আহম্মেদ এর উদ্যোগে দিনাজপুর ও গাইবান্ধায় প্রায় তিন হাজার নারী ও কিশোরীর কাজের সুযোগ হয়েছে। নারীবান্ধব পরিবেশে একজন দক্ষ কারিগর দিনে দু’দিনে একটি অবার পরচুলার ক্যাপের সাইজ অনুযায়ী দু’দিন লাগে একটি ক্যাপ তৈরি করে ক্যাপের জন্য সাইজ অনুযায়ী ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা মাসিক বেতন পাচ্ছেন।
এই করোনাকালীন গ্রামের গ্রামের নারী ও কিশোরীদের এলাকাতেই আয়- উপার্জনমূলক কাজের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় দারুণ খুশি সম্পৃক্তরা। সম্পৃক্তরা মনে করছেন এধরণের প্রতিষ্ঠানের পরিধি বাড়লে উত্তর জনপদের দারিদ্রতা নিরসনে অনেকটাই ভূমিকা রাখবে। আর উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান আশা করছেন, সরকারি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে গ্রামের নারী ও কিশোরীদের হাতের তৈরি পরচুলা বৈদেশিক আয়ের উজ্জল সম্ভাবনায় রয়েছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্্ সালাম জানান, নারীদের অর্থনৈতিক কাজের সুযোগ অবশ্যই পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে। এতে করে নিজের মতামতা প্রকাশের সক্ষমতাও বাড়ে। তিনি জানান, দেশের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে এধরনের প্রতিষ্ঠান নারী উন্নয়ন ও দারিদ্রবিমোচনে ভুমিকা রাখে।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ