1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ১০:৫০ আজ শনিবার, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি




উত্তরের চরাঞ্চলে দুর্যোগ সহনশীল টেকসই বসতবাড়ি নির্মান করা হবে-ডা. এনাম, প্রতিমন্ত্রী

  • সংবাদ সময় : সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১
  • ১৮১ বার দেখা হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের তিস্তা,ব্রহ্মপ্রত্র চরাঞ্চলের বাস্তবতা  ও অভিজ্ঞতার আলোকে  বসতবাড়ি নির্মান করে জীবনমানের টেকসই উন্নয়ন করা হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবেই কৃষি ভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে  শহরের উপর নদীভাঙন কবলিত মানুষজনের চাপ কমানো হবে।

গতকাল (১১ অক্টোবর) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও  ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যৌথা আয়োজনে দৈনিক যুগান্তর সম্মেলন কক্ষে গোল টেবিলৈ বৈঠকদুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২১ এবং সিপিপি’র ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এসব কথা বলেছেন।

তিনি এসময় আরো বলেন, বাংলাদেশের দুর্যোগসহনশীল সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একযোগে কাজ শুরু করা হয়েছে। সমন্বিত এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশকে দুর্যোগ সহনশীর রাষ্ট্রে পরিণত করা হবে। সে লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিশন ২০২১ এবং ডেল্টাপ্লান ২০২১ ঘোষণা করেছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একসময় দুর্যোগের দুর্নাম মুক্ত হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট কাজ করছে। শক্তিশালী  ভূমিকা রাখছেন। অত্যন্ত জোরালোভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্বণ-নিঃসরণ কমানোর দাবি জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, একজন বিশ্ব নেতা, একজন বলিষ্ঠ নেতা বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার চারপাশে অনেক দক্ষ লোক তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন কার্যকর সমন্বয়। সে কাজটি আমরা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে করার চেষ্টা করছি। গৃহিত প্রকল্পগুলো সবাইকে নিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের চরাঞ্চলের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস করার বিষয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতামতের আলোকে চরগুলোকে উঁচু করার কার্যক্রম চলছে। এটা করা গেলে ওই চরের বাসিন্দাদের বাস্তচ্যুত হতে হবে না। কোন ক্ষতিরও শিকার হতে হবে না। এটা একটি ভাল পদ্ধতি। দুর্যোগ মন্ত্রণালয় ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এটাকে জাতীয় নীতিমালায় যুক্ত করতে পারি। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে যখন বন্যা হল, তখন দেশের অনেক বড় বড় চরে আমরা পরিদর্শন করেছি। তখন চরবাসী আমাদের কাছে দাবি জানিয়েছিল, তাদেরকে বেড়িবাঁধ করে দিলে তারা ভাঙ্গন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষাপাবে। পানির উচ্চতা যতই হোকনা কেন চরবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তারা ওইসব নদীর বেড়ীবাঁধ করার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করছে। তিনি আরও বলে, জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি হয়েছে কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ ও কক্সবাজার এলাকার নদীগুলোয় বাঁধ দিয়ে চরঅঞ্চলগুলোকে বন্যা ও নদীভাঙ্গন থেকে রক্ষা করবেন। পাশাপাশি নদী খনন করে নাব্যতা বৃদ্ধি করবেন। কাজটি শুরু হয়েছে, করোনার কারণে কার্যক্রম কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ. শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, মুন্সিগঞ্জ, লক্ষীপুর এবং চাঁদপুরের এলাকার নদী ও চরাঞ্চলের উন্নয়ন কাজ করা হবে। এছাড়া ডেল্টা প্লান ২১০০ তে উপক‚ল এবং বন্যাপ্রবাহ এলাকার বিষয়ে বলা হয়েছে। দুটো হট স্পট। ২০৩১ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি হট স্পটের বাজেট ধরা হয়েছে ৩৭ বিলিয়ন ডলার। প্রতি বছর বন্যা ব্যবস্থাপনা ও বাঁধ ব্যবস্থাপনায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলরা করে খরচ করা হবে। এখন অর্থের সংস্থানের চেষ্টা চলছে। সেটা হলে এত দিনের দুঃখের নিরসন করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে চীনের হোয়াংহো নদী থেকে আইডিয়া নেওয়া হয়েছে। ওই নদীর দুইক‚ল প্লাবিত হতো। অসংখ্য জনপদ প্লাবিত করতো। মানুষ মারা যেতো। ওই নদীতে টেকসই বাঁধ দেওয়া হয়েছে। অনেক সুইচগেট করা হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে কোনো দুঃখ নেই। চীন যদি পারে আমরা কেন পারবো না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম। এসময় উত্তর জনপদের বন্যা ও নদীভা্ঙন নিয়ে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের কাজের উপর একটি টেলিভিশন প্রতিবেদন দেখানো হয়। এসময় অভিজ্ঞতার  আলোকে বক্তব্য রাখেন জিইউকের নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্‌ সালাম। তিনি চরের মানুষের জীবনমান ও টেকসই উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনর তুলে ধরে বলেন, চরের উন্নয়নে অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ, বন্যাকালীন মানুষজন যাতে নিজ বাড়িতে থাকতে পারে এজন্য বসতবাড়ি অথবা ক্লাস্টার করা, নদীভাঙনের জন্য জিআইএস ম্যাপিং করে জনগণকে ঝুঁকির বিষয়টি অবগত করা,  কৃষি এবং প্রাণি সম্পদভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রস্তাব করেন।   এসময় তিনি আরো বলেনে এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরো বেশি দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে  হবে এবং দুর্যোগ স্থায়ী  আদেশাবলী অনুযায়ী নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে কাজ করতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোহাম্মদ মহসীন এর সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন  পল্লীকর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ও ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. নুরুল ইসলাম, , ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সাজ্জাত হোসাইন, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক  সাইফুল আলম। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সংস্থার সিনিয়র ব্যবস্থাপনা টিমের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানেটি সঞ্চালন করেন এটিএন বাংলার কারেন্ট এ্যাফেয়ার্স এডিটির  কেরামত উল্লাহ বিপ্লব।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ