1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় দুপুর ১২:২৯ আজ সোমবার, ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি




এক জনমের সুখ-দুঃখের ইতিকথা-মাজহারউল মান্নান

  • সংবাদ সময় : শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে

ছরের শেষদিকে লজিংটা হারালাম। কারণ আমার ছাত্র ইদ্রিস টেস্টে ফেল করেছে। লজিং মাস্টারের ধারণা আমি ঠিক মত পড়াইনি তাই সে ফেল করেছে। তিনি আমাকে চলে যাওয়ার জন্য চব্বিশ ঘণ্টা সময় দিলেন। বাড়ির ভেতর থেকে মৃদু আপত্তি উঠলো। কিন্তু গৃহকর্তার গর্জনে তা চাপা পড়ে গেল।
পরদিন সকালে বিছানাপত্র বাঁধাছাদা করে যাওয়ার জন্য তৈরি হলাম। ইদ্রিসের মা একটা লম্বা ঘোমটা দিয়ে এই প্রথম আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন। ছেলের উদ্দেশে বললেন, মাস্টারকে সালাম করো। ইদ্রিস মাথানত করতেই আমি ওকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। ছেলেটা আমার বুকে মাথা রেখে শব্দ করে কাঁদতে লাগলো।
ইদ্রিসের মা একটা দশ টাকার নোট আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, আমি তোমার মায়ের মতো। এই টাকাটা রাখো। না বোলো না।
নোটটা হাতে নিয়ে তার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলাম। তিনি আমার মাথায় হাত রাখলেন। ধরা গলায় বললেন, তুমি আমার ছেলে দুটোকে মাফ করে দিও বাবা।
বুঝতে পারলাম ঘোমটার ভেতরে দুটো মায়াভরা চোখ পানিতে পূর্ণ হয়ে এসেছে।
পরদিনই আমার ক্লাসমেট আকবর একটা লজিং ঠিক করে দিলো কেরানী পাড়ায় তার বন্ধুর বোনাইয়ের বাসায়। লজিং মাস্টার কো-অপারেটিভ ইন্সপেক্টর আশরাফ চৌধুরী। তাঁর দুই ছেলে সাহেব আর দুলালকে পড়াতে হবে। সে সময় কেরানী পাড়া ছিল জঙ্গলে ভরা। দিনের বেলায় শেয়াল ছোটাছুটি করতো।
কেরানীপাড়া থেকে কলেজের দূরত্ব অনেক। সাইকেলটাই ভরসা। সেই সকালে চারটা খেয়ে কলেজে যাই, ফিরি বিকেল পাঁচটায়। ঠিকমত খেতে না পেয়ে শরীর মন দুই-ই ভেঙে পড়তে লাগলো।
চৌষট্টি সালের জুন মাসে শুরু হলো সাবসিডিয়ারি পরীক্ষা। রাজনৈতিক আন্দোলন আর নানা গোলমালে পড়ালেখা তেমন একটা হয়নি। ক্লাসে স্যারদের মুখে শুনে শুনে যা কিছু শিখেছি সেগুলোই নিজের ভাষায় খাতার পাতা ভরতি করে করে লিখে দিলাম। ভরসা একটাই। সাবসিডিয়ারিতে ডিভিশনের বালাই নেই। কোনোরকম পাশ করলেই চলে।
ঠিক তিন মাসের মাথায় সাবসিডিয়ারির রেজাল্ট বেরোলো।
অনার্স ক্লাসে ছিলাম। কে একজন বললো, অফিসে টেবুলেশন এসেছে দেখে এসো। বুকটা ধড়াস করে উঠলো। হেলাফেলায় পরীক্ষা দিয়েছি। যদি ফেল করি। তবে তো একটা বছর নষ্ট হয়ে যাবে।
দুরু দুরু বুকে অফিসে গিয়ে টেবুলেশন শীট দেখলাম। বিস্ময়ের ব্যাপার! দুই বিষয়েই সিক্সটি পার্সেন্ট মার্কস। আশাতীত নম্বর পেয়ে আনন্দে বুকটা ভরে গেল। বাড়িতে টেলিগ্রাম করে খবরটা দেয়ার জন্য সাইকেল নিয়ে ছুটলাম কাছারি বাজার পোস্টাফিসে। স্ট্যান্ডে সাইকেলটা রেখে সোজা চলে গেলাম টেলিগ্রাম অফিসের ভেতরে।
মিনিট বিশেক পর বাইরে এসে দেখি স্ট্যান্ডে সাইকেলটা নেই। মাথাটা ঘুরে গেল। চোখে অন্ধকার দেখতে লাগলাম।
বহু কষ্টে বা’জান ভাতের জমি বন্ধক রেখে কিনে দিয়েছিলেন সাইকেলটা। বা’জানের মুখ মনে পড়তেই বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠলো। দীর্ঘদিনের সুখ দুঃখের সাথী সাইকেলটা হারিয়ে আমি স্থান কাল ভুলে পোস্টাফিসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে লাগলাম।
ঊনিশশ’ পঁয়ষট্টি সাল। অনার্স ফাইনাল ইয়ার। এরমধ্যে আমার আয় রোজগারের পথ খানিকটা খুলে গেছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজাই। সামান্য যে সম্মানী পাই তাই দিয়ে কোন রকমে হাতখরচা চলে যায়।
জেলা পরিষদের পাক্ষিক পত্রিকা ‘উন্নয়নে’ লেখালেখি করি। সম্পাদক নূরুল ইসলাম স্যার মাস গেলে বিশ পঁচিশ টাকা হাতে ধরিয়ে দেন।
বন্ধু-বান্ধবের সহযোগিতায় ‘শিখা’ নামে নিজে একটা অনিয়মিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বের করি। দুই একটা বিজ্ঞাপন থেকে যা আসে তা দিয়ে ‘মিনার প্রেসে’র পাওনা আর কাগজের বিল মিটিয়েও হাতে কিছু থেকে যায়।
অনেক দিন বাড়ি যাই না। ইচ্ছে হয় কিছু পয়সাপাতি নিয়ে বাড়ি যাই। ভাইবোনগুলোকে দেখে আসি। কিন্তুু যাওয়া আর হয়ে ওঠে না। (চলবে …), পর্ব-একুশ

 

 




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ