1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় ভোর ৫:৪৬ আজ বৃহস্পতিবার, ৫ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি




লকডাউন বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি-মনোমানিল্য!

  • সংবাদ সময় : রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১
  • ২২৯ বার দেখা হয়েছে

আফতাব হোসেন:

করোনা পরিস্থিতি আমাদের পারিবারিক জীবনকে অনেকটাই অশস্তিকর করে তুলেছে। প্রতিটি মুহুর্ত কাটছে  অনিশ্চিয়তার মধ্যে। অধিকাংশ সময় স্বামী-স্ত্রীকে বাড়িতে থাকায় কারণে-অকারণে বাড়ছে মনোমানিল্য। সামন্য কথাতেই ঝগড়া বিবাদের সৃষ্টি হচ্ছে।  করোনার বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনে জরুরি পরিষেবার মতো পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্র বিশেষে বাইরে যাওয়ার অনুমতি মিলেছে কিন্তু অন্যরা সবাই গৃহবন্দি। আর বাইরে গিয়েও বা কি করবেন।  আর এই লকডাউনের কারণে একদিকে যেমন বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি তেমনই বাড়ছে দাম্পত্য কলহ। শুধু মহিলারাই নয়, হিংসার শিকার হচ্ছে বাড়ির ছোটরাও। বয়স্করাও অনেকটা অসহায়ে হয়ে দাম্পত্য কলোহ সহ্য করে যাচ্ছে।

সময় কাটানোর অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব, গেমসসহ সোস্যাল মিডিয়াতে বেশি সময় ব্যয় করায় কারণে নিজেদের মধ্যে সন্দেহের মাত্রা বেড়েই চলছে। একারণে দাম্পত্য জীবনে স্বামী সন্তান-স্ত্রী এমন কি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। তবে, এই সুযোগ নিচ্ছে শিশুরা। পারিবারিক কলোহের কারণে পিতা-মাতার অভিমানের সময় দীর্ঘ হওয়ায় সন্তানের মোবাইলে ইন্টারনেটপ্রীতিতে আসক্ত হচ্ছে। একজন আইনজীবী জানান, দেশে বিচ্ছেদের কেস  এর সংথ্যা আগের চেয়ে দ্বিগুন হয়েছে।  আবার অনেকে নিজেদের মনোভাব ব্যক্ত করার জন্য সোস্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট দিয়ে বিষয়টিকে আরো জটিল করে  তোলেন। পারিবারিক কলোহের মধ্যে একটা অংশ আছেন যারা স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ে চাকরি করেন এখন লকডাউনের কারণে বাড়িতে। যদি কোনও কারণে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য আগে থেকেই থাকে সেই অশান্তি আরও বেড়ে যাচ্ছে। ছোট ঘটনাও বড় পারিবারিক অশান্তি রূপ নিতেও দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মনোবিদরা। এরমধ্যে টিভি দেখা কিংবা গান শোনা নিয়ে অশান্তি, স্যোশাল মিডিয়া বেশিক্ষণ সময় দেয়া নিয়েও স্বামী সঙ্গে স্ত্রীর অশান্তি লেগে যাচ্ছে।পাশাপাশি অনেক পরিবারে স্বামীরাই শুধু কাজে বের হন, স্ত্রী’রা বাড়িতে থাকেন। এই ধরনের পরিবারের সংখ্যা আমাদের সমাজে এখনও বেশি। এখানে দেখা যাচ্ছে একজন মহিলার কাছে ঘরে থাকাটা তার ওপর সেভাবে চাপ না বাড়ালেও, একজন চাকুরিজীবী পুরুষের কাছে কিন্তু সারাক্ষণ বাড়িতে বসে থাকা অনেক বেশি ফ্রাস্ট্রেশনের জন্ম দিচ্ছে। এবার সেই ফ্রাস্ট্রেশন অনেক সময় রাগে পরিণত হচ্ছে। সেই ফ্রাস্ট্রেশন প্রকাশের জায়গা হচ্ছে স্ত্রী বা পরিবার। কাজেই বাড়ছে অশান্তি।

’বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন একটি উদ্বেগপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, পরিবারের কেউ না কেউ হচ্ছেন চাকরি হারা আর পাশাপাশি রয়েছে সংসার চালানো এবং সন্তানদের দেখাশোনার ভার। সবকিছু মিলে নাগরিক জীবনে জমে উঠছে মান-অভিমান আর তারই ফলাফল বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের হার! দম্পতিদের মধ্যে ছোটখাটো অমিল হতেই পারে। কিন্তু ছোটখাটো অমিল আর বিবাহবিচ্ছেদের আলোচনার মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। করোনার প্রভাব অন্যান্য আরও অনেক কিছুর মতো এই বিষয়টিকেও করে দিচ্ছে ওলটপালট।

বেসরকারি একটি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী সরকারি হেল্প ডেক্স এ নারীর অসংখ্য কল রেকর্ড করা হচ্ছে শুধু দাম্পত্য কলোহ নিয়ে।  বেশ কয়েকটি সংস্থার মতে অনুযায়ী কিছুটা উল্টো চিত্রও লক্ষ্য করা গেছে- ইতোপূর্বে যে সম্পর্কগুলোতে বিচ্ছেদের সুর বইছিল, সেই সম্পর্কগুলো এখন দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটানোর ফলে পুনরায় জোড়া লেগে যাচ্ছে। আর তাই অনেকেই আগে ডিভোর্স কেস ফাইল করলেও, এখন সেগুলো তুলে নেয়ার জন্য প্রায়শই কল করছেন।

আর তাই এমন পরিস্থিতিতে সবার উচিত নিজেদের কলহগুলোকে আরেকটি বার সুযোগ দিয়ে সঙ্গী অথবা সঙ্গিনীর সাথে আরেকটু অন্তরঙ্গ সময় অতিবাহিত করা। ছোটখাটো উচ্ছ্বাস এবং আবেগগুলোকে আঁকড়ে ধরে একে অপরের মধ্যে বিবাদ না খুঁজে বরং সুখ খুঁজে নেয়া।  আপনি এই ছোট ছোট আবেগগুলো নিজের ভেতরে ধরে না রেখে আপনার ঘনিষ্ট বন্ধু বা আপনজনের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

আবার আপনার পারিবারিক অশান্তির প্রভাব দীর্ঘদিন থাকলে নেতিবাচক পড়বে কর্মক্ষেত্রে। কোন কিছুতেই সঠিকভাবে মন বসাতে পারবেন না।  এমন পরিস্থিতিতে সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্মানের কথা চিন্তা করে  ধৈর্য আর মাথা ঠান্ডা রাখা ছাড়া করার কিছুই নেই।এক্ষেত্রে কিছুটা সময় অপেক্ষা করা, কেননা বর্তমান পরিস্থিতিতে রাগ বা অভিমানে এমন কিছু  করবেনা যাতে আপনার মানসিক শক্তি  দুর্বল হয়ে পড়ে। কেননা করোনা মোকাবেলায় আপনার মানসিক শক্তিরও প্রযোজন আছে।  তবে, সাহস রাখেন কালো ছায়া একদিন সরে যাবেই। নতুন ভোর করোনা আতঙ্ক ধুয়ে মুছে নাগরিক জীবনের দাম্পত্যগুলোকে দিবে নতুন রূপ, দূর হবে পরিবারিক অশান্তি ও দু:শ্চিন্তা।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ