1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সকাল ৭:২২ আজ মঙ্গলবার, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি




নৌকাতেও উপেক্ষিত নারীর সুযোগ-সুবিধা

  • সংবাদ সময় : মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১
  • ১৭৩ বার দেখা হয়েছে

আফতাব হোসেন:
ছকিনা বেগম। বসবাস করেন গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার খাটিয়ামারী চরে। বৃদ্ধ মা নছিরণ বেওয়া (৭৬) বেশ কয়েকদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ, এজন্য গাইবান্ধা জেলা সদরের হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু জেলা সদরের আনার একমাত্র মাধ্যম খেয়া নৌকা। এজন্য প্রায় দু’ঘন্টা অপেক্ষা করে খেয়া নৌকায় উঠতে হয় বৃদ্ধ মাকে কোলে তুলে নিয়ে। মুশকিল নদীর পানি ও উচু নৌকা। ছকিনা বেগম নিজেই বৃদ্ধ মাকে কোলে তুলে নৌকায় ওঠার চেষ্টা করেন। বেশ কয়েকবার উঠার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে শেষে অন্য এক নারীর সহায়তা নৌকা উঠতে সক্ষম হন।
কিন্তু নৌকায় উঠতে একজন নারীর জন্য যেধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন এগুলোর বালাই নেই। আর যাদের এধরণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তারা হয়তো কোনদিন তা অনুধাবন করেননি। জেলার প্রায় সবগুলো নৌকার চিত্র একই। নেই ওঠার জন্য মই বা র‌্যাম, স্যানিটেশন সুবিধা, রোদ বৃষ্টি থেকে নিরাপদ স্থান।
একজন পুরুষ মানুষ হিসেবে যত সহযেই নৌকায় ওঠা যায় একজন নারী পক্ষে আসলেই খুব জটিল। বিষয়টি নিয়ে কারও মাথা ব্যাথা নেই সংশ্লিদের। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর একজন নারী হিসেবে নারীর নৌকায় চলা।
কথা হয় একই নৌকার যাত্রী আ: রহিম মোল্লা (৬০) এর সাথে। তিনি অনেকটা মুছকি হেসে বলেন নারীদের জন্য আলাদা সুযোগ আবার কিসের, এইতো চলছি একসাথে সমস্যা নেই তো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক নারীকে জিজ্ঞেস করলে জানান, সমস্যা তো হয় কিন্তু সমাধান করবে কে, ভিজা কাপড়ে নৌকায় উঠেছি, শহরের এভাবেই যেতে হবে।
নৌকার আরেক যাত্রী স্কুল ছাত্রী জানায়, পুরুষ মানুষেরা হাটুর উপর কাপড় তুলে নৌকায় উঠতে পারলেও আমরা তো সেটি পারি না। আমাদের তো লজ্জ্বা আছে। উচু নৌকায় উঠতে কয়েকবার সে পানিতে পড়ে বই পুস্তক ভিজে গিয়েছিলো বলে জানায়।
আবার নারী-পুরুষ গাদাগাদি করে একই নৌকায় বসতে হয়। বেশিরভাগ নারী ও কিশোরী যাত্রীকে দেখা যায় পুরুষদের জায়গা ছেড়ে দিতে হচ্ছে তারা নৌকার পাঠাতনে বসে আছেন।
এ বিষয়ে উন্নয়ন কর্মী জয়া প্রসাদের জানান, নারীরা যে মানুষ সেই বিষয়টি তো এখনও অনেকে মেনেই নিতে পারেন না। নারীদের অনেক ক্ষেতেই আলাদা করা হয়। আর নারীদের সমস্যাগুলো কেউ বুঝতে চায় না। একারণে নারীদের সমস্যাগুলো এভাবেই সমস্যা হিসেবেই থেকে যায়।
গাইবান্ধা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার জানান, নৌঘাটগুলো ইজারা দেয়ার সময় শর্ত থাকে নারী পুরুষ যাত্রীর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নৌমালিকেরা সেটি মানেন না বলেও তিনি জানান। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে নারীবান্ধন নৌকা তৈরির আশ্বাস দেন।
গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি, সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২২ টি ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র, যুমনা ও তিস্তা নদীতে ছোট-বড় ৩ হাজার নৌকা চলাচল করে। এরমধ্যে ৭০টি নৌঘাটে প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ২ লাখ নারী পুরুষ চলাচল করলেও নারী যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকছে।

 




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ