1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সকাল ৭:০১ আজ মঙ্গলবার, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি




ত্ব-হা গাইবান্ধায় ৮দিন জানতো না কেউই, তবে কেন?

  • সংবাদ সময় : রবিবার, ২০ জুন, ২০২১
  • ১২২ বার দেখা হয়েছে

আফতাব হোসেন:
ধর্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান গাইবান্ধায় নিরাপদে আত্মগোপনে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সাধারন মানুষজনের মধ্যে। ১১ জুন থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত বাল্যবন্ধু সিয়াম ইবনে শরীফের (৩১) এর গাইবান্ধা জেলা সদরের ত্রিমোহনি স্টেশনের পশ্চিমে পিয়ারাপুর গ্রামের বাড়িতে আট দিন দুই সঙ্গী ও ভাড়া করা গাড়ির চালকসহ চারজন অবস্থান করলেও কারো নজর বা কানে কেন আসেনি বিষয়টি এ নিয়ে জেলার সর্বত্র ব্যাপক গুঞ্জনও শুরু হয়েছে। অনেকে আইন শ্ঙ্খৃলা বাহিনীরপ্রতি দৃষ্টি রেখে মনে করছেন তাহলে কি যেকেউ যেকোন ঘটনা ঘটিয়ে গাইবান্ধায় নিরাপদ অবস্থানের জন্য বেঁছে নিতে পারবে। যে গাড়িতে করে ত্ব-হা এবং আরও তিনজন গাইবান্ধা পিয়ারাপুরের ওই বাড়িতে এসেছেন, সেটাও দেখেননি আশপাশের কেউ। তবে, সিয়ামের মা নিশাত নাহারের দাবি, ত্ব-হার অনুরোধেই তিনি তার অবস্থানের কথা কাউকে বলেননি।
তবে, ত্ব-হার সন্ধান পাওয়ার পর এমনটা পুলিশ গাইবান্ধায় অবস্থানের কথা জানালেও বন্ধু সিয়ামের দাবি, বাড়িতে ত্ব-হার অবস্থানের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।
ত্ব-হা ও তার সঙ্গীদের বহনকারী গাড়িটি এতদিন কোথায় ছিল? জানতে চাইলে নিশাত নাহার দৈনিক সংবাদকে জানান ‘সেদিন দুপুরে যে গাড়িতে তারা এখানে এসেছিল, সেটা তখনই ফিরে যায় এবং শুক্রবার আবার সেই গাড়িই এসে তাদের নিয়ে যায়।’
বন্ধু সিয়াম চাকরির কারণে বর্তমানে রংপুরে অবস্থান করেন। সিয়ামের সাথে কথা হলে জানান, শনিবার বিকালে বলেন, ‘ত্ব-হা নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা স্কুলের বন্ধুরা মিলে রংপুরে মানববন্ধনও করেছি। কিন্তু, জানতাম না সে আমাদের বাড়িতেই ছিল গত আট দিন।’
‘আমি ত্ব-হার বিষয়ে মায়ের সঙ্গে ফোনেও কথা বলেছি। কিন্তু, মা আমাকে কিছু বলেননি।’
সিয়াম বলেন, ‘আমি গতকাল বাড়িতে এসে শুনি তারা চলে গেছে।’
সিয়ামের মা নিশাত নাহার জানান সিয়াম ও আবু ত্ব-হা রংপুরের লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন। রংপুরের বাসায় ত্ব-হা নিয়মিত যাওয়া-আসা করতেন। তাদের মধ্যে বেশ ঘনিষ্ট বন্ধুত্ব রয়েছে এবং এর আগেও সে এখানে আসতো।
তারা গত ছয় বছর ধরে গাইবান্ধায় আসা-যাওয়া। এখানেও নিয়মিত ত্ব-হার আসা-যাওয়া আছে বলে জানান সিয়ামের মা।
তবে, ত্ব-হা এবং তার সঙ্গী আবদুল মুহিত, ফিরোজ আলম ও আমির উদ্দিন প্রায় এক সপ্তাহ সিয়ামের বাড়িতে থাকার বিষয়ে কিছুই জানেন না পাশের বাড়ির লোকজন।
সিয়ামের বাড়ির পাশের বাড়িতে থাকেন তার বড় চাচা বোয়ালি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ এম আবদুল মাজেদ উদ্দিন খান, তার স্ত্রী নাজনীন চৌধুরী ও ছেলে আসিফ খান।
চাচা মাজেদ উদ্দিন খান বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান মানুষ, খুব বেশি পাশের বাড়িতে খোঁজ নিতে পারি না। ত্ব-হা যে এখানে গত আট দিন লোকজন নিয়ে ছিল, সেটা আমরা কেউ জানি না।’
সিয়ামের বাড়ির পাশেই তার ছোট চাচা সোহেল নেওয়াজ খান পরিবার নিয়ে থাকেন। তিনি এবং তার পরিবারও কিছু জানতেন না ত্ব-হার এখানে থাকার বিষয়ে। তবে, টিভিতে ত্ব-হার নিখোঁজ হওয়ার খবরটি শুনেছেন বলে জানান। গতকাল যখন একটি সাদা গাড়ি তারা এখান থেকে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়, তখন শুধু দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন।
নিশাত নাহারের সঙ্গে কথা বলার সময় পাশের বাড়ির এক গৃহকর্মী এসেছিলেন বাড়িতে। কিন্তু, নিশাত নাহার তাকে বাড়িতে ঢুকতে নিষেধ করেন। পরে এই রিপোর্টার ওই নারীর কাছে জানতে চান ত্ব-হাদের অবস্থানের ব্যাপারে কিছু জানতেন কিনা। নেতিবাচক উত্তর দেন তিনিও।
ত্ব-হার নিখোঁজ হওয়ার পর তোলপাড়ের কথা জেনেও নিশাত নাহার বিষয়টি কাউকে জানাননি। কেন জানাননি? জানতে চাইলে বলেন, ‘অন্তর’ (ত্ব-হার ডাক নাম) আমাকে কাউকে জানাতে নিষেধ করেছিল। সে যেদিন আমাদের বাড়িতে লোকজনসহ আসে, তখন আমার কাছে কয়েকদিনের জন্য আশ্রয় চায়। বলে- আমাকে কিছু লোক ফলো করছে। আমি কয়েকদিন এখানে থাকব। সেই জন্য আমি সিয়ামকেও বিষয়টি বলিনি।’
নিশাত নাহার বলেন, ‘যতদিন তারা এই বাড়িতে ছিল, ততদিন তারা কেউ বাড়ির বাইরে যায়নি। এমনকি তাদের কারও মোবাইল ফোনও খোলা ছিল না।’
কাছাকাছি কিছু দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলেও তারা এই বাড়িতে গত কয়েকদিন কারা ছিলেন বলতে পারেননি। তারা কাউকে আসতেও দেখেননি।
আপনি ছাড়া আর কেউ কি ত্ব-হা এবং তার সঙ্গী-সাথীদের দেখেছে? জানতে চাইলে সিয়ামের মা নিশাত নাহার বলেন, ‘আমি ছাড়া আর কেউ আমার বাড়িতে দেখেনি। তারা তো কাউকে দেখানোর জন্য আসেনি। তারা এখানে আত্মগোপনে এসেছিল।’
আত্মগোপনে থাকা আলোচিত এই ধমীয় বক্তা ত্ব-হা নিয়ে দেশ বেশ আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। গ্রামের এমন একটি বাড়িতে এতদিন বহিরাগত ৪ জনকে নিয়ে সাতদিন নিরাপদে অবস্থান করলেও আশ-পাশের লোকজন, বাড়ির কাজের মেয়ে, জনপ্রতিনিধি এমনকি আইন-শ্ঙ্খৃলা বাহিনীর কারো কেন নজরে আসেনি তা নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

হঠাৎ করেই আলোচনায় ত্ব-হা

কোন মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেনি। পবিত্র ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বিশেষ করে কোরআন-হাদীস সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণাও নেই। গান বাজনা, খেলাধুলা আর লাবাঙ্গা স্টাইলে ঘোরাফেরা ৩১ বছর বয়সী যুবকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের সম্পর্কে আপত্তিকর কথা আর ঢাকা শহরকে কেয়ামতের শহর বলে ফতোয়া দিয়ে বনে যান তথাকথিত ইসলামী বক্তা। নিজের নাম আফসানুল আদনান পরিবর্তন করে আবু ত্ব-হা আদনান ধারণ করেন। যিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে বলেন, শেখ হাসিনা দেশ চালায় না দেশ চালায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’।

হঠাৎ শিরোনামে আসা ব্যক্তিটি সম্প্রতি নিখোঁজ হওয়ার ৮ দিন পর রংপুর নগরীর মাস্টারপাড়া মহল্লায় শ্বশুর বাড়িতে ফিরে আসেন গত শুক্রবার। পুলিশের কাছে দাবি করেন সেচ্ছায় তিনি গাইবান্ধা জেলার ত্রিমোহনীতে বন্ধু সিয়ামের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন। গত শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট একেএম হাফিজার রহমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গান বাজনা, খেলাধুলা আর লাবাঙ্গা স্টাইলে ঘোরাফেরা যুবকটি হঠাৎ করে ইসলামী বক্তা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে রংপুরে তার বন্ধুমহল ও স্বজনদের কাছে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বন্ধুরা তার অসততার কথা বলেছেন। তার মধ্যে সততার অভাব।

এদিকে ৮ দিন নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার দুপুরে নিজের বাড়ি নগরীর সেন্ট্রাল রোড এলাকায় না এসে নগরীর চার তলা মোড়স্থ মাস্টারপাড়া মহল্লায় শ্বশুর বাড়িতে আসা নিয়েও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এরপর পুলিশ এসে ত্ব-হা আদনানকে গাড়িতে করে নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ ডিবি অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে দুঘণ্টা পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ত্ব-হা আদনান গাইবান্ধা জেলার ত্রিমোহনী এলাকায় তার বন্ধু সিয়ামের বাড়িতে সেচ্ছায় আত্মগোপন করে ছিলেন। এদিকে সিয়ামের বাড়িতে আত্মগোপন করে থাকার যে গল্প বানিয়েছে আদনান সেটা পুরোটাই মিথ্যা বলে দাবি করা হয়েছে। সিয়ামের বাড়ির পাশেই বসবাসকারী বোয়ালীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সিয়ামের চাচা আবদুল্লাহ খান জানিয়েছেন, ওই বাড়িতে কেউ আসেনি বা অবস্থান করেনি। সিয়ামদের বাড়িতে কেউই থাকে না। ত্ব-হা আদনানের বক্তব্য ডাহা মিথ্যা।

এদিকে ত্ব-হা কি কারণে আত্মগোপন করে ছিলেন তার কোন ব্যাখ্যা পুলিশ দেয়নি। এমনকি ত্ব-হা আদনানসহ তার দুই সহযোগীকেও সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়নি। এ ঘটনায় বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেন আসামি বা বাদী না হলেও ত্ব-হা আদনানসহ তিনজনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করাল পুলিশ। আইনগতভাবে এটা সঠিক কিনা। এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে রংপুরের সিনিয়র আইনজীবী রইছ উদ্দিন বাদশা বলেন, ত্ব-হা আদনান ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই, তারা কেউই মামলার বাদী বা ভিকটিম নয়, ফলে তাদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়ার আইনগত কোন ভিত্তি নেই।

এদিকে একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেছেন, তার বক্তব্যকে সমর্থন করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়ার ঘটনায় আইনের ব্যত্যয় হয়েছে।

কে এই ত্ব-হা

স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩১ বছর বয়সী ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের প্রকৃত নাম আফসানুল আমিন। তাদের আদি বাড়ি রাজশাহীতে হলেও রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ আহলে হাদীস মসজিদ সংলগ্ন নানা বাড়িতেই বেড়ে ওঠা। এখান থেকেই রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে দর্শন বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। কোরআন-হাদীস সম্পর্কে তার পুথিগত কোন জ্ঞান ছিল না। কোনদিন ওই লাইনে পড়াশোনাও করেননি। আহলে হাদীস অনুসারী আদনান রংপুরের জামিয়া সালাফিয়া মাদ্রসার কয়েকজন আলেমের কাছ থেকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে দিক্ষা নিয়েছেন বলে দাবি করতেন। ২০১৮ সালে আলোকিত জ্ঞানী প্রতিযোগিতায় প্রথম রার্নাসআপ হওয়ার পর হঠাৎ তিনি একজন আলেম হিসেবে পরিচয় দেয়া শুরু করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের নামে ফেইসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন। পাবলিক বাসে নারীরা পুরুষদের সঙ্গে অফিসে যাওয়া নিয়ে ব্যাঙ্গ করে ফতোয়া দেন, নারী সহকর্মী পুরুষদের সঙ্গে কথা বললে তারা দাজ্জাল বাহিনীর সদস্য বলে মন্তব্য করেন।

ব্যক্তিগত জীবনেও তার অসততার কথা বলেন বন্ধুরা। তার ঘনিষ্ট বন্ধু মারুফ রহমান ও সাজ্জাদ জানান, প্রথম স্ত্রী হাবিবা নুরের সঙ্গে বিয়ের পর ত্ব-হা আরও বেশ কয়েক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন। দেড় মাস বয়সী ছেলে ও তিন বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে তার। এরপরও ঢাকায় সাকিবুন নাহার সারা নামে এক মহিলাকে বিয়ে করেন তিন মাস আগে প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়েই। সেই মহিলার এর আগে তিনটি বিয়ে হয়েছিল। ছাত্র জীবনে এক মেয়েকে পালিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন বলে তার বন্ধুরা জানিয়েছেন। নিজে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন না বলে জানা গেছে স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে। তার বাসার পাশে আহলে হাদীস সম্প্রদায়ের মসজিদ থাকলেও সেখানে তাকে সব সময় নামাজ আদায় করতে দেখা যায়নি বলে কয়েকজন মুসল্লি জানিয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে আদনানের বাসায় গেলে তার মা আজফা বেগম বের হয়ে এসে জানান, আদনান অসুস্থ কথা বলবেন না।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ