1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সকাল ১০:৩৪ আজ বৃহস্পতিবার, ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি




বামনডাঙ্গা  ষ্টেশনে ঝুঁকি কমানোর অযুহাতে অনুমোদন ছাড়াই শতবর্ষী সরকারি গাছের ডাল কর্তন

  • সংবাদ সময় : শনিবার, ৫ জুন, ২০২১
  • ১২০ বার দেখা হয়েছে

সুন্দরগঞ্জ  প্রতিনিধি:
যাত্রীদের ঝুঁকি কমানোর অযুহাতে বৃটিশকাল থেকে কালের সাক্ষী হয়ে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে থাকা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্চে বামনড্ঙ্গা রেলওয়ে ষ্টেশনে ঐতিহ্যবাহি শতবর্ষী জীবিত রেইনট্রি গাছের ডালপালা কাটছে  হচ্ছে নির্বিঘ্নে। এতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি কিংবা নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না কেউ। ফলে একদিকে যেমন উন্নয়নের নামে প্রকৃতির সুন্দর্য্য ধ্বংস করা হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে পাঁয়তারা চলছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করার।
এলাকাবাসীর দাবি, ডাল কাটার প্রয়োজন হলে কাটবে তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু তা হতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে। যাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটে না যায়। রেলওয়ে লালমনিরহাট বিভাগ সূত্র জানায়, দ্বিতীয় শ্রেনির আধুনিক প্লাটফর্ম নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে। এতে মুল প্লাটফর্মের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ও উঁচু করণের কাজ চলছে। কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি তেতাল্লিশ লক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার আটশত টাকা। কিন্তু নতুন নকশায় নির্মানাধীন স্টেশনটির প্লাটফর্ম উন্নয়নে বাঁধা দেখছে শতবর্ষী রেইন্ট্রি গাছ। তাই যাত্রীদের ঝুঁকি কমাতে সেসব গাছের ডালপালা কেটে ফেলছে কাজের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী। সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভাগীয় অনুমতি না নিয়ে নিজের ক্ষমতা বলে ঐতিহ্যবাহী এসব গাছের ডালপালা কেটে বিক্রির পায়তারা করছেন বামনডাঙ্গার সিনিয়র উপ-সহকারি প্রকৌশলী (ওয়ার্কস) আব্দুর রাজ্জাক। এতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সাথে গোপন আতাত করে গাছের মূল্যবান ডাল গুলো কেটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসির। স্টেশনের পশ্চিমপার্শে বৃটিশ সময় থেকে ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে থাকা এসব মূল্যবান রেইনট্রি গাছ গুলোর ডালপালা কেটে ফেলা হচ্ছে। যদিও রেলওয়ের বিভাগীয় কোন সিদ্ধান্ত বা লিখিত আদেশ দেয়নি কর্তৃপক্ষ। ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্থানীয় সিন্ডিকেটের সাথে জোগসাজশে শতবর্ষী গাছের সাথে এমন নির্মমতা চালাচ্ছে উসহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক। বেশ কয়েকদিন ধরে ৪টি রেইন্ট্রি গাছের মোটা কাঁচা ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছে। সেই সাথে ২টি শিমূল গাছ সম্পূর্ণ কেটে নিয়েছে চক্রটি। স্থানীয়রা আরোও জানান, যে জায়গায় ডালপালার গুড়িগুলো রাখা হয়েছে সেখান থেকে রাতের বেলা বেশকিছু গুড়ি পাচার করাও হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ে বিভাগের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, বামনডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন রেইনট্রি গাছগুলো কাটার জন্য বিভাগীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। সিনিয়র উপ-সহকারি প্রকৌশলী (ওয়ার্কস) আব্দুর রাজ্জাক নিজ দায়িত্বে রেইনট্রি গাছের কাঁচা মোটা ডাল গুলো নির্বিচারে কাটিয়েছেন এবং গাছের মোটা ডালের গুড়ি গুলো তার হেফাজতে রাখছেন। বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ইছমাইল হোসেন মুক্তি জানান, গাছের ডাল কাটার আগে কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি অবশ্য। তবে কাটার পরে ডালগুলো নাম্বারিং করে রাখা আছে। বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান নজমুল হুদা জানান, গাছ বেঁচে থাকে ডালপালায়। সেটি কাটা হলে গাছ বাঁচতে পারে না। আর বেঁচে থাকলেও গাছ তার সৌন্দর্য হারায়। এটা কোনো ভাবেই ঠিক না। তাছাড়া কাটতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে করা উচিত। বামনডাঙ্গার সিনিয়র উপ-সহকারি প্রকৌশলী (ওয়ার্কস) আব্দুর রাজ্জাক জানান, কর্তন করা গাছের ডালপালা একটিও লুটে নেয়ার সুযোগ নেই। সবগুলো নাম্বারিং করা আছে। গাছের ডাল কর্তনের আগে লিখিত অনুমোদনের দরকার হয় না। তবে মৌখিক ভাবে আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি মরা শিমুল গাছ কর্তন করা হয়েছে। সেটিও সংরক্ষণ করা আছে। সংরক্ষণ করা গাছের ডাল ও খড়ি নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান আব্দুর রাজ্জাক। বাংলাদেশ রেলওয়ে লালমনিরহাট বিভাগীয় প্রকৌশলীর মোবাইল ফোনে (০১৭১১৬৯১৬৪৯) একাধিকবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

 

 




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ