1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সকাল ৭:২১ আজ মঙ্গলবার, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি




গেটস-স্ত্রী মেলিন্ডা জীবনের অজানা গল্প

  • সংবাদ সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ মে, ২০২১
  • ৪১ বার দেখা হয়েছে

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের বিল গেটস দাতব্য কাজেও কম যান না। সে কর্মযজ্ঞে সঙ্গী ছিলেন তাঁর স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস। সম্প্রতি তাঁরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের যৌথ জীবনের নানা গল্প তুলে ধরেছেন নাবীল অনুসূর্য

বিল ও মেলিন্ডার পরিচয় ১৯৮৭ সালে। মাইক্রোসফটে। নিউ ইয়র্কে। একটা বিজনেস মিটিংয়ে। সেই থেকে শুরু। তবে সেটা অনেকটা হালকা চালে। মেলিন্ডা তখনো সেখানে নতুন। যোগ দিয়েছিলেন প্রডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে। একদিন বিল তাঁকে প্রস্তাব দিয়ে বসেন, দুজনে কোথাও বসলে মন্দ হয় না!

প্রথমবার বিলকে ‘না’ করে দিয়েছিলেন মেলিন্ডা! তাঁর মনে হয়েছিল, ব্যাপারটা সপ্তাহ দুয়েকের বেশি এগোবে না। বলে দেন বিল নাকি যথেষ্ট ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ নন। কিন্তু হাল ছাড়েননি বিল। ঘণ্টাখানেক পরে আবারও ফোন করেন। বলেন, আজ রাতেই যাওয়া যাক। সঙ্গে জুড়ে দেন টিপ্পনী, ‘ব্যাপারটা যথেষ্ট স্বতঃস্ফূর্ত হবে না?’

বছর দুই আগেও ঘটনাটা নিয়ে মজা করেছিলেন মেলিন্ডা। ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, ‘সময়ের সঙ্গে বিল আরো বেশি স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে উঠছে।’

অতঃপর পরিণয়

দুজনে সুন্দর সময় কাটাচ্ছিলেন। উপভোগ করছিলেন পারস্পরিক সঙ্গ। তবে ব্যাপারটা যে পরিণয়ের পথে এগিয়ে যাবে সেটা ভাবেননি দুজনের কেউ। ‘মেলিন্ডার আরো কয়েকজন ছেলেবন্ধু ছিল। আর আমার ছিল মাইক্রোসফট। সব মিলিয়ে তখন ভাবতেই পারিনি আমরা এতটা গভীর প্রেমে পড়ে যাব। দুজনে দুজনার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ব,’ বলেন বিল।

কিন্তু বছর না ঘুরতেই সেটাই ঘটল। ‘আমরা দুজনেই খুব অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। একটা ঘোরের মধ্যে থেকেই যেন দুজনে দুজনকে ভালোবাসি বলে ফেললাম,’ বলেন মেলিন্ডা।

সাবেক প্রেমিকায় উদ্ধার

তারপর বেশ কিছু বছর কেটে গেল। চুটিয়ে প্রেম করছিলেন দুজনে। ‘একটা পর্যায়ে মনে হলো, আমাদের সামনে স্রেফ দুটি পথ খোলা আছে। হয় আমাদের বিয়ে করতে হবে, নইলে সম্পর্কটা চুকিয়ে দিতে হবে,’ বলেন বিল।

আসলে সমস্যাটা বিল বা মেলিন্ডাকে নিয়ে ছিল না। তাঁদের দুজনের পারস্পরিক বোঝাপড়া ছিল দুর্দান্ত। সমস্যা ছিল অন্যত্র। বিল তাঁর মা-বাবাকে দেখেছেন। তাঁদের পেশাদার জীবন ও পারিবারিক জীবনে ছিল দারুণ ভারসাম্য। কিন্তু নিজেকে নিয়ে ছিল সন্দেহ। ‘ওর দ্বিধাটা ছিল—বিয়ের পরে ও সংসারে যথেষ্ট সময় দিতে পারবে কি না তা নিয়ে। কারণ মাইক্রোসফটে ও প্রচুর সময় দিত,’ বলেন মেলিন্ডা।

সিদ্ধান্ত নিতে এমনকি সাবেক প্রেমিকারও শরণাপন্ন হয়েছিলেন বিল। অ্যান উইনব্লাড। আরেক ধনকুবের ব্যবসায়ী। তিনি রায় দেন বিয়ের পক্ষে। ‘আমার মনে হয়েছিল বিল ও মেলিন্ডা দুজনে দুজনার জন্য উপযুক্ত। বিলকে বোঝা এবং তাঁর সঙ্গে জীবন ভাগাভাগি করার মতো বুদ্ধি ও মনোবল মেলিন্ডার ভালোই আছে,’ বলেন উইনব্লাড।

হাওয়াই বিয়ে

তারপর একদিন সিদ্ধান্তটা নিয়েই নেন বিল। সেটাও বেশ নাটকীয়ভাবে। একদিন মেলিন্ডা বিলের ঘরে ঢুকেই দেখেন তিনি হোয়াইট বোর্ডে তালিকা করছেন। তাঁদের বিয়েতে কী কী হবে! একেবারে খুঁটিনাটিসমেত। এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে যতবার বলেছেন মেলিন্ডা, ততবারই হাসিতে ফেটে পড়েছেন।

পুরো ব্যাপারটা তাঁর কাছে এসেছিল বিশাল চমক হয়ে। শুরুতে বিয়ে তো দূরের কথা, বিলের সঙ্গে প্রেমের কথাও ভাবতে পারেননি তিনি। ‘আমি যখন প্রথম সিয়াটলে এলাম, মাইক্রোসফটে যোগ দিলাম, জানতাম বিলের সঙ্গে দেখা হবে। কারণ তখনো মাইক্রোসফট ছোট একটা কম্পানি। সবাই সবাইকে চেনে। কিন্তু ওর সঙ্গে প্রেম হয়ে যাবে, সেটা ভাবতেও পারিনি। বিয়ে তো কল্পনায়ই ছিল না! এমনকি প্রেমের শুরুতেও সেটা আমার চিন্তায়ও আসেনি,’ বলেন মেলিন্ডা।

তাঁরা বিয়ে করেন ১৯৯৪ সালের প্রথম দিনে, ১ জানুয়ারি। হাওয়াইয়ের লানাই দ্বীপে। ডেস্টিনেশন ওয়েডিং। তখন বিলের বয়স ছিল ৩৮। আর মেলিন্ডার ২৯। এর দুই বছরের মাথায় তাঁদের প্রথম সন্তানের জন্ম। জেনিফার ক্যাথরিন। রোরি জনের জন্ম ১৯৯৯ সালে। আর ফিবি অ্যাডেলের ২০০২ সালে।

 

সাম্যের সংসার

জেনিফারের জন্মের দুই বছরের মাথায় চাকরি ছেড়ে দেন মেলিন্ডা। তত দিনে তিনি জেনারেল ম্যানেজার হয়ে গিয়েছিলেন। এমন সিদ্ধান্তে ভীষণ অবাক হয়েছিলেন বিল। ‘সত্যিই ও খুব অবাক হয়েছিল। কিন্তু আমি চাইনি আমাদের সন্তানকে অন্য কেউ মানুষ করুক,’ বলেন মেলিন্ডা।

তাই বলে তাঁরা ঘরের কাজ, বাইরের কাজ আলাদা করে ফেলেননি। বিল সব সময়ই বাড়ির কাজে মেলিন্ডাকে সহায়তা করেছেন। ‘ব্যাপারটা আসলে অংশীদারির। বাড়িটা যে আমরা দুজনে মিলে চালাচ্ছি সে অনুভূতিটা যেন বজায় থাকে,’ যোগ করেন মেলিন্ডা। সেটা নিশ্চিত করতে ঘরের সব কাজই দুজনে ভাগাভাগি করে করতেন তাঁরা। সেটা জানান বিল নিজেই। এবং তা যে উপভোগও করতেন বলেন সেটাও। ‘আমি প্রতিদিন রাতে বাসন মাজি। অনেকে এটা করে বাড়ির কাজে সাহায্য করতে। আমি করি, কারণ এগুলো করতে আমার ভালো লাগে।’

 

বোঝাপড়ার বিচ্ছেদ

সারা জীবনের মতো তাঁরা শেষটাও করলেন দুজনে মিলে। অনেকটা আকস্মিকভাবেই। বছর দুই আগেই লেখক হিসেবে হাতেখড়ি হয় মেলিন্ডার। ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয় ‘দ্য মোমেন্ট অব লাইফ : হাও এম্পাওয়ারিং ওমেন চেঞ্জস দ্য ওয়ার্ল্ড’। তাঁর প্রচারণার সময়ও বিবাহিত জীবন নিয়ে ইতিবাচক কথাই বলেছিলেন মেলিন্ডা, ‘আমি সব সময়ই বিলের কথা বোঝার চেষ্টা করি। বিলও আমার কথা খুবই মনোযোগ দিয়ে শোনে। মাঝে মাঝে মতের অমিল হয়। তখন একে অপরকে প্রশ্ন করি। তা যত কঠিনই হোক।’

তবে এবার বোধ হয় প্রশ্নগুলো বেশিই কঠিন হয়ে গিয়েছিল। তাই ইতি টেনেছেন ২৭ বছরের সম্পর্কের। আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের আবেদন করেছেন মেলিন্ডা। তাতে লিখেছেন, ‘আকস্মিকভাবেই ভেঙে পড়েছে আমাদের সম্পর্ক।’ সে খবর জানিয়ে টুইট করেছেন বিল। গত ৩ মে। তাতে অবশ্য ছিল দুজনেরই নাম। আর সেখানেও আছে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধাবোধের ছাপ। তাঁরা লিখেছেন, ‘জীবনের পরের পর্যায়ে জুটি হিসেবে আমরা নতুন আর কিছু করতে পারব বলে মনে হয় না। এটা নিয়ে আমরা অনেক ভেবেছি, অনেক কাজ করেছি। শেষ পর্যন্ত ঠিক করেছি দুজনে আলাদাভাবে নতুন জীবন শুরু করার।’

সম্পত্তির ব্যাপারে বিয়ের আগে তাঁরা কোনো চুক্তি করেননি। কাজেই কিভাবে ভাগ হবে সেটা ঠিক করবেন এখন। তবে একটি ব্যাপারে এরই মধ্যে একমত হয়ে গেছেন। কোনো পরিবর্তন আসবে না বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনে। তার মাধ্যমে দাতব্য কাজ চালিয়ে যাবেন দুজনেই। ব্যক্তিজীবনে আলাদা হয়ে গেলেও এখানে থাকবেন একসঙ্গেই।

তথ্যসূত্র : পিপল, সিএনবিসি, ইউএস ম্যাগাজিন




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ