1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ১০:৫৩ আজ শুক্রবার, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি




ভয়াবহ ঘুর্নঝড় সিডর দুঃসহ স্মৃতি

  • সংবাদ সময় : শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩৫ বার দেখা হয়েছে

১৫ নভেম্বর, ২০০৭ সালের এ রাতে শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াল সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চল লন্ড-ভণ্ড করে দিয়েছিল। উপকূলীয় অঞ্চলের শত-শত মানুষের জীবন প্রদীপ নিভে যায়। এখনো নিখোঁজ রয়েছে বহু মানুষ। মারা গিয়েছিল হাজার হাজার গবাদি পশু। আগের দিনও যে জনপদ ছিল মানুষের কোলাহলে মুখরিত, মাঠ জুড়ে ছিল কাঁচা-পাকা সোনালি ধানের সমারোহ, পরের দিনই সেই চির চেনা জনপথ পালটে যায়।

এদিন বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপে সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। নিম্নচাপটি কয়েক বার গতি পরিবর্তন করে মধ্যরাতে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে। রাতে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা উপকূলীয় অঞ্চলে। ঝড়ের তীব্রতা কমে যাওয়ার পর শুরু হয় স্বজনদের খোঁজাখুঁজি। কারও বাবা নেই, কারও মা নেই।

আবার কারও নেই স্ত্রী, পুত্র কন্যা, ভাই-বোন , দাদা-দাদী, নানা-নানী, মামা-মামী, খালা-খালু, চাচা-চাচি, গাছের ডালে কিংবা বাড়ি ঘরের খুঁটির সঙ্গে ঝুলে আছে স্বজনদের লাশ। যে দিকে দৃষ্টি যায় শুধু লাশ আর লাশ। উপকূলের বাতাসে কানপাতলেই মৃত্যু পথযাত্রি শত মানুষের চিৎকার আর স্বজনদের আহাজারি। ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি আজও জেগে আছে স্বজনহারাদের মাঝে। দুঃস্বপ্নের মত আজও তাড়া করে I

২০০৭ সালের এই দিনে ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড় ‘সিডর’ আঘাত হানে বরিশাল, বরগুনাসহ দেশের উপকূলীয় এলাকায়।

যা ছিল উপকূলে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত।প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে মুহূর্তের মধ্যেই উপকূলীয় জনপথগুলো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি, মাঠ-ঘাট এমনকি গাছের সঙ্গে ঝুলে ছিল শত শত মানুষের লাশ। দুর্যোগের সেদিনে গৃহহীন হয় লাখ লাখ মানুষ।

দশটি বছর পেরিয়ে গেলেও সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সহায়সম্বল ও স্বজন হারানো মানুষগুলো ফিরে যেতে পারেননি তাদের স্বাভাবিক জীবনে। এখনও খোলা আকাশের নিচে বাস করছে সেদিনের মহা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক মানুষ। এখনও সংস্কার হয়নি বিধ্বস্ত অনেক সড়ক, বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র।

বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার ৬ দিন আগে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে এই ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি। ৯ নভেম্বরে উৎপত্তি হলেও ভয়াবহ রূপটির আভাস পাওয়া যায় ১১ নভেম্বর। পরদিনই এটি ঘূর্ণিঝড় সিডর-এ রূপ নেয়। ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করে স্মরণকালের ভয়াবহ এক মহা দুর্যোগ।

সেদিন যারা সিডরের ভয়ঙ্কর রূপটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন তাদের বক্তব্য এরকম- সিডর চূড়ান্ত আঘাত হানার আগের দিন অর্থাৎ ১৪ নভেম্বর সারা দেশের আকাশ ছিল মেঘলা। আবহাওয়া অফিস প্রথমে ৫ নম্বর সংকেত দিতে থাকেন। রাতেই তা ৮ নম্বর বিপদ সংকেতে পৌঁছে। ১৫ নভেম্বর সকালে ঘোষণা হয় ‘সিডর’ নামের ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে বাংলাদেশের উপকূলে। দুপুর নাগাদ তা বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করবে। ‘১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত।’

মুহূর্তে উপকূলের মানুষ যেন আরো মহা বিপদের মুখোমুখি হয়ে যায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে তারা । দমকা হাওয়া বইতে থাকে।সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি । কিছু মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পারলেও বেশির ভাগ মানুষ থেকে যায় নিজ বাড়িতে। রাত ১০ টার দিকে প্রবল বাতাসের সঙ্গে যুক্ত হল জলোচ্ছ্বাস। সিডর চূড়ান্ত আঘাত হানে । রাত ১০টার পরই মূলত ঘূর্নিঝড় সিডর উপকূলীয় এলাকার পাথরঘাটা ,সাউথখালী ও দুবলারচরে আঘাত হানে। এ সময়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার। যা দমকা হাওয়া আকারে আরো বৃদ্ধি পেয়েছিল। তার সঙ্গে ছিল ২০ থেকে ২৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস। ঝড়ের ব্যাসার্ধ ছিল ৭৪ কিলোমিটার, যা মুহূর্তের মধ্যে বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ভোলা, লক্ষ্মীপুরে বিস্তৃত হয়। নিমেষেই যেন উড়ে গেল-

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার কে এম রেজাউল করিম




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ