1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় বিকাল ৩:০৮ আজ শুক্রবার, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি




মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সমাজসেবী ডাঃ মফিজার রহমান

  • সংবাদ সময় : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০
  • ৬২ বার দেখা হয়েছে

জ হুরুল কাইয়ুম:
সমাজসেবী ও রাজনীতিক হিসেবে গাইবান্ধার সর্বমহলে পরিচিত ডা: মফিজার রহমান ১৯১৪ সালের ৩০ মার্চ গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পদুমশহর ইউনিয়নের মিয়া বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল কুদ্দুস মিয়া ছিলেন পদুমশহর ইউনিয়নের পঞ্চায়েত প্রেসিডেন্ট। মাতা কছিরুননেছা ছিলেন বিচক্ষণ ও স্বাধীনচেতা। একটি রাজনীতি সচেতন, অসা¤প্রদায়িক ও প্রগতিশীল পারিবারিক আবহে বেড়ে ওঠেন মফিজার রহমান। কুদ্দুস মিয়ার ৭ পুত্র ও ৪ কন্যার মধ্যে ৬ষ্ঠ পুত্র ডা: মফিজার রহমান ১৯৪৮ সালে বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলার এক উদার ও সমাজসচেতন পরিবারের মেয়ে সৈয়দা রাবেয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। তাঁদের ৬ পুত্র এবং ৪ কন্যার মধ্যে এক পুত্রের অকাল মৃত্যু হলেও অন্যরা শিক্ষিত হয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

মফিজার রহমানের লেখাপড়া শুরু হয় গাইবান্ধা শহরে। স্কুল জীবনে ফুটবল খেলার প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়লে মায়ের নির্দেশে বড় ভাই আজিজুর রহমান মফিজার রহমানকে কোলকাতায় নিয়ে গিয়ে রিপন কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি করে দেন। তিনি ঐ স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে কোলকাতা ক্যাম্বেল সরকারী মেডিকেল স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালের পর তিনি ঢাকায় এসে মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে ডাঃ মফিজার রহমান গাইবান্ধায় ফিরে চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

কলকাতায় পড়াশোনা করার সময় মফিজার রহমান নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।তিনি সহকারী গ্রুপ কমান্ডার এবং মুক্তিসেনা গ্রুপের সদস্য হিসেবে প্রতক্ষভাবে হলওয়েল মুভমেন্টে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ঐ সময় হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী, আবুল হাশেম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখের সান্নিধ্যে আসেন। সােহরাওয়ার্দী মেডিকেল মিশনের নেতা হিসেবে তিন মাস বিহারের উপদ্রুত অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।মফিজার রহমান ক্যাম্বেল মেডিকেল স্কুল ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক (১৯৪২-৪৬), কোলকাতা সিটি মুসলিম ছাত্রলীগের সম্পাদক এবং সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্রলীগের সহ সভাপতির (১৯৪২-৪৭) দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সমগ্র বাংলাভিত্তিক মুসলিম চিকিৎসক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ঢাকা ফিরে মফিজার রহমান পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের পুনর্জাগরণে নেতৃত্ব দেন। তিনি ঢাকা মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের (১৯৪৭-৪৮) প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি শেখ মুজিবের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠিত হয়। রাজশাহীর নঈম উদ্দিন আহমেদকে আহবায়ক করে গঠিত প্রথম আহবায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন- ফরিদপুরের শেখ মুজিবুর রহমান, পিরােজপুরের দবিরুল ইসলাম, কুমিল­ার অলি আহাদ, বরিশালের আব্দুর রহমান চৌধুরী, পাবনার আব্দুল মতিন, রংপুরের মফিজার রহমান, নােয়াখালীর আজিজ আহমেদ, কুষ্টিয়ার আব্দুল আজিজ, ঢাকার নওয়াব আলী, ময়মনসিংহের সৈয়দ নুরুল আলম, ঢাকা সিটির নুরুল কবির, খুলনার শেখ আব্দুল আজিজ এবং চট্রগ্রামের আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী। ১৯৫৩ সালে মফিজার রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং আজীবন এই দলের সাথেই যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৬৬-৬৯ সালে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এবং বিভিন্ন সময়ে গাইবান্ধা শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭০ সালে ডাঃ মফিজার রহমান গাইবান্ধার সাঘাটা-ফুলছড়ি এলাকা থেকে বিপুল ভােটে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং একাত্তরে গঠিত মহকুমা সংগ্রাম কমিটির সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি আসামের কাকড়িপাড়া মুক্তিযােদ্ধা যুব ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মুজিব নগর সরকারের উত্তরাঞ্চলীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটির আহবায়ক, রৌমারি সেক্টরের বেসরকারি
গোয়েন্দা শাখার প্রতিষ্ঠাতা প্রধান, গাইবান্ধার পূর্বাঞ্চলীয় গেরিলা বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান, উত্তরাঞ্চলের জন্য গঠিত রেডক্রস সােসাইটির চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ডাঃ মফিজার রহমান তাঁর নির্বাচনী এলাকা সাঘাটা-ফুলছড়ির পূনর্বাসন ও পূনর্গঠনে কঠোর পরিশ্রম করেন। বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

রাজনীতির বাইরে ডাঃ মফিজার রহমান ক্রীড়াক্ষেত্রে এবং সামাজিক কর্মকান্ডেও বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ছাত্র জীবনে তিনি কোলকাতা মােহামেডান স্পাের্টিং ক্লাব, এরিয়ান্স ক্লাব এবং কালিঘাটা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষে ফুটবল খেলার সুযােগ লাভ করেন। গাইবান্ধা মহকুমা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক (১৯৬৬) এবং গাইবান্ধা ষ্টেডিয়াম ট্রাষ্টি বাের্ডের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন তিনি। সমাজসেবামূলক নানা সংস্থার সাথেও যুক্ত ছিলেন। মফিজার
রহমান মহকুমা রেডক্রস সােসাইটির সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক, ভাইস চেয়ারম্যান, গাইবান্ধা সমাজকল্যাণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, রংপুর জেলা সমবায় শিল্প ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি এব্ং নর্দান লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান (১৯৬৭-৭৩) ছিলেন। শিক্ষানুরাগী ডা: মফিজার রহমান গাইবান্ধা মহিলা কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, গাইবান্ধা কলেজ, ইসলামিয়া হাই স্কুল, মডার্ণ হাই স্কুল, কন্ঞ্চিপাড়া হাই স্কুল, গাইবান্ধা সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
পরিচালনা কমিটির সাথে যুক্ত ছিলেন। ডা: মফিজার রহমান সাংস্কৃতিক সংগঠন সুরবাণী সংসদ এবং নাট্য সংগঠন মেঘদূত প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপুর্ণ অবদান রাখেন।

ডা: মফিজার রহমান ১৯৮০ সালের ১৭ অক্টোবর ৬৫ বৎসর বয়সে গাইবান্ধা শহরের মাষ্টারপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে গাইবান্ধা পৌর গােরস্থানে সমাহিত করা হয়।

জহুরুল কাইয়ুম, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ