1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সকাল ৭:৪১ আজ মঙ্গলবার, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি




বৃটেনে সফল দুই বিলিয়নিয়ার ভাইয়ের কাহিনী

  • সংবাদ সময় : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ১০৫ বার দেখা হয়েছে

জুবের ইশা (৪৮) ও মোহসিন ইশা (৪৯)। দুই ভাই। এখন বৃটেনের বিলিয়নিয়ার দুই ভাই হিসেবে পরিচিত তারা। অথচ, একটিমাত্র পেট্রোল স্টেশন দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এখন তারা কমপক্ষে ৫২০০ পেট্রোল স্টেশনের মালিক। এর বেশির ভাগই ইউরোপে এবং যুক্তরাষ্ট্রে। এসব পরিচালনার জন্য তারা প্রতিষ্ঠা করেছেন ইজি গ্রুপ। এই গ্রুপে কাজ করেন কমপক্ষে ৩৩ হাজার মানুষ।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্টের কাছ থেকে তারা কিনে নিয়েছেন বৃটেনে সুপার মার্কেট জায়ান্ট হিসেবে পরিচিত ‘আসদা’কে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এতে বলা হয়, এই দুই ভাই ২০০১ সালে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বারি এলাকায় একটি মাত্র পেট্রোল স্টেশন দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। জাদুর মতো সফলতা আসতে থাকে তাতে। দ্রুত তারা একের পর এক পেট্রোল স্টেশন দিতে থাকেন। ফলে পেট্রোল রিটেইলার এসোসিয়েশনের (পিআরএ) চেয়ারম্যান ব্রায়ান ম্যাডারসন তাদেরকে বিস্ময়কর উদ্যোক্তা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উল্লেখ্য, পিআরএ’র একটি সদস্য ইজি গ্রুপ। মুলত হাই স্ট্রিট পেট্রোল আউটলেটগুলো উৎপাদন ও পরিশোধনের দিকে মনোনিবেশ করায় তারা জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়। না হয়, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। এই ফাঁকে এই দুই ভাই এগিয়ে যান সামনে। ওদিকে আসদা সহ সুপারমার্কেটগুলো তাদের পেট্রোল স্টেশন স্থাপন করে ক্রেতাদের সুবিধা দিতে থাকে। কিন্তু ইশা ভাইয়েরা তাদের পেট্রোল স্টেশনে আরো বেশি সেবা দেয়ার দিকে নজর দেন। ম্যাডারসন বলেন, এর ফলে তাদের সামনে এক অপার সুযোগ সৃষ্টি হয়। মোটর চালকরা বিভিন্ন রকম পানীয় ও গাম কিনতেন দশকের পর দশক ধরে। এখন তাদেরকে দেয়া হয় ফাস্ট ফুড, কফি এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। ইশা ভাইেেদর সর্বশেষ স্টেশন হলো তাদের বসবাসের স্থান ব্লাকবার্নের কাছে। এই স্টেশনটি চার একর জায়গার ওপর। সেখানে আছে কেএফসি, স্টারবাকস এবং গ্রেগস। আছে একটি স্পার স্টোর। আছে বিপি ব্রান্ডের পেট্রোল স্টেশন এবং ইলেকট্রিক চার্জিংয়ের স্থান।
এসব ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা এই দুই ভাইকে মৃদুভাষী ও উদার বলে আখ্যায়িত করেছেন। কয়েক বছর আগে পুরস্কার বিতরণের এক অনুষ্ঠানে এই দুই ভাই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মঞ্চে গিয়ে তারা পুরস্কার নিতে খুব লজ্জা পাচ্ছিলেন। কোম্পানির শতকরা ৫০ ভাগের মালিক এই দুই ভাই। তারা এর সমান অংশীদার। কোম্পানির বাকি অর্ধেকের মালিক টিডিআর ক্যাপিটাল। তারা ডেভিড লয়েড জিমেরও মালিক। এই প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে ৮০০ কোটি ইউরো। সানডে টাইমস এই দুই ভাইয়ের সম্পদের পরিমাণ ৩৫৬ কোটি পাউন্ড বলে জানিয়েছে। তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত দাতব্য সংস্থায় প্রতি বছর সম্পদের শতকরা ২.৫ ভাগ দান করেন। এই দাতব্য সংস্থা থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ বৃটেনে ও বিদেশে দাতব্য সংস্থায় বিতরণ করে। ২০১৯ সালে এ খাতে দুই ভাই দান করেছেন দুই কোটি পাউন্ড। নিজেদের শহরে তারা কিনেছেন আটটি বাড়ি। তা ভেঙে সেখানে তৈরি করছেন ৫টি ম্যানসন। ২০১৭ সালে তারা লন্ডনের আপমার্কেট হিসেবে পরিচিত নাইটসব্রিজে ২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড দিয়ে কিনেছেন একটি বাড়ি। আর এবার আসদা কেনার ক্ষেত্রে বিশাল অংকের অর্থ এসেছে তাদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে। এমনটা বিশ্বাস করেন রিটেইল বিশ্লেষক রিচার্ড হাইম্যান।
বৃটেনে ইজি গ্রুপের আছে ৩৮৬টি পেট্রোল স্টেশন। এর ফলে মোটর ফুয়েলস গ্রুপের পরেই দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ নিরপেক্ষ পেট্রোল রিটেইলার হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে ইজি গ্রুপ। পিআরএ’র তথ্যমতে, মোটর ফুয়েলস গ্রুপের রয়েছে ৯ শতাধিক স্টেশন। বৃটেনে এ রকম প্রায় ৮৩৫০টি স্থান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০০টি পরিচালনা করে সুপারমার্কেট। অন্য ১৫০০টির মালিক শেল এবং বিপি’র মতো বৃহৎ তেল বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। বাকিগুলোর মালিক ব্যক্তিবিশেষ।
২০১৯ সালে ইজি গ্রুপ মোট বিক্রি করেছে ২০০০ কোটি ইউরো বা ১৮০০ কোটি পাউন্ডের জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য। আগের বছর তাদের এই বিক্রি ছিল ১২০০ কোটি ইউরো। ২০১৯ সালে শুধু ১৬০০ ইউরো বিক্রি হয়েছে জ্বালানি। অন্যান্য পণ্য বিক্রি হয়েছে এর পাশাপাশি।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ