1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় দুপুর ১:৩০ আজ সোমবার, ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি




ইউক্যালিপটাস: বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে এই গাছের বিস্তার নিয়ে এত উদ্বেগ কেন?

  • সংবাদ সময় : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১২৭ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশের একটি সংসদীয় কমিটি উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে ক্রমশ বাড়তে থাকা ইউক্যালিপটাস গাছের জায়গায় প্রচলিত ফলজ গাছ রোপণের পরামর্শ দিয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ইউক্যালিপটাস গাছের জায়গায় কাঁঠাল, জাম, নিম বা এ ধরণের গাছ রোপণের পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু ইউক্যালিপটাসের রোপণ নিষিদ্ধ করার পরেও গাছটির বিস্তার সেখানে বাড়ছে।

ওই কমিটির সদস্য গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলছেন সরকারের মুজিববর্ষ পালনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলছে।

“এ আলোচনার সময় কৃষিমন্ত্রী নিজেই ইউক্যালিপটাস গাছ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন। জনস্বার্থে ও পরিবেশ বিবেচনায় ক্ষতিকর গাছের জায়গায় ফলজ, বনজ ও ভেষজ বৃক্ষ রোপণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানান। তখন সদস্যরা সবাই এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

তিনি বলেন তবে গাছ অপসারণ নিয়ে কোনো ইস্যু যাাতে তৈরি না হয় সেজন্য মানুষকে সম্পৃক্ত করে এসব কর্মসূচির পরামর্শ দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়কে।

পরে সংসদীয় কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এলাকায় ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে কাঁঠাল, জাম ও নিম গাছ রোপণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এতো ইউক্যালিপটাস কীভাবে এলো উত্তরবঙ্গে

উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ইউক্যালিপটাসের সংখ্যা কত বা এগুলোর প্রভাবে কী হচ্ছে তার কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণার কথা সরকারের বন বিভাগ বা পরিবেশ বিভাগ বলতে পারেনি।

তবে দু বিভাগই স্বীকার করছে যে উত্তরাঞ্চলে এই গাছ ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান এবং এর কারণ হলো এক সময় সরকারি কর্মসূচি বিশেষ করে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতাতেই ইউক্যালিপটাস গাছ ওই অঞ্চলে রোপণ করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন মূলত আশির দশকে সরকারিভাবে ইউক্যালিপটাস, আকাশমনি ও পাইনের মতো বিদেশী গাছগুলো বাংলাদেশে আনা হয় এবং বিনামূল্যে বিতরণও করা হয় নানা প্রজেক্টের আওতায়।

পরে ২০০৮ সালে এক প্রজ্ঞাপনে ইউক্যালিপটাসের চারা উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় এবং এরপর বনবিভাগও এর উৎপাদন বন্ধ করার নীতি গ্রহণ করে।

রংপুরের সামাজিক বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক কাশ্যপী বিকাশ চন্দ্র বলছেন আগে থেকেই ওই এলাকায় ইউক্যালিপটাসের প্রাধান্য রয়েছে।

“এখন বনবিভাগ এ গাছটি রোপণ করে না। বরং নিষিদ্ধ করেছি আমরা। কিন্তু অনেক আগে সামাজিক বনায়নের অংশ হিসেবে প্রতি কিলোমিটারে এক হাজার চারা রোপণ করা হয়েছিলো এবং প্রতি কিলোমিটারে সুবিধাভোগী ছিলো ৫ জন। এদের জন্য দ্রুত অর্থনৈতিক লাভ আসে এমন গাছের চিন্তা থেকে তখন এটা করা হয়েছিলো।”

তিনি বলেন পরে বিষয়টি ব্যক্তি উদ্যোগে শুরু হয় এবং পুরো অঞ্চল-জুড়ে বহু মানুষ নিজের জমিতেও ইউক্যালিপটাস রোপণ করেন।

“নীলফামারীতে তিস্তার অববাহিকা বালুময় এলাকা। আবার ঢাকা, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে এ গাছের কাঠের চাহিদা অনেক। ফলে ব্যক্তি উদ্যোগে যারা এটি রোপণ করেছেন তারা দেখেছেন ১০/১২ বছরে ভালো লাভ পাওয়া যাচ্ছে। এটিও এর বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ