1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় দুপুর ২:১৫ আজ শুক্রবার, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি




গাইবান্ধার লাল-সবুজ সিঁড়ির সেই স্কুল, ভিন্নভাবে উপস্থাপন নিয়ে বিব্রত সংশ্লিষ্টরা

  • সংবাদ সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪৭০ বার দেখা হয়েছে

জাভেদ হোসেন:
আঁকানোর (নকশা) কাজ শেষ হওয়ার আগেই জোড় করে কয়েকজন সাংবাদিক ছবি তুলেছেন গাইবান্ধার সেই স্কুলের লাল সবুজ সিঁড়ির। অসৎ উদ্দেশ্যে ও সম্পুর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সংবাদ পরিবেশ করে হয়রানি করা হচ্ছে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারকে। শুধু তাই নয়, পত্রিকায় প্রধান শিক্ষকের মোবাইল নম্বর প্রকাশ করায় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ওই নারী প্রধান শিক্ষককে নানাভাবে হয়রানী করছেন। এতে ওই নারী প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

জাতীয় পতাকার রং অনুসরণ করে গাইবান্ধার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিঁড়ি রং করার ঘটনার নিউজের ভিত্তিতে গতকাল স্কুলটি পরিদর্শন করেছেন কয়েকজন সাংবাদিক।
মাঝে লাল ও দুই পাশে সবুজ রঙের কথা নিউজে উলে­খ থাকলেও আমরা দেখতে পাই ভিন্ন রং। যা মাঝখানে লাল থাকলেও দুই পাশে হলুদ । এবং তাতে কিছু আল্পনা সিঁড়িটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

কথা হয় স্থানীয় লোকজনের সাথে। কিন্তু তাদের মাঝে স্কুলের সেই রং নিয়ে নেই কোন ক্ষোভ। তাদের কথায় প্রথমে এই রং মাঝে লাল ও দুই পাশে সবুজ থাকলেও তখন কাজটি ছিলো চলমান। সেই চলমান কাজটির ছবি ধারন করে সাংবাদিকরা তা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মিডিয়ার সামনে নিয়ে আসেন। তারা বলেন জাতীয় পতাকার অবমাননা নয়, সিঁড়িতে সেই রংটি ছিলো আস্তর রং। সেই সবুজ আস্তর রং-এর উপর হলুদ রং দিয়ে সাথে আল্পনা আঁকিয়ে সিড়িটির সৌন্দর্যবর্ধনই ছিলো চিত্র শিল্পির মুল উদ্দেশ্য।

এ ব্যাপারে চিত্র শিল্পি সাদ্দাম মুঠোফোনে বলেন, আমি প্রায়ই স্কুলের চিত্র বা রং-এর কাজ করে থাকি। প্রতিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকগন আমাকেই সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার দায়িত্ব দিয়ে থাকেন। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে হলুদ লাল রং-এর কথা বললেও আমি নিজ থেকে সিঁড়িতে লাল সবুজের লম্বা দাগ আস্তর আঁকি এবং তা শুকানোর জন্য চা পান করতে যাই। ঠিক ওই সময় স্কুলের জায়গা দখল করাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হলে তারা সেই সিঁড়ির রং (যা ছিলো রং-এর আস্তর) দেখে ছবি তোলেন। যদিও আমি তাদেরকে মুঠোফোনে বলি এই রং-এর কাজ এখনও শেষ হয়নি এটা শুধু আস্তর পরে সবুজের উপর নির্ধারিত হলুদ রং করা হবে। তথাপি তারা আমার কথা উপেক্ষা করে ছবি তোলেন। আমি বিষয়টি সাথে সাথে প্রধান শিক্ষককে মুঠোফোনে জানালে তিনি তার উউর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আমাকে রং পরিবর্তনের কথা বলেন এবং আমি কিছুক্ষন পরে প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কমিটির সভাপতির উপস্থিতিতে সে রং পরিবর্তন করি।

স্কুল কমিটির সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম জাকির মুঠোফোনে বলেন, নিউজের ব্যাপারটি একেবারে অনাকাংখিত। এখানে প্রধান শিক্ষক এই লাল সবুজ রং-এর জন্য কোনভাবেই দায়ী নন। প্রধান শিক্ষক ব্যাপারটি আমাকেও জানিয়েছেন এবং আমি নিজে তার সাথে থেকে চিত্র শিল্পি দ্বারা রং পরিবর্তন করে নিই। স্থানীয় লোকের এ ব্যাপারে কোন ক্ষোভ নেই বা ছিলোও না।

স্কুলটি ঘুরে দেখা যায়, চিত্রশিল্পি কেবল বিদ্যালয়টি রং করেননি। রং-এর সাথে নান্দনিক সব চিত্র স্কুলের মাঠসহ বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর করে তুলেছে। নান্দনিক সাজের আবেদন যেন ঘর থেকে ডেকে নিয়ে আনতে চাচ্ছে কোমলমতি শিশুদের।

আর উদ্যোগটি নিয়েছেন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গাইবান্ধা সদর উপজেলার মালিবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর গিদারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক নাদিরা মাহমুদ ।

করোনাকালীন ছুটির পর এই নতুন পরিবেশে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আগের চেয়ে আরও বেশি মনোযোগী হয়ে উঠবে পড়ালেখার প্রতি। এবং শিক্ষার্থী উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।

স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার মালিবাড়ী ক্লাষ্টারের ১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। গত মে মাসে পিইডিপি-৩ ও স্লিপ প্রকল্পের ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকার বিভিন্ন সংস্কার কাজ করার জন্য ৭টি স্কুলকে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাকী স্কুলগুলোকেও পর্যায়ক্রমে তা দেওয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে ওই রঙের কাজ করান প্রধান শিক্ষক। এতে বিদ্যালয় ভবন নতুনভাবে রং ও মেরামত করার পাশাপাশি ভবনের বিভিন্ন অংশে চিত্র ও বর্ণ সৃজনসহ সিঁড়িতে আল্পনার কাজ করা হয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক নাদিরা মাহমুদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। সিঁড়ির রং পূর্ব নির্ধারিত লাল হলুদ থাকলেও আমি স্কুল সংক্রান্ত কাজে ও স্কুলের জায়গা সংক্রান্ত ব্যাপারে অফিসে থাকার কারনে সেভাবে রং-এর কাজটি তদারকি করতে পারিনি। চিত্রশিল্পিকে বলা সত্বেও কেন সে হলুদের পরিবর্তে সবুজ রং ব্যবহার করলো তা আমি বুঝতে পারলাম না। তবে ঘটনাটির জন্য আমাকে আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কৈফিয়ত তলব করেছেনন এবং সবুজ রং তুলে নির্ধারিত হলুদ রং ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে সবুজ রং পরিবর্তন করে নির্ধারিত হলুদ রং চিত্রশিল্পিকে ব্যবহার করতে বলি। তবে এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমি অত্যন্ত দুঃখিত এবং জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থী।

মালিবাড়ী ক্লাষ্টারের দায়িত্বরত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাহেরা নাজনীন ঢাকাটাইমসকে বলেন, সিঁড়িতে নির্ধারিত রং ছিলো হলুদ ও লাল। আমি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতার (ডিপিও) নির্দেশে প্রধান শিক্ষককে সবুজ রং টির বিষয়ে অবগত করলে সে ৩০ মিনিটের মধ্যে রং টি পরিবর্তন করে পূর্বের নির্ধারিত হলুদ রং লাগিয়ে আমাকে জানান। তারপর সেটিতে চিত্রশিল্পি আল্পনা আঁকেন। আর এর ব্যখ্যা হিসেবে বলেন চিত্র শিল্পি সবুজ রং টি আস্তর হিসেবে ব্যাবহার করেছে। পরে আমি স্কুলটি পরিদর্শন করে আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হোসেন আলী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আমি সংশ্লিষ্ট মালিবাড়ী ক্লাষ্টারের দায়িত্বরত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি দেখতে বলি এবং ঘটনার সত্যতা পেলে সবুজ রং তুলে নির্ধারিত রং ব্যবহার করারও নির্দেশ দেই সে সাথে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাই যে এমন ঘটনা কেন ঘটলো।

এদিকে গাইবান্ধা থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকায় ওই সংবাদে নারী প্রধান শিক্ষকের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। যে কারনে নানাভাবে বিভিন্ন মানুষজন কল করে তাকে হয়রানী ও অপমানিত করছেন। এতে করে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আর তাই এমন অপসাংবাদিকতার জন্য ঘৃনা জানিয়েছেন সচেতন সাংবাদিকসহ শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

 




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ