1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ১১:৫৫ আজ বৃহস্পতিবার, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই সফর, ১৪৪২ হিজরি




ফের একই কান্ড গাইবান্ধা সরকারি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে!

  • সংবাদ সময় : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২৭৮ বার দেখা হয়েছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি না নিয়ে ফিরে দেয়ায় বেসরকারী চিকিৎসা কেন্দ্রে সন্তান প্রসব করেছেন এক প্রসুতি। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসা না পেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রসব বেদনা তীব্র হলে উপায়ন্তর না পেয়ে শহরের একটি বেসরকারী চিকিৎসা কেন্দ্রে সন্তান প্রসব করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর স্বজন সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট ইউনিয়নের পোগইল গ্রামের গৃহবধূ আজনা বেগম (৩০) প্রসব বেদনা নিয়ে সিনএনজি যোগে গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত এফডাবিøউভি লায়লা বেগমকে রোগীর ভর্তির কথা বললে তিনি বলেন আমার ডিউটি শেষ পরে যে আসবে তার সঙ্গে কথা বলেন, রোগীর যে অবস্থা এখানে রোগী ভর্তি করানো যাবেনা এবং তিনি আরো বলেন অন্য কোথাও ভর্তির ব্যবস্থা করেন।
কিছুক্ষন পর অন্য এফডাবিøউভি লুতফুন্নাহার লতা আসলে তাকে প্রসূতী ভর্তি করানোর কথা বললে লুতফুন্নাহর লতা বলেন রোগীর পানিশূন্যতা আছে এখানে রোগীর চিকিৎসা হবেনা বেশীক্ষন দেরী করলে সমস্যা হবে, আপনারা অন্য কোথাও নিয়ে যান। পরে খোজাখুজির এক পর্যায়ে উপস্থিত ডাক্তার আফসারী খানমের দেখা হলে রোগীর স্বজনরা কাকুতি মিনতি করে বললে তিনি প্রসুতিকে দেখে আলট্রাসনোগ্রাম করে তাকে রিপোর্ট দেখাতে বলেন। সেই মোতাবেক রোগীর স্বজনরা পাশে^র সানিলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর আলটাসনোগ্রাম করে কিছুক্ষণ পর এসে তারা দেখে ডাক্তার আফসারী খানম প্রতিষ্ঠানে নেই। এরপর ডাক্তারকে না পেয়ে রোগীর স্বজনরা কেন্দ্রের পরিদর্শিকা লুতফুন্নাহার লতাকে আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখিয়ে প্রসুতিকে ভর্তি করে নিতে বললে তিনি ভর্তি না করিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এরপর রোগীর স্বজনরা কেন্দ্রের পরিদর্শিকার কাছ থেকে ডাক্তারের মোবইল নম্বর নিয়ে ডাক্তারকে মোবাইলে কল করলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি। পরে রোগীর স্বজনরা আবারও কাকুতি মিনতি করে প্রসুতিকে ভর্তি করে নিতে বললে কর্তব্যরত কেন্দ্রের পরিদর্শিকা লুতফুন্নাহার বলেন রোগীর যে অবস্থা এখন ডাক্তার নেই, কেন্দ্রে ভালো ব্যবস্থা নেই এখানে তার চিকিৎসা হবেনা। তিনি প্রসূতিকে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি না করে নিয়ে অন্য কোন চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতে বলেন। এরপর প্রসূতি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি হতে না পেয়ে, তার প্রসব বেদনা তীব্র হলে উপায়ন্তর না পেয়ে শহরের একটি বেসরকারী চিকিৎসা কেন্দ্রে সন্তান প্রসব করেন।
উল্লেখ্য, প্রসব বেদনা নিয়ে গত ১১ আগস্ট দিবাগত গভীর রাতে জেলার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া থেকে সিএনজি যোগে এক প্রসুতিকে তার স্বজনরা গাইবান্ধা সরকারি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। তখনও ওই কেন্দ্রে দায়িত্বরত পরিদর্শিকা সেলিনা বেগম কোন পরীক্ষা ছাড়াই ওই প্রসুতিকে অন্যত্র যেতে বলেন। এ সময় স্বজনরা তাকে রোগিটি ভর্তি করে নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। কিন্তু এতে কোন সাড়া না দিয়ে উল্টো খারাপ ব্যবহার ও গালিগালাজ করে কেন্দ্র থেকে তাদেরকে তাড়িয়ে দেন। পরে প্রসূতি পথে শহরের ডিবি রোডে একটি অটোরিক্সায় মেয়ে সন্তান প্রসব করেন। পরে এলাকাবাসীর নজরে এলে তাদের সহযোগিতায় পুলিশের মাধ্যমে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে অসুস্থ মা ও শিশুকে ভর্তি করা হয়।

পরে ঐ ঘটনায় কেন্দ্রের দায়িত্বরত পরিদর্শিকা সেলিনা বেগমক অন্যত্র বদলী করে এবং ২ চিকিৎসককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তারা হলেন, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডাঃ আফসারী খানম ও মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ সেকেন্দার আলী। ডাঃ মোঃ সেকেন্দার আলী সরকারী নির্দেশনা মেনে তার বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান করলেও কোন রহস্যময় কারনে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডাঃ আফসারী খানম সরকারী নির্দেশনা না মেনে তার বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করে এখনও গাইবান্ধা সরকারি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে বহালতবিয়তে আছেন।

এঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিপিবি জেলা কমিটির সভাপতি মিহির ঘোষ বলেন, গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে কয়েকদিনের ব্যবধানে একই ঘটনার পূনরাবৃৃত্তি দুঃখজনক। দোষী ব্যক্তিকে পূর্বের ঘটনার কারনে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও ডাঃ আফসারী খানম সরকারী নির্দেশনা না মেনে বহালতবিয়তে থাকা আইনের পরিপন্থী। তিনি তাকে আইনের আওতায় এনে স্ট্যান্ড রিলিজ কার্যকর ও শাস্তির দাবী জানান।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন গাইবান্ধা জেলা শাখার সহ-সভাপতি এ্যাড. জি.এস.এম আলমগীর বলেন, এই ধরনের অবস্থা থেকে গাইবান্ধাবাসী পরিত্রাণ দাবী জানিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি দুঃখজনক, গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে পর্যাপ্ত জনবলের অভাব রয়েছে। জনবলের ঘাটতি পূরন হলে এই সংকটগুলো থাকবেনা।

 




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ