1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় ভোর ৫:৪৮ আজ শুক্রবার, ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি




আপদে-বিপদে গাইবান্ধার মানবিক পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম

  • সংবাদ সময় : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২০
  • ২২১ বার দেখা হয়েছে

খায়রুল ইসলাম:

করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করা হলে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের প্রত্যেকটি ইউনিট জেলায় সেই লকডাইন কার্যকরে অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। জনসাধারণের চলাচল সীমিত করার জন্য সারা জেলায় ২২টি পুলিশ চেকপোস্ট কাজ করছে। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে জেলাব্যাপী ২৭টি মোবাইল টিম সার্বক্ষনিক প্যাট্রলিং করে যাচ্ছে। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জায়গা, বিশেষ করে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুর ফেরত গামের্ন্টস শ্রমিকরা গাইবান্ধায় আগমন করলে তাদের যথাসম্ভব হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়। যাদের মধ্যে কোন ধরণের লক্ষণ দেখা গেছে তাদের সঙ্গে সঙ্গে অন্যদের থেকে আইসোলেট করা হয়েছে। তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছে, তাদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জেলা পুলিশের মানবিক কার্যক্রম সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
এব্যাপারে এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, চীনের উহান শহরে যখন সর্বপ্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, ঠিক তখনই আমরা করোনা ভাইরাস সম্পর্কে ধারণা লাভ করি এবং পুলিশ সদস্যসহ গাইবান্ধা আপামর জনগণকে এই ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করি। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার আগে থেকেই আমরা এই কাজটি শুরু করি। বিভিন্ন জনসমাগমে করোনা সম্পর্কে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে লিফলেট সরবরাহ করা হয়। বিভিন্ন যানবাহনে লিফলেট প্রদান, এমনকি এ বিষয় সংবলিত লিফলেট বিভিন্ন জায়গায় পোস্টারিং করা হয়েছে। গাইবান্ধার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে আয়োজিত সেমিনার ও কর্মশালায় জেলা পুলিশ অংশ গ্রহণ করে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের এই উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলেন, গাইবান্ধা জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোয় করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে মাইকিং করা হয়েছে। গাইবান্ধা জেলায় গত ২২ মার্চ দুই আমেরিকা প্রবাসীর মধ্যে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়। এই দুই ব্যক্তি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থি ছিলেন। এই বিয়েতে সহস্রাধিক লোক উপস্থিত ছিল। আমরা বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে ওই দুইজনকে আইসোলেশন করি। তারা কোথায় কার সঙ্গে মেলামেশা করেছে, সেসব বিষয়ে যাবতীয় তথ্য সংঘ্রহ করা হয়। এতে তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছে বলে মনে হয়েছে, এ রকম প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলায় ২৭ হাজার ২৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন করেছি। কোন ব্যক্তির মধ্যে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত তাকে আইসোলেট করে তার নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার লাশ নিয়ে আসা, এমনকি যখন কেউ লাশ দাফন কিংবা সৎকার করতে আসেনি এ রকম পরিস্থিতিতে পুলিশই ওই লাশের দাফন কিংবা সৎকার করেছে। পুলিশ নিঃস্বার্থভাবে এই কাজগুলো করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর যখন বিভিন্ন কার্যক্রম সীমিত হয়ে যায়, তখন গাইবান্ধার খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমিক, দিনমজুর মানবেতর জীবন যাপন করতে থাকে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে যথাসম্ভব ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ভাসমান জনগোষ্ঠী যেমন- বেদে স¤প্রদায়, পরিবহন শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি, নরসুন্দর, রিক্সাচালক, যারা অসহায় হয়ে পড়েছিল তাদের পাশে জেলা পুলিশ দাঁড়ায় এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে। নিম্ন মধ্যবিত্ত যারা প্রচলিত ত্রাণ সহায়তা পায়নি, এমনকি ত্রাণ নিতে মান-সম্মানের কারণে যাদের দ্বিধা-দ্ব›দ্ব কাজ করে, এরূপ ব্যক্তিদের জেলা পুলিশের মোবাইল নম্বর প্রদান করা হয়েছে। জেলা পুলিশের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে তাদের পরিচয় গোপন রেখে তাদেরকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। লকডাউনে বিভিন্ন দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরের ভাসমান জনগোষ্ঠী খাদ্যের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করতে থাকে। এসব জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রতিদিন রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম আরও বলেন, প্রতি বছর গাইবান্ধা থেকে অনেক শ্রমিক দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে ধান কেটে থাকে। লকডাউনের কারণে এসব শ্রমিক ঘরে থাকতে বাধ্য হয়। ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও ধান কাটার জন্য তারা অন্য জেলায় যেতে পারছিল না। এ অবস্থায় হাওর, চলনবিলসহ অন্যান্য এলাকায় ধান কাটা শ্রমিকের যাতে কোন সংকট না হয়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে গত বোরো মৌসুমে জেলা পুলিশের ব্যবস্থাপনায় গাইবান্ধা জেলা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৪ হাজার ধানকাটা শ্রমিককে স্বাস্থ্য পরীক্ষাপূর্বক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করে পাঠানো হয়। এছাড়া জেলার চাষিদের উৎপাদিত শাকসবজি সূলভ মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে পুলিশ সদস্যরা শুরু থেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে। তাদের মধ্যে পর্যাপ্ত পিপিই, গ্লাভস, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এ পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলা পুলিশের ২০ সদস্যের কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন সুস্থ হয়ে পুনরায় কাজে যোগদান করেছে। বর্তমানে ৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুলিশ সদস্যদের ইমিউনিটি বৃদ্ধির জন্য জিংক ট্যাবলেট, ভিটামিন ডি ট্যাবলেট, ভিটামিন সি ট্যাবলেট প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা পুলিশের সব সদস্যের মনোবল চাঙ্গা রয়েছে। করোনাকালে জেলার জনসাধারণের দুঃসময়ে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে পাশে থাকতে পেরে পুলিশ সদস্যরা গর্ব অনুভব করছে।

এছাড়াও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে  যেকোন বিষয় নিয়ে গেলে তিনি তাদের সাথে দেখা করে অত্যন্ত ভদ্রচিতভাবে সর্বশ্রেণির মানুষের সাথে কথাগুলো গুরুত্বসহকারে শোনেন। যেবিষয়গুলো তাৎক্ষণিক সমাধান করা সম্ভব-তা তিনি  তখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এমন একজন পুলিশ সপুারকে গাইবান্ধার জনবান্ধব পুলিশ সুপার হিসাবে জনগণ গ্রহণ করেছেন।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ