1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ১২:৫৬ আজ শনিবার, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি




গাইবান্ধায় মাতৃসদন থেকে বিতাড়িত গৃহবধু’র পথে সন্তান প্রসব দু’টি তদন্ত কমিটি স্মারকলিপি দিল মহিলা পরিষদ

  • সংবাদ সময় : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২০
  • ১৩৩ বার দেখা হয়েছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (মাতৃসদন থেকে বিতারিত ও লাঞ্ছনার শিকার জেমি আক্তার (২৫) নামে এক প্রস‚তির রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত ঘরে সন্তান প্রসব করার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শাস্তির দাবীতে বিভিন্ন নারী সংগঠন ও সামাজিক রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ,গাইবান্ধা জেলা শাখার পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিনের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিকতু প্রসাদ, লিগ্যাল এইড সম্পাদক নিয়াজ আক্তার ইয়াসমীন ও খালেদা রীটাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপি ও অভিযোগে বলা হয়, প্রস‚তি মায়েদের স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসবের একমাত্র ভরসাস্থল গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র বা মাতৃসদন । কিন্তু এই ঘটনাটিই প্রথম নয় । এখানে এরআগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। গত ৬ এপ্রিল গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের অন্তঃসত্ত¡া মিষ্টি আকতারকে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দেন কেন্দ্রের সিনিয়র স্বাস্থ্যকর্মী তৌহিদা বেগম। কেন্দ্রের কয়েকশ’ গজ দ‚রেই অটোরিকশায় সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি করা হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নি। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি বের করে দোষীদের শাস্তি দাবী করেন। তারা জেলা প্রশাসকের কাছে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠনেরও দাবী জানান। জেলা প্রশাসক মো.আবদুল মতিন বলেন, এই ঘটনাটি জানার পরপরই বিষয়টি পরিবারবার পরিকল্পনা বিভাগের ডিজিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করে পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর রংপুর কে প্রধান ও উপপরিচালক রংপুর এবং আরও একজন কর্মকর্তাকে সদস্য করে করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটি কাজ শুরু করেছেন।
তবে এ ব্যাপারে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের গাইবান্ধা উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান , ঘটনার পরপরই স্থানীয়ভাবে জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. ফারুক আজম নূর কে আহবায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয় । তারা ২৪ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদনটি পাঠানো হবে।
এ ব্যাপারে সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ বলেন, এর আগেও মাতৃসদনে এ ধরণের অমানবিক ঘটনা ঘটলেও সব কিছু ধামাচাপা দিয়ে ম্যানেজ করে ফেলা হয়। তিনি দোষীদের শাস্তি দাবী করেন।
প্রসঙ্গত: প্রসুতি জেমি আক্তার গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া গ্রামের হিরু মিয়ার স্ত্রী। মঙ্গলবার রাতে তীব্র প্রসব বেদনা উঠলে জেমি আক্তারকে নিয়ে স্বজনরা বোনারপাড়া থেকে সিএনজি নিয়ে গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দের দিকে ্র রওনা দেন। সেখানে পৌঁছোনোর পর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা সেলিনা বেগম কোন পরীক্ষা ছাড়াই অন্তঃসত্ত¡া ওই নারীকে অন্যত্র যেতে বলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও কর্ণপাত না করে উল্টো গালিগালাজ করে বের করে দেওয়া হয় তাদের। তার স্বজনদের অভিযোগ এ সময়, তাদের লাঞ্ছিতও করা হয়। পরে অপমানিত ও বিতাড়িত ওই প্রস‚তি মা গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডের পরিত্যক্ত ঘরে মেয়ে সন্তান প্রসব করেন । এরপর পুলিশের সহযোগিতায় অসুস্থ অবস্থায় মা ও নবজাতককে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ রয়েছেন। প্রস‚তি মা ও শিশুকে গাইনি চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ