1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ১১:০৮ আজ বৃহস্পতিবার, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই সফর, ১৪৪২ হিজরি




ডায়াবেটিস ও ভাবাবেগ

  • সংবাদ সময় : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০
  • ৭২ বার দেখা হয়েছে

ডায়াবেটিস শুধু শারীরিক রোগ নয়, এটি মনকেও গভীরভাবে আক্রান্ত করে। শুরুতেই যখন কাউকে জানানো হয়, আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে যা আজীবনই থাকবে এবং আপনাকে জীবনযাপন পরিবর্তন করাসহ ক্রমেই বেশি সংখ্যক ওষুধ সেবন করার দরকার হতে পারে; এ তথ্যগুলোই ডায়াবেটিসের রোগীকে মানসিক চাপে বা মানসিক অবসাদে ফেলতে পারে।

করোনাভাইরাস মহামারী, কোভিড-১৯ প্যান্ডেমিক সারা বিশ্বকে গ্রাস করেছে। অন্য বেশ কটি রোগে আক্রান্তদের কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হলে রোগের তীব্রতা ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হলে মৃত্যু হার অন্তত ৪ গুণ বেড়ে যায়।

যাদের আগে থেকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ছিল না তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। এসব নির্মম তথ্যগুলো ডায়াবেটিস রোগীর মানসিক চাপ বৃদ্ধির অমোঘ কারণ হিসেবে কাজ করছে।

রোগটি যেহেতু ডায়াবেটিস, তাই রক্তের গ্লুকোজ কাক্সিক্ষত মাত্রায় রাখাটাই জরুরি কাজ। যাদের রক্তের গ্লুকোজ লক্ষ্যমাত্রায় ছিল, তারা ভালো অবস্থায় আছে, কিন্তু বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ রোগীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে না; সেসব রোগীর রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের আশু পদক্ষেপ নিতে হবে। এর জন্য হরমোন/ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

করোনাভাইরাসে ডায়াবেটিক রোগীর আশু করণীয়

* করোনাভাইরাস সংক্রমণের সামান্যতম লক্ষণ দেখা দিলে সরকার নির্দেশিত কেন্দ্রগুলোতে রোগ শনাক্তকরণ ও পরবর্তী সেবার জন্য দ্রুত চলে যাওয়া।

* কালক্ষেপন না করে অতি সত্বর রক্তের গ্লুকোজ লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে (এইচবিএওয়ানসি ৭ শতাংশ) নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।

* যদি সিম্পটম দেখা দিয়ে থাকে (জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট) তাহলে নিজেকে নিজে আলাদা করে থাকাই শ্রেয়। শরীর বেশি খারাপ না হলে হাসপাতালে না যাওয়াই ভালো। ৮০ শতাংশ মানুষ হাসপাতাল র্ভতি ছাড়াই ভালো হয়ে যাবে। ১৪ দিন নিজেকে আইসোলেট করে থাকবেন।

* বয়স্ক লোকজনের মধ্যে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। বয়স্ক কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে ভর্তি করার কারণ আছে, কারণ তাদের অনেকেরই আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে।

* সবচেয়ে সমস্যা হল লক্ষণহীন রোগীরা। জার্মানিতে অনেক আছে যাদের পাওয়া গেছে কোনো কাশি নেই, কোনো জ্বর নেই, কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যায় তাদের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে। ইতালিতেও এমন অনেক পাওয়া গেছে এমনকি যুক্তরাজ্যেও। এ নিয়ে সবচেয়ে বড় ভয় এটাই যে একদম নরমাল, মানুষজন করোনাভাইরাস নিয়েই ঘুরাফেরা করছে। এখন বলা যাচ্ছে না তাদের থেকে অন্যদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু।

* স্যানিটাইজার ভালো হলেও, মার্কেটের অধিকাংশ স্যানিটাইজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ এলকোহল নেই (যেটি পান করে ওই এলকোহল না)। সাবান দিয়ে হাত ধোন, বেশি বেশি ধোন। অতিরিক্ত করতে চাইলে বরং হিক্সিসল টাইপের কিছু ব্যবহার করুন। ঘরের বাইরে স্যানিটাইজার ব্যবহার করলেও মুখে হাত দেবেন না যতক্ষণ না কোথাও গিয়ে হাত ধুতে পারবেন।

* বড় সমাবেশ বা লোক সমাগম থেকে দূরে থাকাই ভালো। কোনো কনফারেন্স বা পার্টিতে যাবেন না।

* ভাবাবেগের অনেক কিছুই আপনি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

* চারপাশের অনেক কিছুই আগের মতো নেই ভেবে মনঃকষ্ট পাবেন না। পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে চেষ্টা করুন। ডায়াবেটিস আছে বলে নিজেকে অতি দুর্বল অবস্থায় আছেন না ভেবে বরং হরমোন/ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মোতাবেক চলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসুন এবং তা বজায় রাখুন। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ঘর-ছাদ-বারান্দা-গ্যারেজে হাঁটুন। এগুলো শরীর ও মন দুটিকেই সতেজ-চাঙা রাখবে। নিজে দায়িত্বশীল হোন, যত্নশীল হোন।

* যদি কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েই যান, নিজেকে নিঃসঙ্গ না ভেবে পরিবার ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ এবং এ রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থার সাহায্য নিন। আশপাশের অনেকেই এ রোগে আক্রান্ত ভালো হয়ে গিয়েছেন, মনে রাখবেন সেটি।

* ডায়াবেটিসের রোগী কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হলে রক্তের গ্লুকোজ চটজলদি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই, এ সময় ঘন ঘন গ্লুকোজ মেপে ওষুধ সমন্বয় করার দরকার হবে। অনেকের ক্ষেত্রে নতুন করে ইনসুলিন শুরু করতে হতে পারে। আবার কারও কারও রক্তের গ্লুকোজ কমেও যেতে পারে। সব ক্ষেত্রেই ঘন ঘন গ্লুকোজ মেপে ওষুধ ঠিক নিতে হবে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ