1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ১:৩৪ আজ বৃহস্পতিবার, ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি




মাঠপর্যায়ের বেশিরভাগ এনজিও আর্থিক সংকটে

  • সংবাদ সময় : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০
  • ২৬১ বার দেখা হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট: বর্তমান করোনা সংকটে জেলা পর্যায়ে কাজ করা ৯০ শতাংশ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) সম্পদের অপ্রতুলতা আছে। এসব সংস্থা আর্থিক সংকটে পড়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনায় ৭৭ শতাংশ সংস্থা নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ৬৮ শতাংশ এনজিও কর্মীর পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী, যেমন পিপিই, মাস্ক—এসবের অভাব রয়েছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এক মতামত জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে ৩৩ জেলার ৯৪টি এনজিওর প্রতিনিধিরা মতামত দেন। ৪ থেকে ৬ জুলাই জরিপটি করা হয়।

গতকাল বুধবার নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘স্থানীয় পর্যায়ের চলমান পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা: অর্জন ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল সংলাপে মতামত জরিপের ফলাফল তুলে ধরে। মতামত জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতিতে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলো আট ধরনের সমস্যায় পড়েছে। এগুলো হলো সম্পদের অপ্রতুলতা; সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনায় অসুবিধা; মাঠকর্মীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রীর অভাব; প্রাকৃতিক দুর্যোগে কার্যক্রম ব্যাহত; প্রকল্পের টাকা কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ব্যবহারে নমনীয়তার অভাব; স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অসহযোগিতা, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনের অসহযোগিতা। জরিপ অনুয়ায়ী, ৫৪ শতাংশ এনজিওর নিজস্ব উপার্জনের উৎস আছে। এই উপার্জনের ৫০ শতাংশই আসে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম থেকে।

সংলাপে স্থানীয় পর্যায়ের এনজিও প্রতিনিধিরা বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে তাঁরা সম্পদের ঘাটতিতে পড়েছেন। আর্থিক সংকটসহ নানা ঝুঁকির মধ্যেও আছে সংস্থাগুলো। তাদের কাজেও সমন্বয়ের ঘাটতি আছে। আবার সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো স্বীকৃতি নেই।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, করোনা সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে সরকারি নীতি-কৌশল ও কর্মপন্থায় যুক্ত করা হয়নি। এ জন্য জাতীয় কৌশল গ্রহণ করতে হবে। কেননা, কোভিড সংকট এক দিনে শেষ হবে না। তিনি বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের এনজিওগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই করোনা সংকটের মতো দুর্যোগকালে টিকে থাকতে এসব এনজিওর জন্য আর্থিক প্রণোদনা বা নীতিসহায়তা—কিছুই নেই।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, উন্নয়ন সংস্থাগুলোর নিজেদের কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আছে। তাদের কাজের সমন্বয় করা উচিত।

হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর বদিউল আলম মজুমদারের মতে, সরকার ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কাজের মধ্যে যেমন
সমন্বয় থাকতে হয়, তেমনি এনজিওগুলোর নিজেদের মধ্যেও সমন্বয় থাকতে হবে।

করোনাকালে ৬২ শতাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে মনে করেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম। মুঠোফোনের মাধ্যমে অতিদরিদ্রদের যেভাবে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, সেই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি।

পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত নেই বলে ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণের প্রতি জোর দেন তিনি।

তৃণমূলের প্রতিনিধিরা যা বলেন

সংলাপে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা এনজিওগুলোর প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বরিশালের এনজিও আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা জানান, করোনাকালে এনজিওগুলোর নারী কর্মীরা সরকারি কোনো সহযোগিতা পাননি। অনেক সংস্থা সম্পদের অভাবে কর্মী ছাঁটাই করেছে।

খুলনার রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ বলেন, করোনার কারণে এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে আছে। অনেক কর্মী কর্মহীন হয়েছেন। শহরের মতো ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে কাজ করাও সম্ভব হচ্ছে না। অংশীজনদের অনেকের ডিজিটাল ডিভাইস নেই। ইন্টারনেট সমস্যাও প্রকট।

কুষ্টিয়ার নারী মুক্তি ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মমতাজ আরা বেগম জানান, করোনাকালে তাঁর নিজের কর্ম এলাকায় (২০টি ইউনিয়ন) বাল্যবিবাহ বেড়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার নেই বললেই চলে। মুঠোফোন ব্যবহার করা মানুষের মধ্যে ৮৫ শতাংশের স্মার্টফোন নেই। অনেকের জিবি কেনার সামর্থ্য নেই।

দরিদ্র্যপ্রবণ কুড়িগ্রামের এনজিও সলিডারিটির প্রধান হারুন উর রশিদ জানান, করোনা ও বন্যা পরিস্থিতি ওই এলাকার চরাঞ্চলের মানুষের জীবন আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। তাঁদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নাগরিক সমাজ ও এনজিওগুলো নানা ধরনের ভূমিকা রাখলেও সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পর্যাপ্ত স্বীকৃতির অভাব রয়েছে। করোনা অতিমারির বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত তথ্য প্রচারে ধর্মীয় নেতাদের যুক্ত করা প্রয়োজন। চলমান অতিমারির নানামুখী চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণে জাতীয় নীতিকাঠামো প্রণয়ন করে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও এনজিওকে যুক্ত করার তাগিদ দেন তাঁরা।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ