1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সকাল ১০:০২ আজ বৃহস্পতিবার, ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি




রাজধানী দিল্লির ২ কোটি মানুষের করোনা টেষ্ট করার সিদ্ধান্ত

  • সংবাদ সময় : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০
  • ১৭১ বার দেখা হয়েছে

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতি যখন দিন-কে-দিন আরও শোচনীয় হচ্ছে, তখনই সরকার শহরের সব বাসিন্দার জন্য কোভিড-১৯ পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে এই ‘টেস্টিং ফর অল’-এর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা সরকার নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দিল্লিতে টেস্টিংয়ের সংখ্যা যতই বাড়ানো হোক শহরের দু’কোটি বাসিন্দার সবাইকে পরীক্ষার আওতায় আনা কার্যত অসম্ভব – আর সেখানে কয়েকটি বিশেষ শ্রেণীকে অগ্রাধিকার দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

রাজধানী দিল্লিতে যখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ খুব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, ঠিক তখনই দিল্লি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল তারা করোনা টেস্টিং হঠাৎ করেই কমিয়ে দিয়েছে।

সাধারণ মানুষ শহরের নানা প্রান্তে ছুটোছুটি করেও করোনা টেস্ট করাতে পারছেন না – কিংবা কোনও মতে টেস্ট হলেও দিনের পর দিন তার রেজাল্ট মিলছে না – এমন অভিযোগ উঠেছে ভূরি ভূরি।

টেস্টিং করাতে গিয়ে দিল্লিবাসী নাজেহাল

দিল্লির গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালের সামনে বসে উর্মিলা মিশ্রা বলছিলেন, “আমার বাবার করোনা টেস্ট গত রবিবার হলেও আজ সাতদিন পরেও তার রেজাল্ট আসেনি। আরএমএল হাসপাতাল বলেছিল ফোন করবে, কিন্তু কোনও ফোনও আসেনি।”

টিভি সিরিয়ালের জনপ্রিয় মুখ দীপিকা সিং গোয়েল এর আগেই অভিযোগ করেছিলেন, তার বয়স্কা মা-র টেস্ট করিয়েও লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতাল পাঁচদিন বাদেও হাতে কোনও রিপোর্ট ধরায়নি।

“আমার বৃদ্ধ বাবাকে ডেকে শুধু বলা হয়েছে, রিপোর্টের ছবি তুলে নিয়ে যান – যেটা দেখিয়ে আমরা কোথাও মাকে ভর্তি করাতেও পারছি না”, জানিয়েছেন ওই অভিনেত্রী।

এই পটভূমিতেই আজ দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে ‘সবার জন্য কোভিড টেস্টে’র প্রস্তাব পেশ করে কংগ্রেস।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে উপস্থিত প্রায় সব দলই তাতে সায় দিয়েছে, এবং এরপর কেন্দ্রীয় সরকারও স্থির করেছে দিল্লিবাসী সবাইকেই এখন টেস্টের আওতায় আনা হবে।

দিল্লিতে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির এমপি সঞ্জয় সিং আজকের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।

বৈঠকের পরে তিনি দাবি করেন, “দিল্লির বিরুদ্ধে কম টেস্টিংয়ের যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা ঠিক নয় – কারণ দিল্লিতে প্রতি দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে পনেরো হাজারের টেস্টিং হয়েছে।”

“এটা জাতীয় গড় তো বটেই, অন্য সব রাজ্যের চেয়ে দ্বিগুণ বা তারও অনেক বেশি।”

“তারপরও আমরা টেস্টিং আরও বাড়াব ঠিক করেছি, ২০শে জুনের মধ্যে রোজ অন্তত আঠারো হাজার টেস্টিং করা হবে বলে লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।”

‘একধাসে টেস্ট নয়, বাছাই প্রয়োজন’

কিন্তু রোজ আঠারো-বিশ হাজার টেস্ট হলেও দিল্লির প্রায় ২ কোটি মানুষের সবার পরীক্ষা করাতে গেলে সরল পাটিগণিতের হিসেবেই প্রায় তিন বছর লেগে যাবে।

টিভি সিরিয়ালের জনপ্রিয় মুখ দীপিকা সিং গোয়েল এর আগেই অভিযোগ করেছিলেন, তার বয়স্কা মা-র টেস্ট করিয়েও লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতাল পাঁচদিন বাদেও হাতে কোনও রিপোর্ট ধরায়নি।

“আমার বৃদ্ধ বাবাকে ডেকে শুধু বলা হয়েছে, রিপোর্টের ছবি তুলে নিয়ে যান – যেটা দেখিয়ে আমরা কোথাও মাকে ভর্তি করাতেও পারছি না”, জানিয়েছেন ওই অভিনেত্রী।

এই পটভূমিতেই আজ দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে ‘সবার জন্য কোভিড টেস্টে’র প্রস্তাব পেশ করে কংগ্রেস।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে উপস্থিত প্রায় সব দলই তাতে সায় দিয়েছে, এবং এরপর কেন্দ্রীয় সরকারও স্থির করেছে দিল্লিবাসী সবাইকেই এখন টেস্টের আওতায় আনা হবে।

দিল্লিতে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির এমপি সঞ্জয় সিং আজকের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।

বৈঠকের পরে তিনি দাবি করেন, “দিল্লির বিরুদ্ধে কম টেস্টিংয়ের যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা ঠিক নয় – কারণ দিল্লিতে প্রতি দশ লক্ষ মানুষের মধ্যে পনেরো হাজারের টেস্টিং হয়েছে।”

“এটা জাতীয় গড় তো বটেই, অন্য সব রাজ্যের চেয়ে দ্বিগুণ বা তারও অনেক বেশি।”

“তারপরও আমরা টেস্টিং আরও বাড়াব ঠিক করেছি, ২০শে জুনের মধ্যে রোজ অন্তত আঠারো হাজার টেস্টিং করা হবে বলে লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।”

‘একধাসে টেস্ট নয়, বাছাই প্রয়োজন’

কিন্তু রোজ আঠারো-বিশ হাজার টেস্ট হলেও দিল্লির প্রায় ২ কোটি মানুষের সবার পরীক্ষা করাতে গেলে সরল পাটিগণিতের হিসেবেই প্রায় তিন বছর লেগে যাবে।

বিশেষজ্ঞরা এ কারণেই বলছেন, ‘টেস্টিং ফর অল’ আসলে একটা চমৎকার স্লোগান – বাস্তবতা হল আগে বাছাই করা কিছু লোকের টেস্ট করাতে হবে।

দিল্লির জেএনইউ-তে এপিডেমিওলজি ও জনস্বাস্থ্যর অধ্যাপক রাজীব দাশগুপ্ত যেমন বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, তিনি মনে করেন না দিল্লির প্রতিটি লোককে এভাবে টেস্ট করা সম্ভব – কারণ সেটা ‘পর্বতপ্রমাণ কাজ’।

ড: দাশগুপ্তর কথায়, “তবে এই বৈঠকের ইতিবাচক দিকটা হল, ‘সবার টেস্ট’ বলতে যারা রোগীদের সংস্পর্শে এসেছেন ও তার পরিবারের লোকজন, হটস্পটের বাসিন্দা, আগে থেকেই অন্য রোগে ভুগছেন এমন হাই রিস্ক গ্রুপ এবং স্বাস্থ্যকর্মী ও ফ্রন্টলাইন কর্মী – এদের সবার টেস্ট কিন্তু করতেই হবে।”

“সবার একধারসে টেস্ট না-করে এই সাব-গ্রুপগুলোর করাটাই কিন্তু এপিডেমিওলজির দিক থেকে বেশি বুদ্ধিমানের কাজ।”

দিল্লিতে টেস্টিংয়ের হার যে অনেক বাড়াতে হবে, তা নিয়ে আজকের বৈঠকে একমত হয়েছে সব রাজনৈতিক দলই।

এখন সেটা কতটা বাড়ানো যাবে আর কাদের আগে টেস্ট করানো হবে, দেখার বিষয় সেটাই।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ