1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সকাল ১০:০৩ আজ বৃহস্পতিবার, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি




মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েছে ৩১ শতাংশ

  • সংবাদ সময় : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০
  • ১৫৫ বার দেখা হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট: করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের আগের তুলনায় নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতন বেড়েছে। গত এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতনের বেড়েছে শতকরা ৩১ শতাংশ। বুধবার এক ভার্চু্যয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। এই সময় ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা কোভিড-১৯’ শীর্ষক জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

‘টেলিফোন কুইক সার্ভিস’ নামে এই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৫৩টি জেলায় মে মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ১৩ হাজার ৪৯৪ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে নারী ১১ হাজার ৩২৩ জন এবং শিশু দুই হাজার ১৭১ জন। মে মাসে নতুন করে নির্যাতনের শিকার হয়েছে চার হাজার ১৬০ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে নারী দুই হাজার ৮৪১ জন এবং শিশু এক হাজার ৩১৯ জন। এপ্রিল মাসে শুধু নারী নির্যাতন হয়েছিল দুই হাজার ৪৫৫ জন। এদিকে প্রতি ১০ জনে ছয়জন শিশু নতুনভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আর প্রতি চারজন নারীর মধ্যে একজনের বেশি নতুনভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী মোট নিপীড়িত ১১ হাজার ৩২৩ জন নারীর মধ্যে ১১ হাজার ২৫ জন অর্থাৎ শতকরা ৯৭ দশমিক ৪ জন নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার। নারীর প্রতি পারিবারিক সহিংসতা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে স্বামীর হাতে। এছাড়াও আছে ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা, যৌন হয়রানি ও হত্যার ঘটনা। এমনকি ত্রাণ নিতে গিয়েও যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে উলেস্নখ করা হয়, এপ্রিলে শুধু নারীর প্রতি সহিংসতা ছিল এক হাজার ৬০০টি। দীর্ঘ লকডাউনে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা
প্রতিনিয়ত খারাপ হওয়ায় নারীর প্রতি পারিবারিক সহিংসতা বাড়ছে। তাই নতুন করে শিশু নির্যাতনে হয়েছে ৬১ শতাংশ এবং নারী ২৫ শতাংশ।
নারী নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, পারিবারিকভাবে নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১১ হাজার ২৫ জন, যৌন নির্যাতনের শিকার ১৭৯ জন, ত্রাণ সংগ্রহসহ বিভিন্ন কারণে যৌন হয়রানির শিকার ৫৪ জন, ধর্ষণ ও ধর্ষণের ঘটনা ৪৮টি, যৌন নির্যাতন ও খাদ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন কারণে হত্যা করা হয় ১৭ জনকে।
মোট পারিবারিক সহিংসতার শিকার ১১ হাজার ২৫ জনের মধ্যে মানসিক নির্যাতনের শিকার চার হাজার ৯৪৭ জন, অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার তিন হাজার ৫৮৯ জন, শারীরিক নির্যাতনের শিকার দুই হাজার ৮৫ জন, যৌন নির্যাতনের শিকার ৪০৪ জন।
শিশু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, মে মাসে বাল্যবিবাহ হয়েছে ১৭০টি, ঠেকানো গেছে ২৩৩টি। এই মাসে শিশু নির্যাতন (কর্মক্ষেত্রে) হয়েছে ৬৭টি, ধর্ষণ ১৯টি, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ১২টি, হত্যার ঘটনা ১৯টি এবং অপহরণ করা হয়েছে ২১ জন শিশুকে।
এই সময় জানানো হয়, এই জরিপ তৈরিতে ১০৮টি সহযোগী সংগঠন জড়িত ছিল। নির্যাতনের তথ্য পেতে ৫৩ হাজার ৩৪০ জন মানুষের ওপর টেলিফোনের মাধ্যমে জরিপ চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৪৩৪ জন নারী এবং ১৫ হাজার ৯০৬ জন শিশু রয়েছে।
প্রতিবেদনের সুপারিশ তুলে ধরে বলা হয়, পারিবারিক সহিংসতা কমাতে করোনার মধ্যে ভার্চু্যয়াল নারী ও শিশু আদালত কার্যকর করতে হবে। ওয়ানস্টপ সার্ভিস কার্যকর রাখতে হবে। মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নির্যাতনের বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনতা তৈরি করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভার্চু্যয়াল সংবাদ সম্মেলনে আরও যুক্ত হন এমজেএফ ডিএফআইডির এক্সক্লুডেড পিপলস রাইটস (ইপিআর), সংবাদ সম্মেলনে তিনটি বেসরকারি সংস্থার নির্বাহী পরিচালকরা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন এমজেএফ-এর নলেজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ড. রিজওয়ান উল আলম।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ