1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ৯:১২ আজ মঙ্গলবার, ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি




উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে.

  • সংবাদ সময় : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০
  • ১৯১ বার দেখা হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট: রক্তচাপ মরণঘাতী রোগ। মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ, হার্ট অ্যাটাক এবং দুটি কিডনিই এ রোগে অকেজো হয়ে যেতে পারে। সময় মতো নিয়মিত ওষুধ খেলে এ রোগের জটিলতা কমে যায়। বয়স যত বাড়তে থাকে, রক্তচাপ ততই বৃদ্ধি পেতে থাকে। এটা স্বাভাবিক। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে ধমনীর প্রসারণ ক্ষমতা কমে যায়। উচ্চ রক্তচাপ হলে যে ক’টি পরীক্ষা অত্যন্ত দরকারি সেগুলো হলো- প্রস্রাব পরীক্ষা, ইসিজি, বুকের এক্সরে, রক্তে সুগার, ইউরিয়া ও কোলস্টেরলের পরিমাণ মেপে নেওয়া

রক্তপরিবাহী নালির ভেতর দিয়ে রক্ত যখন চলাচল করে, তখন পরিবহন নালির গায়ে যে চাপ পড়ে, তাকেই রক্তচাপ বলা হয়। এই রক্তচাপ যখন স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রক্তচাপ মাপার ক্ষেত্রে বয়স, লিঙ্গ, ওষুধ- এগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণ অর্থে বলা হয়, একজন স্বাভাবিক পূর্ণবয়স্ক মানুষের রক্তচাপ ১২০/৭০ মিলিমিটার অব মারকারি হওয়া উচিত। মজার ব্যাপার হলো, মানুষের রক্তচাপ কখনও স্থির থাকে না। ওঠা-নামা স্বাভাবিক। রক্তচাপ দুটি অঙ্ক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। প্রথমটি সিস্টোলিক, অন্যটি ডায়াস্টলিক। হূৎপিণ্ড যখন সংকুচিত হয় ধমনিতে তখন যে চাপ হয় তাকে বলা হয় সিস্টোলিক প্রেসার আর হূৎপিণ্ড প্রসারণের সময় ধমনিতে তখন যে চাপ থাকে তাকে বলা হয় ডায়াস্টলিক প্রেসার। একজন সুস্থ মানুষের সিস্টোলিক প্রেসার ৮০ থেকে ১৬০ পর্যন্ত এবং ডায়াস্টলিক প্রেসার ৬০ থেকে ৮০ পর্যন্ত হতে পারে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির রক্তচাপ যদি কোনো কারণে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির ২০১৮ সালের গাইডলাইন মতে, ১৩০/৮০ মিলিমিটার অব মারকারি যদি ছাড়িয়ে যায় তবে তার উচ্চরক্তচাপ রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। একবার ব্লাডপ্রেশার মেপে কখনও উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় করা উচিত নয়। কমপক্ষে পরপর তিন দিন প্রশান্ত মনে রক্তচাপ মাপার পর বলা যায় কে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। অফিসে বা চেম্বারের পরিবর্তে বাসায় বা অন্য যে কোনো স্থানে ১০ মিনিট ধরে ব্লাডপ্রেশার মাপা হলে তা চেম্বারে মাপার চেয়ে ৫-১০ মিমি. কম হতে পারে। দুশ্চিন্তা, সিগারেট, ব্যায়াম, অসহ্য গরম- এগুলো সাময়িকভাবে রক্তচাপ বৃদ্ধি করে।

রক্তচাপ মরণঘাতী রোগ। মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ, হার্ট অ্যাটাক এবং দুটি কিডনিই এ রোগে অকেজো হয়ে যেতে পারে। সময় মতো নিয়মিত ওষুধ খেলে এ রোগের জটিলতা কমে যায়। বয়স যত বাড়তে থাকে, রক্তচাপ ততই বৃদ্ধি পেতে থাকে। এটা স্বাভাবিক। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে ধমনির প্রসারণ ক্ষমতা কমে যায়। উচ্চ রক্তচাপ হলে যে ক’টি পরীক্ষা অত্যন্ত দরকারি, সেগুলো হলো প্রস্রাব পরীক্ষা, ইসিজি, বুকের এক্সরে, রক্তে সুগার, ইউরিয়া ও কোলস্টেরলের পরিমাণ মেপে নেওয়া।

উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হলে করণীয়-

অতিরিক্ত লবণ খাওয়া বাদ দিতে হবে, রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, সিগারেট ছাড়তে হবে। আর দুশ্চিন্তা যত কম করা যায় ততই ভালো। ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে রাখতে হবে। রক্তের কোলস্টেরল যাতে না বাড়ে, সে জন্য ডিম, মাখন, পনির, খাসির মাংস, গরুর মাংস এসব থেকে দূরে থাকতে হবে। শরীরে মেদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তচাপও বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই ওজন কমানো দরকার। আসল যে কাজটি করতে হবে, তা হলো নিয়মিত ওষুধ খাওয়া। আপনি যতদিন বেঁচে থাকবেন, হাইপারটেনশনও আপনার সঙ্গে থাকবে। সুযোগ পেলেই তা আপনাকে আঘাত করবে। তাই শত্রুকে তাড়াতে না পারলেও অন্তত বশে রাখতে হবে। কখনও কমপক্ষে ১০-১৫ দিন না দেখে নতুন ওষুধ বা ডোজ বাড়ানো উচিত নয়। আপনার কতটা ডোজ লাগবে তা নির্ণয় করবেন ডাক্তার। প্রেসার স্বাভাবিক হয়ে গেলেও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনও ওষুধ বন্ধ করবেন না। যারা প্রপ্রানালল জাতীয় ওষুধ খান, তারা যদি হঠাৎ করে ওষুধ খাওয়া বন্ধ কর দেন তবে তা মারাত্মক হতে পারে। কখনও যদি রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন হাইড্রালাজিন, ডায়াজোক্সাইড, সোডিয়াম নাইট্রোপ্রোসাইড, ট্রাইমিথাফেন ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এসব ওষুধ মুহূর্তে রক্তচাপ কমিয়ে আনতে পারে। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর যদি বমি বমি ভাব অথবা বমি হয়, বুকে ব্যথা হয় অথবা শ্বাসকষ্ট হয় তবে অবশ্যই তাকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। একবেলা খাবার না খেলে কিছুই হবে না; কিন্তু একবার ওষুধ না খেলে অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে।

হাইপারটেনশন মেয়েদের ক্ষেত্রে অন্তত তিনটি কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভধারণ, জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি এবং প্রি-একলাম্পশিয়ার জন্য। গর্ভবতী ও হাইপারটেনশন দুইভাবে হতে পারে। প্রথমত গর্ভবতী আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত এবং অপরটি গর্ভাবস্থায় প্রথম উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয়। উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত মহিলা যদি গর্ভধারণ করতে চায় তবে ডাক্তারের সঙ্গে আগেই পরামর্শ করতে হবে। কারণ গর্ভাবস্থায় সব রক্তচাপের ওষুধ ব্যবহার করা যায় না। গর্ভাবস্থায় হাইপারটেনশনের সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধ আলফা মিথাইল ডোপা। তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, দু-একটি বিটা ব্লকার, যেমন- এটিনলল গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের কোনো ক্ষতি করে না। গর্ভসঞ্চারের আগে ওষুধ বদলাতে হতে পারে। জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার কারণ হতে পারে। তাই যাদের বয়স ৩৫-এর বেশি, যাদের বংশে হাইপারটেনশন আছে অথবা যারা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত, তাদের কখনও জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি খাওয়া উচিত নয়। প্রি-একলাম্পশিয়ার তিনটি প্রধান উপসর্গের একটি হাইপারটেনশন। অনেক মহিলার গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ একটু বেশি থাকে। এর জন্য চিন্তার কোনো কারণ নেই। প্রসবের পর এদের রক্তচাপ আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। হাইড্রালাজিন দিয়েও গর্ভবতীর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

[সহযোগী অধ্যাপক জাতীয় হদরোগ ইনস্টিটউট ও হাসপাতাল]




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ