1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ১০:৪৩ আজ বৃহস্পতিবার, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি




নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ ওয়ালিউর রহমান রেজা

  • সংবাদ সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০
  • ৭০ বার দেখা হয়েছে

জহুরুল কাইয়ুম:

এক.
সহসাই দুঃসংবাদটা এলো ৯ মে ২০২০ সকাল বেলাতেই। আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সৎ ও সাধারণ জীবনাচরণে অভ্যস্ত নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ ওয়ালিউর রহমান রেজা। একাত্তরে গঠিত ১৭ সদস্যবিশিষ্ট গাইবান্ধা মহকুমা সংগ্রাম পরিষদের অবশিষ্ট বাতিটিও নিভে গেল। আমরা হারালাম মুক্তিযুদ্ধকালের রাজনৈতিক প্রজন্মের শেষ সদস্যকে। গত বছরের ১১ জুন তাঁর ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসায় তাঁর সাথে দীর্ঘ কথোপকথন হয় আমার। তাতে জেনে যাই মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতির অনেক কথা আর তাঁর জীবনের অজানা গল্প। গত ৪ মে শেষবারের মতো ফোনে কথা হয়। কুশলাদি বিনিময়ের পরে গাইবান্ধার খবরাখবর আর লেখালেখির প্রসঙ্গে। আর কখনও কথা হবে না কোনো বিষয় নিয়েই।

দুই.
ওয়ালিউর রহমান রেজার বর্ণাঢ্য জীবনের কিছুটা তুলে ধরার প্রয়াসে এই লেখা। শুরুতেই দেখে নিতে চাই মানুষ ওয়ালিউর রহমান রেজাকে। জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪০ খৃষ্টাব্দের ২ জানুয়ারি রংপুর শহরের মুন্সিপাড়ার মাতুলালয়ে। পিতা আজিজুর রহমান ছিলেন গাইবান্ধা ইসলামিয়া হাইস্কুলের খ্যাতিমান প্রধান শিক্ষক, মাতা মাহাতাবুন নাহার রংপুরের বিশিষ্ট কাজী পরিবারের সন্তান। পিতামহ আব্দুল কুদ্দুস মিয়া ছিলেন গাইবান্ধার সাঘাটা থানার পদুমশহর ইউনিয়নের দীর্ঘকালের পন্ঞ্চায়েত প্রেসিডেন্ট। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠতম। পিতার পেশাগত জীবন এবং ভাইবোনদের পড়ালেখার জন্যই তাঁরা গাইবান্ধা শহরের মধ্যপাড়ায় স্হায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এক উদার প্রগতিশীল পারিবারিক আবহে বেড়ে ওঠেন তিনি। পিতার সততা আর উদারতা এবং মেজ মামা কাজী মোহাম্মদ ইদরিসের অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল রাজনৈতিক আদর্শকেই তিনি চেতনায় ধারণ করেছেন।

মধ্যপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর পড়াশোনার সূচনা হয়। ষষ্ট শ্রেণিতে ভর্তি হন গাইবান্ধা ইসলামিয়া হাইস্কুলে। ১৯৫৫ খৃস্টাব্দে ওই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৫৭ খৃস্টাব্দে গাইবান্ধা কলেজ থেকে আই.এ এবং ১৯৬০ খৃস্টাব্দে কারমাইকেল কলেজ, রংপুর থেকে বি.এ পাশ করেন। ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। প্রায় একই সময়ে কৃষি বিভাগে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয় দুটোই ছাড়তে হয় অল্পদিনের মধ্যেই। ১৯৬৩ খৃষ্টাব্দে গাইবান্ধা ইসলামিয়া হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। কিন্তু দুই বছর শিক্ষকতার পর পাকিস্তান গোয়েন্দা বিভাগের বিরূপ প্রতিবেদনের কারণে শিক্ষকতাও ছাড়তে বাধ্য হন। তারপর থেকে রাজনীতি, সাংবাদিকতা আর সামাজিক কর্মকা-ে নিবেদিত ছিলেন তিনি।

তিন.
অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেন ওয়ালিউর রহমান রেজা। নবম শ্রেণির ছাত্রাবস্থায় ফুটবল খেলতে গিয়ে পা ভেঙে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে তখন রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা কমরেড জ্ঞান চক্রবর্তী। তাঁর সংস্পর্শে এসে রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। ১৯৫৩ খৃস্টাব্দে ভাষা সংগ্রামী আব্দুল মতিনের মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। ১৯৫৪ খৃস্টাব্দের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের কর্মী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৬ খৃস্টাব্দে গাইবান্ধা কলেজে অধ্যয়নকালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের গাইবান্ধা মহকুমা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং রংপুর জেলা কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ খৃস্টাব্দে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে কারমাইকেল কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬২ খৃস্টাব্দে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন পুণর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওই সময় রাজশাহীতে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ছাত্রদের কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। পরে সরকারি ছাত্র সংগঠন এনএসএফ – এর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে রাজশাহী ছাড়তে বাধ্য হন। ১৯৬৩ খৃস্টাব্দে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) তে যোগ দেন। তিনি দলের গাইবান্ধা মহকুমা কমিটির কোষাধ্যক্ষ এবং রংপুর জেলা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ খৃস্টাব্দে সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ) -এর প্রার্থী হিসেবে গাইবান্ধা পৌরসভার নির্বাচনে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর (কাউন্সিলর) নির্বাচিত হন। পরে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে নির্বাচনেগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ওই সময় গাইবান্ধার স্টেশন রোডে মোহাম্মদ খালেদ, ইউসুফুজ্জামান খাজাসহ বন্ধুরা মিলে ‘বইমেলা’ নামে বই বিক্রয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন যা পরে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়। ৬ দফা ঘোষণার পর ১৯৬৭ খৃস্টাব্দে শেখ মুজিবুর রহমান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার হলে দলের সংকটকালে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও আমেনা বেগম সাংগঠনিক সফরে গাইবান্ধা এলে খান আলী তৈয়ব, ওয়ালিউর রহমান রেজা, জামালুর রহমান প্রধান প্রমুখ ন্যাপ ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরবর্তীকালে তিনি আওয়ামী লীগের মহকুমা কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ খৃস্টাব্দে গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে গঠিত ডেমোক্রেটিক এ্যাকশন কমিটি (ডাক) এর মহকুমা কমিটির সদস্য ছিলেন। ওই বছরের শেষদিকে দলের রংপুর জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭০ খৃস্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে গাইবান্ধা সদর আসনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ খৃস্টাব্দের ১৪ ডিসেম্বর গণপরিষদের সদস্য হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সংবিধান অনুমোদনে স্বাক্ষর করেন। ১৯৭৩ খৃস্টাব্দে স্বাধীন দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে গাইবান্ধার সাঘাটা – ফুলছড়ি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৪ খৃস্টাব্দ থেকে আমৃত্যু দলের গাইবান্ধা জেলা কমিটির উপদেষ্টা এবং ২০০৫ খৃস্টাব্দ থেকে দলের জাতীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

চার.
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ওয়ালিউর রহমান রেজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ খৃস্টাব্দের মার্চ মাসের মধ্যভাগে গঠিত গাইবান্ধা মহকুমা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হন তিনি। ২৬ মার্চ গাইবান্ধা ওয়্যারলেস কেন্দ্রে আসা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক লুৎফর রহমান এমএনএ সহ সংগ্রহ করে শহরে প্রচারের ব্যবস্হা করেন। একাত্তরের ৩০ মার্চ তিনিই প্রথম গাইবান্ধা ছেড়ে রৌমারী চলে যান। উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করা। ৫ এপ্রিল ভারতীয় বিএসএফ-এর কয়েকজন অফিসার কুড়িগ্রামের এমএনএ সাদাকাত হোসেন ছকু মিয়া, নুরুল ইসলাম পাপ্পু এবং ওয়ালিউর রহমান রেজাকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে ঝিন্জিরা নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে দেখা হয় সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান ও শেরপুরের এমপিএ এ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানের সাথে। সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় আসামের ধুবড়ি শহরে এবং পরে রূপসা এয়ারপোর্টের কাছে একটা বাংলোয়। সবাই রাত কাটালেন সেখানে। পরের ঘটনা ওয়ালিউর রহমান রেজা বর্ণনা করেছেন এভাবে – ‘সকালে আমাদের এয়ারপোর্টে নিয়ে যাওয়া হলো। ছোট্ট একটা প্লেন বিকট শব্দে ল্যান্ড করলো। প্লেন থেকে নামলেন তাজউদ্দীন আহমদ, মনসুর আলী, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামসহ আরও দুয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। তাজউদ্দীন আহমদ নেমে আমাদের সঙ্গে কয়েকটি কথা বলে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও আব্দুল মান্নানকে আগরতলায় নিয়ে গেলেন। আমাদের বললেন তোমরা সকলকে খবর দাও স্বাধীন বাংলার সরকার গঠন হবে। সকল এমএনএ, এমপিএদের প্রস্তুত থাকতে বল। আমরা তাঁকে সাদা কাগজে সই দিয়ে দিলাম এবং বললাম আপনাদের সব সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব। আমরা তিনজন আবার রৌমারী সীমান্তে ফিরে এলাম।’ তারপর ওয়ালিউর রহমান রেজা মানকার চরে অবস্থান গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক প্রস্তুতি শুরু করলেন। ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুব শিবির খুলে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের তালিকাভূক্ত করে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠানো এবং পরে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা করার উদ্দ্যোগ নিলেন। ইতোমধ্যে গাইবান্ধার অন্যান্য নেতারাও পৌঁছে গেছেন। এক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশে তাঁকে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) এর দায়িত্ব নিতে হলো। কারণ রংপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান এমএনএ কে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গ্রেফতার করে। ওই দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁকে কুচবিহার চলে যেতে হলো। রংপুর জেলার পাটগ্রামের বুড়িমারী মুক্ত অন্ঞ্চলে ৬ নম্বর সেক্টরের হেডকোয়ার্টার প্রতিষ্ঠিত হলো। তিনি ৬ নম্বর সেক্টরে মুজিবনগর সরকারের সিভিল এ্যাফেয়ার্স এ্যাডভাইজারের দায়িত্ব পেলেন। তাঁকে মাসে দুবার কলকাতায় গিয়ে মুজিবনগর সরকারের হেডকোয়ার্টার থেকে যুব ক্যাম্প পরিচালনার ব্যয়ের অর্থ আনতে হতো। তিনি এই অর্থ অত্যন্ত সততার সাথে ব্যয় করতেন। এখানকার উদ্বৃত্ত অর্থ তিনি স্বাধীনতার পরে দেশে ফিরে মহকুমা প্রশাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা প্রদান করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তান সরকার ওয়ালিউর রহমান রেজার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনে ১৪ বছরের কারাদ- ঘোষণা করে এবং গাইবান্ধা সদরের প্রাদেশিক পরিষদের আসনটি শূন্য করে উপনির্বাচনের ঘোষণা দেয়।

পাঁচ.
গাইবান্ধার সামাজিক নানা কর্মকা-ের সাথে যুক্ত ছিলেন ওয়ালিউর রহমান রেজা। ১৯৫৬ খৃস্টাব্দে কাজী মোহাম্মদ ইদরিস সম্পাদিত ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার গাইবান্ধা সংবাদদাতা হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে রংপুরের সাপ্তাহিক উত্তর বাংলা -র সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭০ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি দৈনিক ইত্তেফাক, সাপ্তাহিক হলিডে, পাকিস্তান টাইমস-এর গাইবান্ধা সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ খৃস্টাব্দে রংপুর জেলা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও সমান সক্রিয় ছিলেন তিনি। গাইবান্ধার আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব, ব্রীজরোড স্পোর্টিং ক্লাব, মধ্যপাড়া ক্রীড়াচক্র-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সিওয়াইএসএ ক্লাবের সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৬৭ খৃস্টাব্দে মহকুমা ক্রীড়া সংস্হার সাধারণ সম্পাদক এবং রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্হার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ খৃস্টাব্দে রাজনৈতিক কারণে ওই পদ থেকে অব্যাহতি নেন। ১৯৬৭ খৃস্টাব্দে গাইবান্ধায় প্রতিষ্ঠিত চারুকলা সঙ্গীত বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯ খৃস্টাব্দে গাইবান্ধা মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন তিনি।

ছয়.
ওয়ালিউর রহমান রেজা জীবনের শেষ পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন লেখালেখিতে। তিনি পত্রপত্রিকায় লেখা দিয়ে শুরু করলেও বছরাধিককাল থেকে মুঠোফোনে অসীম ধৈর্য্য নিয়ে কষ্ট করে লিখেছেন নিয়মিত। মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি ছাড়াও গাইবান্ধার বিভিন্ন বিষেেয় তাঁর স্মৃতিচারণ আমাদের সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর প্রতিটি লেখাতেই মুখ্য হয়ে উঠতো দেশপ্রেম আর মানুষের প্রতি ভালবাসার কথা। দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর লেখাগুলোর মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ২০০৯ খৃস্টাব্দে ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত সিমিন হোসেন রিমি-কে দেয়া সাক্ষাৎকারভিত্তিক ‘তাজউদ্দীন ‘ শিরোনামের লেখাটি। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য উঠে এসেছিল সেই লেখায়। তাঁর মৃত্যুতে ছেদ ঘটলো আমাদের নতুন তথ্য প্রাপ্তির। তাঁর লেখাগুলো নিয়ে একটা বই প্রকাশের কথা মাঝেমাঝেই বলতাম। তিনি বলেছিলেন আগামী একুশে ফেব্রুয়ারির বইমেলার সময় সেটা হতে পারে। বইটি প্রকাশিত হলে আমাদের জন্য জানার সুযোগ বাড়বে। কিন্তু তিনি দেখতে পারবেন না তাঁর স্বপ্নের প্রকাশনা। সেটা আমাদের জন্য বেদনাদায়ক।

ওয়ালিউর রহমান রেজা ২০০৯ খৃস্টাব্দে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গাইবান্ধা জেলা সংসদ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দে বৈশাখী মেলা কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। গাইবান্ধা পৌরসভা গত ২০১৯ খৃস্টাব্দের বিজয় দিবসে স্কুল লেনের নাম পরিবর্তন করে ‘মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ওয়ালিউর রহমান রেজা সরণি’ নামকরণ করে তাঁকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেছে।

তিনি ৮১ বছর বয়সে মৃত্যুকালে স্ত্রী সুজাতা রহমান, পুত্র ওয়াসিউর রহমান তন্ময়, কন্যা ওয়াফি রহমান অনন্যা, নাতি- নাতনি, তিন ভাই এক বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর প্রিয় প্রতিষ্ঠান গাইবান্ধা ইসলামিয়া হাইস্কুল মাঠে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান ও জানাজার পর তাঁর ইচ্ছানুযায়ী গাইবান্ধা পৌরসভা গোরস্থানে পিতার কবরেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।

সবার মতো ওয়ালিউর রহমান রেজাও মৃত্যুকে এড়াতে পারেননি ঠিক, কিন্তু দেশমাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে অনন্য অবদান রাখার জন্য ইতিহাসে তিনি মৃত্যুন্ঞ্জয়ী হয়ে থাকবেন নিশ্চয়ই।

লেখক: জহুরুল কাইয়ুম: শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ