1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সন্ধ্যা ৭:০৮ আজ বৃহস্পতিবার, ১লা শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জুলাই, ২০২০ ইং, ২৫শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী




চোরকে চোর বলায় খুন হলেন রংপুরের এ্যাড. আসাদ

  • সংবাদ সময় : সোমবার, ৮ জুন, ২০২০
  • ১৯৭ বার দেখা হয়েছে

এম.এ জলিল, রংপুর প্রতিনিধি:
বহুল আলোচিত রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রবীন আইনজীবী ও সাবেক এপিপি আসাদুল হক ওরফে আসাদ এর নৃশংস হত্যায় জড়িত আসামী গ্রেফতার, হত্যায় ব্যবহৃত আলামত সংগ্রহ ও মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে আরপিএমপি পুলিশ। এঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে হত্যার সাথে জড়িত মূল আসামী রতন চোর।

এ ব্যাপারে আরপিএমপি তাজহাট থানায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানা যায় যে, গত ০৫ মে শুক্রবার অনুমানিক দুপুর ০১.২০ ঘটিকার সময় রংপুর তাজহাট থানাধীন ধর্মদাস বার আউলিয়া গ্রামস্থ এ্যাডভোকেট আসাদুল হক ওরফে আসাদকে নিজ বাড়িতে গলাও পেট কেটে হত্যা করা হয়। উক্ত সংবাদ প্রাপ্তীর পর হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানীত পুলিশ কমিশনার জনাব আলীম মাহমুদ বিপিএম মহোদয়ের নির্দেশে উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) জনাব কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান সাহেবের নেতৃত্ত্বে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) জনাব মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার পিপিএম সিটিএসবি সদস্যবৃন্দ, সহকারি পুলিশ কমিশনার (কোতয়ালী জোন) জনাব মোঃ জমির উদ্দিন তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ রোকোনুজ্জামানসহ থানার অন্যান্য অফিসারবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন সহ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। উক্ত তদন্ত টিম স্থানীয় জনগণের সহায়তায় হত্যার সাথে জড়িত আসামী মোঃ রতন মিয়াকে তাৎক্ষণিক ভাবে গ্রেফতার করেন। মৃত এ্যাডঃ আসাদুল হক ওরফে আসাদ নৃশংসভাবে হত্যা হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল ইসলাম মৃত দেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করিয়া মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তদন্ত টিম গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ রতন মিয়া (৩০) পিতা-মৃত জাফর, মাতা-মোছাঃ মোরশেদা বেগম, সাং-ধর্মদাস বার আউলিয়া, থানা-তাজহাট, রংপুর মহানগর, রংপুরকে লইয়া বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীর হেফাজত হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু, মৃত এ্যাডঃ আসাদুল হকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও তার ঘরের ড্রয়ার হইতে চুরি যাওয়া ৭,৩১৭/-টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। এছাড়াও ধৃত আসামী রতন মিয়ার পড়নে থাকা রক্ত মাখা ফুলহাতা শার্ট ও ট্রাউজার জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ রতন মিয়াকে হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় যে, প্রায় ৩/৪ বছর পূর্বে ভিকটিমের বাড়িতে সে ২/৩ বার চুরি করেছিল। সেই সময় একবার ২২,০০০/-টাকা এবং স্বর্ণ অলঙ্কার চুরি করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে চুরি সংগঠিত হলে মৃত এ্যাডঃ রতন মিয়াকে সন্দেহ করত এবং তার সহিত দেখা হলে চুরি সংক্রান্ত বিষয়ে নানা ধরণের কথাবার্তা বলত। ঘটনার দিন ভিকটিম নিজ বাড়ি হতে মডার্ণ মোড় যাওয়ার পথে গ্রেফতারকৃত আসামীর রতন মিয়ার সাথে রাস্তায় দেখা হলে তাকে খারাপ ভাষায় গালি দেয়। সে সময় সে কোন উত্তর না দিয়ে বাসায় চলে আসে। অতঃপর গ্রেফতারকৃত আসামী রতন মিয়া নিজের বাসায় এসে এ্যাডভোকেট সাহেবের বাসায় চুরি এবং তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। উক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী সে নিজ বাড়ি হতে ধারালো চাকু নিয়ে এ্যাডভোকেট সাহেবের বাড়িতে অবস্থান করতে থাকে। সে বাড়িতে প্রবেশ করে এ্যাডভোকেট সাহেরের ঘরের ড্রয়ার থেকে ৭,৩১৭/-টাকা চুরি করে এবং তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এ্যাডভোকেট সাহেব বাড়িতে প্রবেশ করে নিজ শয়নঘরে প্রবেশ করা মাত্রই রতন মিয়াকে দেখে ফেলে। এ্যাডভোকেট সাহেব তখন চোর চোর বলে চিৎকার করে রতন মিয়ার নাম বলতে থাকলে আসামী রতন তাহার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে প্রথমে তার পেটে বেশ কয়েকবার মারাত্বক ভাবে আঘাত করে। সেই সময় এ্যাডভোকেট সাহেব আরও জোরে চিৎকার করতে থাকলে তার হাতে থাকা চাকু দিয়ে তার গলায় মারাত্বক ভাবে আঘাত করিয়া মৃত্যু নিশ্চিত করে। সেই সময় আশে পাশের লোকজন এবং তাজহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হত্যাকান্ডে জড়িত আসামী পালানোর সময় তাকে রক্ত মাখা অবস্থায় হাতে-নাতে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী রতন মিয়াকে গত ০৬ মে শনিবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ্দ করলে সে হত্যার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এছাড়াও উক্ত মামলার এজাহারনামীয় ২ নং আসামী সাইফুল ইসলাম (২৪) পিতা- মনির মিস্ত্রি গ্রাম সদ্য তামপাট আদর্শ পাড়া, তাজহাট থানা রংপুর কে গত ০৬ মে শনিবার গ্রেফতার করা হয়। তার বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে।
বহুল আলোচিত হত্যা মামলাটি সুষ্ঠু ও নিরলস তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন আছে।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ