1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় বিকাল ৪:৪৮ আজ বৃহস্পতিবার, ২৫শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই জুলাই, ২০২০ ইং, ১৮ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী




ছোটদের বিশ্বকবি

  • সংবাদ সময় : শনিবার, ৬ জুন, ২০২০
  • ৩৩ বার দেখা হয়েছে

মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর:

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিশ্বকবি খ্যাত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ই মে ১৮৬১ মোতাবেক ২৫শে বৈশাখ ১২৬৮/৭ই আগস্ট ১৯৪১ মোতাবেক ২২শে শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) কলকাতার এক ধনাঢ্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক ভাবে তিনি সংস্কৃতিবান ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান ছিলেন। কবি বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয়ে যাননি। গৃহশিক্ষকের তত্বাবধানে বাড়িতেই শিক্ষা লাভ করেছেন। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় তার প্রথম “অভিলাষ” কবিতাটি প্রকাশিত হয়। কবি বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও প্রচুর লিখেছেন।

সাহিত্যের বিচরণ অনেক বিস্তৃত। সুবিস্তৃত এই ফসিল জমিনে শিশুতোষ ভাবনাও একটি বিশেষ পাঠ্য। বিশ্বের প্রায় সকল কবি সাহিত্যিকেরাই ছোটদের জন্য অবদান রেখে গেছেন এবং বর্তমানেও রাখছেন। ক্রমাগত সময়ে এধারা চলমান থাকবে। শিশুসাহিত্যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও রেখেছেন অসামান্য অবদান। কবির ছড়া সাহিত্যে রেখে যাওয়া ভাবনার কিছুটা তুলে ধরছি।

বিশ্বকবি শিশুদের নিয়ে অনেক ভেবেছেন। নিজের শিশুসত্বার অতীত থেকে উপাদান আহরণ করেছেন তিনি। কবি ছোটদের আলোর সন্ধান দিতে চেয়েছেন। আলোর নাচনের দোলায় নাচতে পথ দেখিয়েছেন। এই আলো দিয়েই ভালোর সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করেছেন ছোটদের। আলোর বানে প্রাণে বুনতে বলেছেন সত্যের বীজ। কবির ভাষায়-
আলো আমার, আলো ওগো, আলো ভুবন-ভরা,
আলো নয়ন-ধোওয়া আমার, আলো হৃদয়-হরা।

কবি মল্লিকা মালতীর মতোই শিশুদের আলোর ঢেউয়ে নাচতে দেখেছেন। কবির ভাষায়-
আলোর স্রোতে পাল তুলেছে হাজার প্রজাপতি
আলোর ঢেউয়ে উঠল নেচে মল্লিকা মালতী।
(আলো আমার আলো)

কবি শিশুদেরকে সোনা আর মানিক ভেবেছেন। যা গুনে গুনে শেষ করা যায় না। এরা ধরার পাতায় পাতায় রাশি রাশি হাসির পুলক ছড়ায়। নদীতে এরা বয়ে চলে কুলুকুলু ছন্দে। এরা নদীর ছন্দে ছন্দে সুধা ঝরায়। কবির স্বপ্ন বলে কথা! কবির স্বপ্ন সত্যি হোক সেই কামনাই করি।

কবি শিশুদের মনের আকুতি বোঝেন। ভাবেন ছোটদের ইচ্ছামতীর কথা। শিশুদের সূর্য-নদীর সাথে খেলার স্বপ্ন আঁকেন ছড়া-কবিতায়। কবির ভাষায়-
যখন যেমন মনে করি
তাই হতে পাই যদি
আমি তবে এক্ষনি হই
ইচ্ছামতী নদী। (ইচ্ছামতী)

কবি শিশুদের দিন ও রাতের সাথে কথা বলার আকুতি খুঁজে পান কবিতার পরতে পরতে। ছড়ার ছন্দ মালায়। ছড়ার ডালিতে। কবির ভাষায়-
আমি কইব মনের কথা
দুই পারেরই সাথে
আধেক কথা দিনের বেলায়
আধেক কথা রাতে। (ইচ্ছামতী)

কবি দেশকে নিয়ে ভাবেন। ভাবেন দেশের মাটি ও মানুষকে নিয়ে। কবির ভাবনা সুদূরে। কবি নিজের জন্মভূমিকে মায়ের সাথে তুলনা করেছেন। কবির ভাষায়-
সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে
সার্থক জনম, মা গো, তোমায় ভালোবেসে। (সার্থক জনম আমার)।

কবি তার দেশের ধন সম্পদকে রানীর মত করে ভেবেছেন। এদেশের গাছের ছায়ায় এসে কবির অঙ্গ জুড়ায়। কবির ভাষায়-
জানি নে তোর ধনরতন আছে কি না রানীর মতন,
শুধু জানি আমার অঙ্গ জুড়ায় তোমার ছায়ায় এসে। (সার্থক জনম আমার)।

আমরা জানি দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। সবুজ শ্যামল মায়ায় ঘেরা আমাদের এই দেশ বাংলাদেশ। এদেশের ফুল, পাখি, নদী-নালা, খাল-বিল, চাঁদ-সুরুজ বন-বাদারের সবকিছুই আমাদের আকুল করে। আপনার করে কাছে টানে। হৃদয়ের একটি পাশে আপনার করে ভাবতে শেখায়। শিশুরা যাতে জীবন চলার শুরু থেকেই দেশ প্রেমের জন্য প্রস্তুত হতে পারে কবির চাওয়া তাই। কবির আশার বাতিঘর এখানেই। আমরাও আমাদের দেশকে আপনার করে ভালোবাসব। দেশের কল্যাণে কাজ করব।

দেশ নিয়ে শত্রুতা করে অনেকেই। এদেশের স্বাধিনতা অনেকের কাছেই ভালো লাগেনা। ‘যে দেশে জন্ম সে দেশ নিয়েই শত্রুতা’ কবি সেটা মেনে নিতে পারেননি। কবির ভাষায়-
কেঁচো কয়, নিচ মাটি, কালো তার রূপ।
কবি তারে রাগ করে বলে, চুপ চুপ!

কবি দেশদ্রোহীদেরকে ঘৃণা করেন। ওদেরকে কীট ভাবেন! কবির চিন্তায় ওরা অমানুষ। ওদের চরিত্র কালিমায় ভরা। ওদের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন কবি। কবি ওদেরকে চুপ করতে বলেছেন। কবির ভাষায়-
তুমি যে মাটির কীট, খাও তারি রস,
মাটির নিন্দায় বাড়ে তোমার কি যশ!
(স্বদেশদ্বেষী)

সময় মানুষের জীবনে এক অমূল্য সম্পদ। সময় জ্ঞান নাই যাদের তারা জীবনে সফল হতে পারে না। জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিজয়ী হতে হলে সময়ের স্বদব্যবহার করতে হবে। শিশুরা সময় সচেতন হবে না, সময়ের সদ্ব্যবহার করতে শিখবে না এমনটি কোন কবিই আশা করেন না। তাই সময়ের ব্যাপারে শিশুরা যাতে সচেতন হতে পারে সেদিকেও নজর দিয়েছেন বিশ্বকবি। হাস্যচ্ছলে ছোটদের সচেতন করেছেন সময়ের ব্যাপারে। কবির ভাষায়-
যত ঘন্টা, যত মিনিট, সব আছে যত
শেষ যদি হয় চিরকালের মতো,
তখন স্কুলে নেই বা গেলেম; কেউ যদি কয় মন্দ,
আমি বলব, ‘দশটা বাজাই বন্ধ।’
(সময়হারা)

বিপদ-আপদ মানুষের জীবনের নিত্যসঙ্গী। জীবন চলার পথে বিপদ আসবে এটা স্বাভাবিক। তাই বলে কী ভেঙে পরবে শিশুরা? ওরা কী হতাশায় ভুগবে? নাকি সাহসী ভুমিকা নিয়ে এগিয়ে যাবে সামনে! দুঃখকে করতে হবে জয়। বিজয়ের মালা পরতে হবে গলায়। স্বপ্ন বীজ বুনতে হবে মানুষের হৃদয় জমিনে। হৃদয়ের গহীণে। কবির ভাষায়-
বিপদে মোরে রক্ষা করো
এ নহে মোর প্রার্থণা
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।
দুঃখতাপে ব্যাথিত চিতে
নাই-বা দিলে সান্তনা,
দুঃখ যেন করতে পারি জয়।
(আত্নত্রাণ)

পরের জন্য ভালো অনেক কিছুই করতে হবে। অন্যের ক্ষতি করতে নেই কিছুতেই। সৃষ্টিকর্তা যেমন সবাইকে ভালোবাসেন, কারও ক্ষতি করেন না তিনি, ঠিক তেমনি কবিও ছোটদেরকে পরের কল্যাণে কাজ করতে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করেছেন। অন্যের জন্য কিছু করতে হলে নিজের জীবনে ক্ষতি হতেই পারে। এটাকে কবি মেনে নিতে অনুপ্রাণিত করেছেন। কবির ভাষায়-
এই করেছ ভালো, নিঠুর,
এই করেছ ভালো।
এমনি করে হৃদয়ে মোর
তীব্র দহন জ্বালো। (এই করেছ ভালো)

একজন কবি স্বপ্ন দেখেন ভবিষ্যতের। ভালো কিছু করতে চান কবিরা। কবিদের চেতনায় স্বপ্নের বীজ বোপিত হয়। আর সেই বীজ থেকেই অংকুরিত হয় সুবিশাল বটবৃক্ষ। যে বৃক্ষের ছায়ায় এসে প্রশান্তি পায় হাজারো পিপাসিত পথিক। একটু জিড়িয়ে নেয় বটবৃক্ষের ছায়ায় বসে। পথিক আবার ফিরে চলে নিজের গন্তব্যের পানে। অনাগত মঞ্জিলপানে। কবি অনাগত শিশুদেরকেও বটবৃক্ষের মতো করেই গড়ে ওঠার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বীরের বেশে ওরাই ফুল ফুটাবে জনতার মাঝে। স্বপ্নভাঙ্গা অসহায়দের পাশে সোনার তরী ভিরাবে শিশুরাই। ওরা স্বপ্ন পাখি। কবির ভাষায়-
হাতে লাঠি মাথায় ঝাঁকড়া চুল,
কানে তাদের গোঁজা জবার ফুল।
আমি বলি, ‘দাঁড়া খবরদার!
এক পা কাছে আসিস যদি আর-
এই চেয়ে দেখ আমার তলোয়ার,
টুকরো করে দেব তোদের সেরে।’
শুনে তারা লম্ফ দিয়ে উঠে
চেঁচিয়ে উঠল,’হা রে,রে রে রে রে।’
(বীর পুরুষ)

আজকে আমাদের সমাজে অনেক খারাপ কাজ সংগঠিত হচ্ছে। অন্যের হক নষ্ট হচ্ছে অহরহ। আগের মতো করে গরীব-অসহায়দের পাশে দাঁড়াবার কেউ নেই যেন। তাই আজকের ছোটদেরকে এগিয়ে আসতে হবে সত্যের আহবানে। সততার জয়গানে গেয়ে উঠতে হবে বিজয়ের গান। সাম্যের সমাজ গঠনে আমাদের পথচলা করতে হবে আরো শানিত। আরো বেগবান হতে হবে আমাদের উদ্যোগী ভুমিকা। জয়হোক শিশুকিশোরদের। বিশ্বকবি রবী ঠাকুরের,’বীর পুরুষেরা’ জেগে উঠুক আপন স্বত্তায়। নিজস্ত প্রতিভায়। জাতি গঠনে আবারো শিশুরা এগিয়ে আসুক আপনার করে। একান্ত নিজের করে। ওদের প্রচেষ্টায় শান্তির নিবাস হোক আমাদের এই ঝঞ্জা-বিক্ষুব্ধ বসুন্ধরা।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ