1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সকাল ৮:১৬ আজ বৃহস্পতিবার, ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি




করোনায় আড়ালে পড়েছে ডেঙ্গু হচ্ছে না পরীক্ষা মশা নিধনেও গতি নেই

  • সংবাদ সময় : বুধবার, ১৩ মে, ২০২০
  • ১৩৯ বার দেখা হয়েছে

ঢাকা অফিস: করোনার আড়ালে অনেকটাই চাপা পড়ে আছে অন্য সব রোগের প্রাদুর্ভাব। কোনো ধরনের অসুস্থতা উপলব্ধ হলেই উৎকণ্ঠা বেড়ে যায় কেবল করোনাভাইরাস নিয়ে। গত বছর ডেঙ্গু নিয়ে যেভাবে তোলপাড় ছিল এবার সেই অনুপাতে তোড়জোড় নেই। এমনকি ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম বা প্রস্তুতি নিয়েও মানুষের মধ্যে তেমন সতর্কতামূলক কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না; যদিও থেমে নেই মশার দাপট। আগের মতোই মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ মানুষ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার আড়ালে ডেঙ্গুর কথা ভুলে গেলে চলবে না, বরং করোনার মধ্যেই গতবারের মতোই বাড়তি বিপদ বয়ে আনতে পারে ডেঙ্গু; যা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে করোনা শনাক্তকরণে যে পরীক্ষা হচ্ছে তার মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ করোনা পজিটিভ হলেও বাকি ৮৯ শতাংশের করোনা না হলেও কী সমস্যা ছিল সেটা আর পরীক্ষা বা মনিটরিং হচ্ছে না। এই বিশালসংখ্যক মানুষের মধ্যে কারো ডেঙ্গু ছিল বা আছে কি না সেটাও দেখা হচ্ছে না, যা বিপজ্জনক বলে মনে করছেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে গত বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। আর ২৭৬ জনের মৃত্যুর তথ্য সরকারের পর্যালোচনা কমিটির কাছে আসে। ওই তথ্যগুলোর সব পর্যালোচনা শেষে ১৭৯ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

একই সূত্র অনুসারে গত ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট ২৯৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাদের মধ্যে একজন বাদে বাকি সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে আক্রান্ত হয় ১৯৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৫ জন, মার্চে ২৭ জন, এপ্রিলে ২৫ জন ও চলতি মাসে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩ জন। এই পরিসংখ্যান থেকে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, যাদের করোনা নেগেটিভ হচ্ছে তারা নিশ্চিতে বাসায় থাকছে পরিস্থিতি বেশি মাত্রায় জটিল না হওয়া পর্যন্ত। তাদের মধ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আছে কি না সেটা এবার আর পরীক্ষা করাচ্ছে না অনেকেই। আবার করোনার ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে না। আবার হাসপাতালে করোনার প্রভাবে অন্যদের চিকিৎসায় সমস্যা হচ্ছে বলেও অনেকে হাসপাতালে যাচ্ছে না। আর গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে একজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. শাহনীলা ফেরদৌসী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সবাই ব্যস্ত থাকলেও ডেঙ্গুর কথা ভুলে গেলে চলবে না। তাই আমরা করোনা মোকাবেলায় কার্যক্রমের মধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী স্বাস্থ্য বিভাগীয় সতর্কতা জারি করেছি। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় যোগাযোগ করে তাদের করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সব সময় সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু টেস্টের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব জেলা ও উপজেলায় ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট পাঠানো হয়েছে। এই কিটের কোনো অভাব নেই। বাড়তি আরো দুই লাখ কিট সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য বিভাগের বাইরেও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তাদের এডিস মশা নিধনে তাগিদ দিচ্ছি এবং প্রয়োজনমতো আমরা কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি।’

করোনায় আক্রান্তরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওই পরিচালক বলেন, ‘আমরা সব হাসপাতাল ও ল্যাবগুলোতেও নির্দেশনা পাঠিয়েছি করোনাভাইরাস পজিটিভ হওয়ার রোগীর মধ্যে ডেঙ্গু আছে কি না তা পরীক্ষার জন্য। এই কাজ চলছে। এ ছাড়া পরীক্ষার মাধ্যমে যে ৮৯ শতাংশের ফলাফল নেগেটিভ আসছে তাদের ভেতর কারো ডেঙ্গু আছে কি না সেটা কিভাবে খুঁজে বের করা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে।’ যদিও তিনি বলেন, করোনার উপসর্গ আর ডেঙ্গুর উপসর্গ পার্থক্য আছে। করোনায় সামান্য জ্বর আর ডেঙ্গুতে জ্বর অনেক বেশি থাকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সব হাসপাতালেই তথ্য ফরম পাঠিয়ে রেখেছি। আমরা প্রতিদিন ফোনে খোঁজ নিচ্ছি। কিন্তু এখন হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী নেই। মাঝেমধ্যে দু-একজন ভর্তি হয়। এখন যেমন মাত্র একজন হাসপাতালে আছে।’

এদিকে গত ৯ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রস্তুতি নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সারা দেশে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে গতবার চালু করা ডেঙ্গু কর্নার সক্রিয় রাখা এবং সেখানে দায়িত্ব পালনের জন্য মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উপব্যবস্থাপক ডা. আফসানা আলমগীর খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে টিম করে এলাকায় এলাকায় এডিসের প্রজননকেন্দ্রিক যে ঘাঁটিগুলো আছে সেগুলোতে যাব। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে সারা দেশে মাইকিং করে মানুষকে মশার প্রজননক্ষেত্র উচ্ছেদে উদ্বুদ্ধ করা হবে।’

বিশেষজ্ঞরা জানান, ডেঙ্গুর উৎস ধ্বংস করা না গেলে করোনার মতোই পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে দেশকে। বিশেষ করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে হলে এখন থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে। কিন্তু সেই কাজ এখনো চোখে পড়ছে না।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক (সচিব পদমর্যাদার) ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনা আছে বলে ডেঙ্গু আসবে না, তা ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং করোনার মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব যদি গতবারের মতো হয় তাহলে কিন্তু  মারাত্মক পরিণতি হবে। সেদিকে নজর রেখেই সবাইকে সক্রিয় থাকা দরকার এডিসের উৎস্য নিধনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ডিসেম্বর ও মার্চে দুই দফা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় জরিপে প্রায় একইভাবে এডিসের ঘনত্ব দেখা গেছে। জরিপে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট, ছোট আকারের ব্যক্তিগত বাড়ি, বিভিন্ন হাউজিং কম্পানির বড় বড় নির্মানাধীন ভবন, প্লাস্টিকের ড্রাম, পানির ট্যাংক, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণাধীন ভবনের জলাবদ্ধ মেঝে, ধাতব ড্রাম, ফুলদানি, সেলুনের ব্যবহৃত বিশেষ পাত্র, মগ ও ঘরে ব্যবহৃত অন্যান্য পাত্রেও লার্ভার অবস্থান পাওয়া যায়।

ডা. আফসানা আলমগীর খান জানান, ওই কর্মকর্তা জানান, প্রাক-মৌসুম হিসেবে গত ৫ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিন ঢাকার দুই মহানগরের ৯৮টি ওয়ার্ডের ১০০টি স্থানের দুই হাজার ৯৯৬টি বাড়িতে এডিস মশার ঘনত্ব জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে এডিস মশার ঘনত্ব তাত্ক্ষণিকভাবে কম পাওয়া গেলেও প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায় আগের মতোই।

এ ক্ষেত্রে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বসূচক তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ১৫, ১৬, ১৮, ২৮, ৪১ ও ৫১ ওয়ার্ডগুলোতে এডিসের ঘনত্ব বেশি মিলেছে।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ