1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সকাল ৯:১৪ আজ রবিবার, ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি




৯২ শ্রমিক ফুলছড়ির ব্রহ্মপুত্র চরে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে

  • সংবাদ সময় : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০
  • ২৬১ বার দেখা হয়েছে

ফুলছড়ি প্রতিনিধি:
নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ থেকে নৌপথে গাইবান্ধায় আসা ৯২ শ্রমিককে ফুলছড়ি উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠানে  কোয়ারেন্টিন করেছে ফুলছড়ি উপজেলা প্রশাসন।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু রায়হান দোলন জানান, নারায়নগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ থেকে দুটি নৌকায় শ্রমিকেরা বাড়ি ফিরছিলো। তারা ফুলছড়ি ও ফজলুপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। গতকাল রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সংবাদ পেয়ে ওসি কাওছার আলী ও একটি স্বেচ্ছাসেবক টীম নৌকা দুটি সাঘাটা উপজেলা ব্রহ্মপুত্র নদের সিমান্ত পার হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণে নেন। শ্রমিকদের মধ্যে ৬৪ জনকে টেংরাকান্দি এম.এ সবুল দাখিল মাদ্রাসা ও ২৮জনকে খাটিয়ামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোয়ারেন্টিন রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েক সহ¯্রাধিক বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজে নিয়োজিত আছে। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বেকার হয়ে পড়ে। এসব বেকার লোকজন রাতের-আধারে নৌপথে নৌকা যোগে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। গতকাল রাতে ফুলছড়ি উপজেলা প্রশাসনের কাছে খবর আসে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে দুইটি নৌকা যোগে চরাঞ্চলীয় ফুলছড়ি ও ফজলুপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু মানুষ বাড়ি ফিরছে। এরপর থেকেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু রায়হান দোলন তৎপর হয়ে উঠেন। ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, ফুলছড়ি থানার ওসি কাওছার আলী, ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্ডল সহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে তিনি নৌপথ টহল দিতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের বহন করা নৌকা দুইটি ব্রহ্মপুত্র নদের সাঘাটা উপজেলার সীমানা পার হলে ফুলছড়ি প্রশাসন নৌকা দুটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এরপর থানা পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় ফুলছড়ি ইউনিয়নের ৬৪ জনকে টেংরাকান্দি এম.এ সবুর দাখিল মাদ্রাসায় ও ফজলুপুর ইউনিয়নের ২৮ জনকে খাটিয়ামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
ফুলছড়ি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা ও স্বেচ্ছাসেবক মনোয়ার হোসেন বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন নয়। করোনা ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় এসম্পর্কে তারা খুব একটা জানেন না। সংক্রমিত কেউ গোপনে এলাকায় এসে মানুষের সংস্পর্শে এলে ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই স্বেচ্ছাসেবকরা শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউএনও মহোদয় অবগত করে এবং শ্রমিকদের রাখার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন প্রস্তুত করতে সহায়তা করে। এবিষয়ের স্থানীয় একজন বাসিন্দা আব্দুল লতিফ জানান, যাদের কে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে তাদের সেভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কিংবা খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে না। যেখানো রাখা হয়েছে সেটিও কোয়ারেন্টাইন উপযোগী না বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্ডল জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপরেও যদি নতুন করে কেউ এলাকায় আসে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।
বাড়ি ফেরত শ্রমিকদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু রায়হান দোলন বলেন, সংক্রমিত এলাকা থেকে লোকজন আসার খবর পেয়ে থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে সারা রাত চরাঞ্চলে অবস্থান করে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন প্রস্তুত করি। বৃহস্পতিবার ভোরে শ্রমিকরা নৌকা যোগে ঘাটে ফিরলে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় দুইটি স্থানে ৯২ জনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়। কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষগুলোর খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ