1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় বিকাল ৩:০৯ আজ বুধবার, ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি




দুঃসময়ের দিনগুলো

  • সংবাদ সময় : মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২০
  • ১৮৩ বার দেখা হয়েছে

আফতাব হোসেন;
দিন যতই যাচ্ছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে।  গত ৮ মার্চ  প্রথম দেশে তিনজন রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। শুরুতে বিদেশফেরত ও তাদের স্বজনদের মধ্যে এই সংক্রমণ সীমাবদ্ধ থাকলে গত শনিবার রাজধানীতে একব্যক্তির মৃত্যুর পর সংশ্নিষ্টরা ধারণা করছেন, ভাইরাসটির কমিউনিটি ট্রান্সমিশন অর্থাৎ স্থানীয় পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে।  যেহেতু মিরপুরে মৃত ব্যক্তি বিদেশফেরত ছিলেন না কিংবা তার কোনো স্বজনও বিদেশ থেকে ফেরেননি। ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকায় হাসপাতালের এক চিকিৎসক আক্রান্ত  হয়েছেন। এ চিত্র থেকে বলা যায়, রোগটির কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ দেশের জন্য ‘পিকটাইম’ বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ভাইরাসটি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এঅবস্থা চলতে থাকলে আমাদের মতো দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে তার হিসাব মেলানো অনেকটাই কঠিন। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো এই ব্যাধি মোকাবেলায় যেখানে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন সেখানে আমাদের মতো দেশের খাদ্য, স্বাস্থ্য,অর্থনীতিসহ বিভিন্ন দিকগুলো শেষ পরিনতি কি হবে এরজন্য অব্যশই অপেক্ষা করতে হবে। আর করোনার প্রভাবে আগামীদিনের দুঃসময়ের চিত্র কি হবে তা স্পষ্টই বোঝা যায় এসব মানুষের মুখ থেকেই-
গাইবান্ধার ফুলছড়ি টেংরাকান্দি চরের জিয়াউর রহমান, গাজীপুরের একটি গ্রার্মেন্টস্ শিল্পে কাজ করেন। সামান্য বেতনে স্ত্রী, দু’সন্তান নিয়ে একটি বাসাতেই ভাড়া থাকতেন। কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় তিনদিন আগে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। চলতি মাসের বেতনভাতাও পাননি। কোনদিন প্রতিষ্ঠানটি চালু হবে কিংবা বকেয়া বেতন পাবেন কি-না তা প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা সম্ভব হয়নি। আর বর্তমান পেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলাও মুশকিল। সাঘাটার কালুরপাড়া গ্রামের মোগল মোল্লা, রিক্সা চালিয়ে সংসারের ব্যয়ভার মেটান, কিন্তু ঢাকা শহর জনশুণ্য হওয়ায় তিনিও বাড়িতে চলে এসেছেন। ঢাকার কাপ্তান বাজারে মুদি ব্যবসা করতে আফছার আলী, দু’মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনিও সাঘাটা বাজারে এক আত্মীয়ও বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। একই এলাকার রাজমিস্ত্রি মজিবর রহমান। তিনি প্রতিদিন ১৫-২০জন শ্রমিক নিয়ে কাজ করতেন। অথচ ২দিন হলো তারা কাজকর্মহীন। পরিস্থিতি-আতংকে বাড়ি-ঘর নির্মানের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বাড়ির মালিকেরা।
কথা হয় সাঘাটা থেকে গাইবান্ধা রোডে সিএনজি চালক, মোস্তাক আহম্মেদ এর সাথে। তিনি জানান, প্রতিদিন এই রোডে চারবার যাতায়াত করতাম, কিন্তু গত তিনদিন ধরে একবারেও বেশি যাতায়াতে যাত্রী পাচ্ছিনা।
গাইবান্ধার সিএনজি স্টান্ডের চা ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, সিএনজি স্টান্ডে লোকজন শুণ্য হওয়ায় চা বিক্রি প্রায় বন্ধ, এভাবে কতদিন চলবে তা নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় তিনি।
শ্রমজীবী মানুষের আগামা কষ্টের কথার সাথে আমিও শংকিত। কি হবে! কতদিন পরেই বা স্বাভাবিক হবে দেশ ও বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি। অবশ্যই আমার সাথে আপনিও উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আছেন, থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। কেননা যেখানে জীবন-মরন সমস্যা সেখানে কার কি করার আছে তা আমাদের ভাবিয়ে তোলে। এমন পরিস্থিতে দেশের অন্যতম বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) এর নির্বাহী প্রধান এম.আবদুস্ সালাম জানান, পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগের। করোনার প্রভাব শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবনমান,  জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে কতটুকু ক্ষতি করে তা এই মুহুর্তে বলা মুশকিল।  করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেকার হয়ে ও গৃহবন্দী থাকা  মানুষজনকে নিয়েও সবাইকে ভাবতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার পরামর্শ দেশ বরেণ্য এই সমাজ কর্মীর। আবার গ্রামের কৃষি শ্রমজীবী, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কল-কারখায় সাথে সম্পৃক্তদের কাজও ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে। আর দু’চারদিন হয়তো এসব মানুষ নিজেদের জমানো অর্থে সংসারের ব্যয়ভার চালাতে পারবেন; এরপর কি, কোথায় যাবেন?  কে সহায়তার হাত বাড়াবেন এত বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য! আবার কৃষি উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্তরা তাদের পণ্য বিক্রিতেও বাঁধাগ্রস্ত হবেন এতে করে চাষীরাও নায্যমূল্য পাবেন না। আবার স্থানীয়ভাবে কিছু পণ্য হাতের নাগালে থাকলেও ক্রয় ক্ষমতা থাকবে না। এতে করে খাদ্য সংকটের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকটও দেখা দিবে।
তবে আশার কথা হলো বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ঘোষনা দিয়েছেন,অতিদরিদ্র- দরিদ্রদের সহায়তায় সরকার পাশে আছে এবং থাকবে। এজন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। আমি মনে করি, যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি মানবিক দাতা সংস্থাগুলো এগিয়ে আসে সহায়তার জন্য। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানদের ভাবতে হবে এবং  এখন থেকেই পরিকল্পনাগ্রহণ করতে হবে সমাজের শ্রমজীবী, দরিদ্র, অসহায় পরিবারের মানুষজনকে নিয়ে-যাতে করে পরিস্থিতি থেকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ