1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় দুপুর ১:২৩ আজ বুধবার, ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি




সুষম উন্নয়ন সূচকে ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ

  • সংবাদ সময় : বৃহস্পতিবার, ১ নভেম্বর, ২০১৮
  • ১৭৫ বার দেখা হয়েছে

আফতাব হোসেন:

বিশ্বের উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর সুষম উন্নয়ন সূচকে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে অনেক এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। মানবসম্পদ উন্নয়নে এগিয়ে থাকার পর ক্ষুধা দূর করার ক্ষেত্রেও ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়েছে বাংলাদেশ। ক্ষুধা দূরীকরণে গত বছরের তুলনায় দুইধাপ অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। বিশ্বের ১১৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এবার ৮৬তম, গত বছর ছিল ৮৮তম। ‘বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক-২০১৮’ তে এ তথ্য মিলেছে। যৌথভাবে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড’ ও জার্মানভিত্তিক সংস্থা ‘হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড’।  সম্প্রতি, প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ক্ষুধার সংজ্ঞা নির্ধারণে চারটি সূচককে আমলে নেয়া হয়েছে। অপুষ্টি, খর্বাকৃতি শিশুর সংখ্যা, কৃশকায় বা শীর্ণকায় শিশু ও শিশু মৃত্যুর হার। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ পিছিয়েছে ভারত; গত বছর ভারতের অবস্থান ছিল ১০০ নম্বরে, এবার ১০৩ নম্বরে। ভারতের চেয়েও তিন ধাপ পেছনে ১০৬ নম্বরে রয়েছে পাকিস্তান। দেশটি গত তিন বছর ধরে একই অবস্থানে রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।  বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ুও এ দুটি দেশের চেয়ে বেশি। মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু, স্কুলে পাঠগ্রহণ এসব খাতে বাংলাদেশ বেশ এগিয়ে গেছে। তবে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে মাথাপিছু গড় আয় বাংলাদেশের অনেক কম। বাংলাদেশের মানুষ ভারত ও পাকিস্তানের মানুষের চেয়ে গড়ে বেশি দিন বাঁচে। মানবউন্নয়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭২ দশমিক ৮ বছর। ভারতের গড় আয়ু ৬৮ দশমিক ৮ বছর ও পাকিস্তানে ৬৬ দশমিক ৬ বছর । নবজাতক-মৃত্যু ও পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসেও এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। এক হাজার জীবিত শিশু জন্মগ্রহণ করলে বাংলাদেশে ২৮ দশমিক ২ জন নবজাতক মারা যায়। ভারত ও পাকিস্তানে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৩৪ দশমিক ৬ এবং ৬৪ দশমিক ২। বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার অবশ্য এখন ৭২ দশমিক ৮ শতাংশ। ভারতে তা ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ ও পাকিস্তানে ৫৭ শতাংশ। অথচ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বাংলাদেশ শিক্ষা খাতে ওই দুটি দেশের চেয়ে কম খরচ করে থাকে। নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।  ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বেশি। বাংলাদেশের সংসদে যত আসন আছে, এর মধ্যে ২০ দশমিক ৩ শতাংশ প্রতিনিধিই নারী । পাকিস্তানে তা ২০ শতাংশ এবং ভারতে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। তাছাড়া ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান বিবেচনায় বাংলাদেশের শিশুরা ভারতের শিশুদের থেকেও বেশী উৎপাদনশীল হবে। বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের মানবসম্পদ সূচকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এই সূচক অনুযায়ী, ১৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১০৬তম। ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে ১১৫ ও ১৩৪তম।  বাংলাদেশের এই অর্জনের নেপথ্যের কারণ সরকারের নানা ধরণের উন্নয়ন কর্মকান্ড। রাজনীতি কিংবা বিশ্ব পরিস্থিতির ঝক্কি-ঝামেলা পেছনে ফেলে নিজের ভাগ্য নিজেরাই গড়ছেন। দিন দিন চাষাবাদের জমি কমলেও এ দেশের কৃষকরা ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করার মতো বাড়তি ফসল উৎপাদন করছেন।  বাংলাদেশ বর্তমান ডিজিটাল বিশ্বে আলোচিত নাম। বিশ্বে উন্নয়নের মডেলে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বড় বড় গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। কেউ বলছেন, ‘এশিয়ান টাইগার’ কেউ বলছেন, ‘ফ্রন্টিয়ার ফাইভের’ সদস্য। বিজয়ের ৪৭ বছর পরে এসে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ কমপক্ষে দুই ডজন আন্তর্জাতিক সূচকে পাকিস্তানের থেকে এগিয়ে রয়েছে।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ