1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ১১:০০ আজ শুক্রবার, ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি




শামা ওবায়েদ; ঘরে ঘৃণিত, বাইরে বিতর্কিত

  • সংবাদ সময় : বৃহস্পতিবার, ১ নভেম্বর, ২০১৮
  • ২৬৮ বার দেখা হয়েছে

শামা ওবায়েদ রিংকু। তিনি প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে। অনলাইন পোর্টালে তিনি কখনো রাজনীতির সানি লিওন বলে প্রচার পান, আবার কখনো অশ্লীল পোষাকের জন্য বিতর্কিত হন। আপন চাচা এবং মায়ের সাথে ঝগড়া করে নিজের পরিবারেও তিনি ব্রাত্য। ঘরে-বাইরে শামা ওবায়েদের কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনার চেয়ে সমালোচনাই বেশী হয়ে থাকে।

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনের বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ রিংকুর সঙ্গে কে এম ওবায়দুর রহমানের ছোট ভাই ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কে এম জাহাঙ্গীরের দ্বন্দ্বের কথা বেশ পুরানো।

কে এম জাহাঙ্গীর ১৯৭৮ সালে  ফরিদপুরের নগরকান্দায় উপজেলা বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৭ সালে ওবায়দুর রহমান মারা গেলে ধারণা করা হয়েছিল তিনিই হতে যাচ্ছেন ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হবেন। ওবায়েদুর রহমানের কন্যা শামা ওবায়েদও এই আসনে মনোনয়ন চাইতে খালেদা জিয়ার কাছে বেশ কয়েকবার দেখা করতে যান। তবে দলের প্রতি ত্রিশ বছরের নিষ্ঠার পুরস্কার হিসেবে গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য খালেদা জিয়া ওবায়দুর রহমানের ছোট ভাই জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেন। খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তে নাখোশ হয়ে শামা ওবায়েদ দ্রুত লন্ডনে তারেক রহমানের কাছে ছুটে যান। সুন্দরী শামায় মন্ত্রমুগ্ধ তারেক নিজের একক সিদ্ধান্তে শামা ওবায়েদকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেন। এ ব্যপারে লন্ডনপ্রবাসী সায়হাম আমিন জানান তাদের দুজনকে বেশ কয়েকবারই ঘনিষ্ঠ অবস্থায় একসাথে দেখা গিয়েছে। দুই সপ্তাহ পর ঢাকার বিএনপি অফিস থেকে জানানো হয় ফরিদপুর-২ আসনের জন্য কে এম জাহাঙ্গীরের পরিবর্তে শামা ওবায়েদকে মনোনীত করা হয়েছে। ওই নির্বাচনে শামার বিরোধীতা করায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে গত ২২ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক রুহুল কবীর রিজভী কে এম জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কারের চিঠি প্রেরণ করেন। রুহুল কবীর রিজভী ‘তারেকের লোক’ বলে বিএনপিতে পরিচিত।

কন্যা শামা ওবায়েদকে নিয়ে মা ড. শাহেদার করুণ কাহিনী ২০১৬ সালে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত কে এম ওবায়দুর রহমানের স্ত্রী প্রফেসর ড. শাহেদা ওবায়েদ ফেসবুকে মা দিবস নিয়ে একটি স্ট্যাটাসে কন্যা শামা ওবায়েদের কাছ থেকে পাওয়া কষ্টের কথা, বঞ্চনার গল্প সবাইকে জানান। তিনি লিখেন, ১৯৯৮ সালে একবার দেশে রাজনৈতিক কারণে সেই মা খুব বিপদে পড়লো, তাও আবার তার স্বামীর কারণে । তখন মা উপায় না দেখে আমেরিকায় মেয়ের কাছে চলে গেল । দু’মাস পর মেয়ে মা-কে বলল, ‘তুমি অমুক স্টেট-এ তোমার বন্ধু তাহিয়া আন্টির কাছে চলে যাও’। অর্থাৎ, সে বিপদে পড়ে আশ্রয় নেয়া মাকে তার বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বিপদে পড়ে মা অন্য স্টেট-এ চলে গেলেন ঠিকই তবে খুব কষ্টে দু’মাস বন্ধুর বাসায় কাটিয়ে নিরুপায় হয়ে দেশে ফিরে আসেন। যে মা-এর সন্তান থাকা সত্ত্বেও সেই সন্তান নিজ স্বার্থের জন্য শেষ বয়সে মাকে চায়ের কাপে পড়ে যাওয়া মাছির মত উঠিয়ে আস্তাকুড়ে ফেলে দেয় সেই মা-এর কষ্ট যে কি, তা যে ভোগ করে সে-ই একমাত্র বোঝে…।

রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের সেক্স স্ক্যান্ডাল বিষয়ক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ‘বার্ডস আই’। তারা শামা ওবায়েদের উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানায়, শামা ওবায়েদ রিংকু ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনৈতিক উপায়ে দলীয় মনোনয়ন বাগিয়ে নেন। দলীয় চেয়ারম্যানের সাথে আইন বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার যথেষ্ট তথ্য প্রমাণও তাদের কাছে আছে বলে তারা দাবী করেন।

নগরকান্দা বিএনপির বিভিন্ন নেতা-কর্মীরা শামা ওবায়েদের উগ্র পোষাকের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে দলের হাইকমান্ডের কাছে আপত্তি জানিয়েছেন। উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী খান বুলু দলের সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যান্যদের কাছে বেশ কয়েকবার শামা ওবায়েদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ এবং চলাফেরায় বিব্রত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ