1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ২:৫১ আজ রবিবার, ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি




চেঙ্গিস খান: ইতিহাসের দুর্ধর্ষ যোদ্ধা, দখল করেন বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা

  • সংবাদ সময় : সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
  • ৭৭৪ বার দেখা হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট: পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম সমরনায়ক চেঙ্গিস খান। তাঁর আসল নাম তেমুজিন। ১১৬২ সালে মঙ্গোলিয়ার বোরজিগিন বংশে তাঁর জন্ম হয়। তিনি এক সাধারণ গোত্রপতি থেকে নিজ নেতৃত্বগুণে বিশাল সেনাবাহিনী তৈরি করেন। মঙ্গোল গোষ্ঠীগুলোকে একত্র করে তিনি মঙ্গোল সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন। পরিচিতি পান মঙ্গোল জাতির পিতা হিসেবে। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে চেঙ্গিস খান বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জায়গা দখল করেন। এটা করতে গিয়ে তাঁর সেনারা যে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়, তাতে প্রায় চার কোটি মানুষ প্রাণ হারায়। বিশ্বের কিছু অঞ্চলে চেঙ্গিস খান চিহ্নিত হন অতি নির্মম ও রক্তপিপাসু বিজেতা হিসেবে। বিভিন্ন সময় যেসব রাজ্য মঙ্গোলদের দখলে ছিল এর মধ্যে রয়েছে চীন, মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, জর্জিয়া, ইরাক, ইরান, তুরস্ক, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, মলদোভা, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া ও কুয়েত। ১২২৭ সালে চেঙ্গিস খানের মৃত্যু হয়। চেঙ্গিস খানের মৃত্যুর পরও প্রায় ১৫০ বছর মঙ্গোল সাম্রাজ্য তাঁর উত্তরাধিকারীদের দখলে ছিল।

খুব ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম শুরু হয় তিমুচিনের। সাহায্য করার কেউ নেই, পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। মঙ্গোলিয়ার ধূসর আর রুক্ষ পরিবেশে টিকে থাকাই এক সংগ্রামের বিষয়। কিন্তু তিমুচিনের ছিল অবিশ্বাস্য মেধা, কষ্টসহিষ্ণু মনোভাব, অসামান্য নেতৃত্বগুণ। এই গুণগুলোর সমন্বয়েই তিনি মঙ্গোলদের জাতীয় সমিতির সর্বশ্রেষ্ঠ খান অর্থাৎ সম্রাট মনোনীত হলেন। তিমুচিন থেকে নাম পরিবর্তন করে তিনি হলেন চেঙ্গিস খান।

চেঙ্গিস খান: ইতিহাসের এক দুর্ধর্ষ যোদ্ধা

মঙ্গোলরা ছিল যাযাবর জাতি। এই যাযাবরগণ যেমন ছিল জোয়ান তেমনি কষ্টসহিষ্ণু। স্ত্রীপুরুষ সবাই একরকমের। বাস করতো ছোট ছোট তাঁবুতে। নানা গোত্রে তারা বিভক্ত ছিল। এই গোত্রগুলো যে যেখানে ছিল সেখান থেকে এসে চেঙ্গিস খানের আনুগত্য স্বীকার করলো। সম্মিলিতভাবে তারা বিপুল শক্তিশালী হয়ে উঠলো। খানের অধীনে শুরু হলো তাদের অভিযান চীনের পিকিং অভিমুখে, ধ্বংস করে দিল সেসময়ের কিন সাম্রাজ্য। তারা এগিয়ে চললো আরো পশ্চিমে, সাম্রাজ্যের পর সাম্রাজ্য তারা নিশ্চিহ্ন করে দিল। পুড়িয়ে ছারখার করে দিল কতো ঐশ্বর্যশালী নগর, সুরম্য অট্টালিকা। রাশিয়াকেও তারা করলো পদানত। ধ্বংসলীলা করতে করতে তারা পৌছালো বৈভব আর প্রাচুর্যের নগরী বাগদাদ এ। তারপর নিশ্চিহ্ন করে দিল এই অপূর্ব নগর, লোপ করে দিল সাম্রাজ্য। এভাবে অগ্রসর হয়ে তারা পোল্যান্ডে এবং মধ্য ইউরোপে এসে পৌছল। তাদের অগ্রগতিকে বাধা দেবার মত কেউ ছিলনা। এ যেন এক সামুদ্রিক ঝড়, যার সামনে সব বাধা উড়ে যাচ্ছিল। ভারতবর্ষ ভাগ্যের জোরে এই তান্ডব থেকে রক্ষা পেয়েছিল। এটা এক আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এর মতো, এশিয়া ও ইউরোপের অধিবাসীদের বিস্ময়ে বিমূঢ় করে দিয়েছিল। অনেকটা ভূমিকম্পের মতো এই আগ্রাসন, যার উপর কারো কোনো হাত থাকেনা। ইচ্ছে করলেও প্রতিরোধ করা যায়না।

চেঙ্গিস খান যখন মঙ্গোলদের নেতা নির্বাচিত হলেন তখন তার বয়স একান্ন বৎসর। এই বয়সে মানুষ অবসর জীবনের চিন্তা করে, ঝঞ্ঝাটময় জীবন থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে। কিন্তু তার জীবনের জয়যাত্রার শুরু এ বয়সেই। পৃথিবীর যত বিখ্যাত যোদ্ধা আর সেনানায়ক তারা সবাই যৌবনেই যুদ্ধজয়ে বের হন। চেঙ্গিস কিন্তু তারুণ্যের উৎসাহে যুদ্ধ জয়ে বের হননি। তারুণ্য যখন অনেককাল আগেই তার ফুরিয়ে গেছে তখন তিনি ভেবে চিন্তে যুদ্ধের জন্য তৈরি হলেন। মঙ্গোলরা ছিল যাযাবর। নাগরিক জীবন তাদের পছন্দ ছিলনা। কিন্তু ওরা বর্বর ও ছিলনা তাই বলে। নিজেদের একটা জীবন মঙ্গোলরা গুছিয়ে নিয়েছিল। জীবনযাপনের সে প্রণালী ছিল অনেক জটিল। তাদের সৈন্যবাহিনী অনেক বড় ছিল কিন্তু কেবল সংখ্যাধিক্যই তাদের জয়ের কারণ নয়। শৃঙ্খলা আর সংঘবদ্ধতার গুণেই তারা যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী হয়েছিল। আর ছিল চেঙ্গিস খানের অসাধারণ কুশলী যুদ্ধ কৌশল আর নেতৃত্ব। চেঙ্গিসের মতো নেতা আর সামরিক প্রতিভাসম্পন্ন সেনানায়ক ইতিহাসে আর নেই। অনেক ঐতিহাসিকের মতে প্রতিভার দিক দিয়ে চেঙ্গিসের স্থান আলেকজান্ডার ও জুলিয়াস সিজারের অনেক উপরে। চেঙ্গিস নিজে তো প্রতিভাধর ছিলেনই, উপরন্তু তিনি তার অধীনে বহু সৈন্যাধ্যক্ষকে সামরিক শিক্ষা দিয়ে পারদর্শী করে তুলেছিলেন। মঙ্গোলিয়া থেকে কতো দূরে তিনি যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। বিপক্ষের শত্রুরা সংখ্যায়ও অনেক, তবুও চেঙ্গিস খানের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারেনি। এমনই পরাক্রমশালী ছিলেন তিনি।

চেঙ্গিস খান: ইতিহাসের এক দুর্ধর্ষ যোদ্ধা

এই যে চেঙ্গিস খানের জয়যাত্রা এটা এমনি এমনি হয়নি, এর জন্য বিপুল পরিকল্পনা ছিল, অসাধারণ কৌশল ছিল, অসম্ভব জটিল আর গভীর সমরকৌশল ছিল। সৈন্যদলকে কেবল সামরিক শিক্ষাই দেননি, ঘোড়াগুলোকেও প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। ১২১৯ সালের দিকে চেঙ্গিস শুরু করলেন তার খোরাসান সাম্রাজ্যের দিকে অভিযান। এ যেন অতিপ্রাকৃত এক বিপর্যয়। খোরাসান সাম্রাজ্য লোপ পেয়ে গেল সম্পূর্ণ। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল সমৃদ্ধশালী বোখারা নগরী, ধূলিসাৎ হলো রাজধানী সমরকন্দ। তখন সমরকন্দের জনসংখ্যা ছিল দশ লক্ষ। এই অভিযানের পর জনসংখ্যা মাত্র পঞ্চাশ হাজার টিকে রইলো। এমনি ভয়ঙ্কর ছিল সে আক্রমণ। এক দুর্নিবার আক্রোশে যেন সব ছারখার করে ফেলার ব্রতে নেমেছেন চেঙ্গিস। ভারতবর্ষে চেঙ্গিস তখন আতঙ্কের নাম। কিন্তু তিনি ঢুকে গেলেন রাশিয়ায়। ওখানেও চলল তার জয়যাত্রা। বেশীদিন এই তাণ্ডব চালাতে পারেননি চেঙ্গিস। ১২২৭ খৃস্টাব্দেই তার মৃত্যু হয়। এর ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে অসংখ্য আতঙ্কগ্রস্ত নগরী।

মজার ব্যাপার হলো নগরাদি ধ্বংসের পেছনে চেঙ্গিসের একটা দর্শন ছিল। তিনি যাযাবর ছিলেন, বাস করতেন তাঁবুতে। শহর আর নগরের স্থাপত্যের প্রতি তার অদ্ভূতরকম ঘৃণা ছিল। তিনি চেয়েছিলেন সমস্ত নগরী ধ্বংস করে বিরান করে দিতে। যেখানে মানুষের জীবন হবে যাযাবরের জীবনের মতো। সুরম্য কোনো অট্টালিকার স্থান নেই সেখানে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই মৃত্যু হয় তার। চেঙ্গিস খানের নাম শুনে মনে হতে পারে তিনি মুসলমান ধর্মাবলম্বী ছিলেন। কিন্তু তিনি মুসলিম ছিলেন না। তিনি শাম ধর্মের অনুসারী ছিলেন। নীল আকাশের পূজারী ছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি পরধর্মসহিষ্ণু ছিলেন। চীনের সন্ন্যাসীদের সঙ্গে প্রায়ই পৃথিবীর নানারকম মানুষ আর তাদের ধর্ম নিয়ে আলোচনা করতেন। কিন্তু তিনি শাম ধর্মে অবিচল ছিলেন এবং বিপদে নীল আকাশের পূজাই করতেন।

আজ থেকে প্রায় এক হাজার বছর আগে চেঙ্গিস খান প্রায় অর্ধেক পৃথিবীর বাদশাহ হয়েছিলেন। জয় করেছিলেন অচিন্তনীয় ঐশ্বর্য, বৈভব। তার নামে কম্পিত হয়েছিল অসংখ্য সমৃদ্ধশালী সাম্রাজ্য, বিত্তশালী নগর।

চেঙ্গিস খান যেন ছিলেন এক অগ্নুৎপাতের মত। যার দগদগে আগুনের উত্তাপে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল নগরের পর নগরী, দেশের পর দেশ। যিনি ছিলেন এক দিগ্বিজয়কারী মহাযোদ্ধা। ইতিহাসের এক দুর্ধর্ষ সেনানায়ক।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ