1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় ভোর ৫:২১ আজ বৃহস্পতিবার, ৫ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি




গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ি) : প্রতীক পেতে আ’লীগ-জাপা’র একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীদের লবিং

  • সংবাদ সময় : সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
  • ২০৬ বার দেখা হয়েছে

পলাশবাড়ি প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী – সাদুল্যাপুর) নির্বাচনী আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দলীয় নীতিনির্ধারনী নেতাদের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়-ঝাপ আর লবিং চলছে। একারণে তৃণমূল নেতাদের কাছে রাখার চেষ্টাও করছেন। এআসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী তৎপরতা বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিএনপি,জামায়াত,সিপিবি,জাসদের প্রার্থীরা নির্বাচনী তৎপরতা কিছুটা ঢিমেতালে হলেও এলাকা পর্যায়ে তাদের নির্বাচনী প্রচারনা থেমে নেই। বরাবরের মত এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অন্ততপক্ষে ৬ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। পুরাতন এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্নদের পাশাপাশি নতুন দু’একজন মাঠে নৌকা মার্কার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি মনোনয়ন পেতেও কেন্দ্রে লবিং এবং দৌড়ঝাপ অব্যাহত রেখেছেন। নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মী সমর্থকদের সাথে মতবিনিময় সভাসহ সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নিজের জন্য এবং দলের পক্ষে নৌকা মার্কার পক্ষে দোয়া কামনা করছেন। এর পাশাপাশি বর্তমান আ’ লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে কেউ কেউ বক্তব্য রাখছেন।
ক্ষমতাসীন আ’ লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পাশাপাশি অন্যান্য দল গুলোর মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পাটি, জাসদ, জাতীয় পাটি (জাফর), জামায়াত, সিপিবি,বাসদ, মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা বর্তমানে নির্বাচনী তৎপরতা কর্মীদের সাথে নিয়েই মাঠে নেমেছেন
দুই উপজেলা নিয়ে এই আসন। পলাশবাড়ী উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ও সাদুল্যাপুর উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন মিলে মোটে ২০ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসন। পলাশবাড়ী – সাদুল্যাপুর দুই উপজেলার মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৭ হাজার ৫’ শ ৭২ জন। এর মধ্যে পলাশবাড়ী উপজেলায় পুরুষ ভোটার ৮৯ হাজার ৬’ শ ৮৫ এবং নারী ভোটার ৯৫ হাজার ৮ ‘ শ ৬৮ জন। সাদুল্যাপুর উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৫ ‘ শ ৭০ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ১৩ হাজার ৪’ শ ৪৯ জন।
এ আসনে বিগত ১৯৯৬ ইং সাল থেকে টানা ৩০ বছর জাতীয় পাটির দখলে ছিল। গত ২০১৪ ইং সাল পর্যন্ত টানা ৬ বার এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন জাপার ড. টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী। তিনি তার আমলে এলাকার জন্য আশানুরুপ কিছুই করতে পারেননি। যে কারনে এ আসনটি ছিল বরাবরের মত অবহেলিত। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ’ লীগ ও জাপা জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার কারণে এ আসনটি বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দখলে চলে আসে। এ আসন থেকে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী ডা, ইউনুস আলী সরকার এমপি নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি ডা.ইউনুস আলী সরকারের নাম উত্তরাঞ্চলের ২২টি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে আছে আবার ৩শ আসনের প্রার্থীদের মধ্যেও আছেন। এরই প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ ও সাধারন জনগণ গ্রীণ সিগনাল বলেই তাকে ধরে নিয়েছেন। ডাঃ ইউনুস আলী সরকার তার ৫ বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। যে কারণে বর্তমান এমপি ডা.ইউনুস আলী সরকার খুব ফুরফুরে মেজাজে আছেন। পাশাপাশি তিনি দলের পক্ষে নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি উন্নয়ম‚লক কাজের উদ্ধোধন ও বিভিন্ন সভা সেমিনারে নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করছেন। অপরদিকে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেস্টা ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পীকে চুড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী ঘোষনা করেছেন। তিনিও একক দলীয় প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে দুটি উপজেলাতেই ব্যাপক নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। এদিকে জাপার আর এক প্রার্থী উপজেলা জাপার সর্বাধিক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব মহদীপুর ইউনিয়নের সন্তান এ্যাড. মমতাজ উদ্দিন তিনিও জাপাকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দুটি উপজেলার নতুন পুরাতন ও অভিমান করে দল থেকে সরে যাওয়া বিভক্ত জাতীয় পাটির নেতা কর্মী সর্মথকদের একত্র করতে ও তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অব্যাহত রেখেছেন এবং ভোট প্রার্থনা করছেন।
জাপার আর এক নেতা জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন- সাধারন সম্পাদক ও জেলা জাপার শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম সাচ্ছা জাতীয় পাটির মনোনয়ন প্রত্যাশী।
এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আ’ লীগসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো বিজয় পেতে মরিয়া। তবে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনে ও মনোনয়নের ক্ষেত্রে ব্যতয় ঘটলে এ ক্ষেত্রে তারা কিছুটা পিছিয়ে পড়তে পারে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের আ’ লীগের তৃণম‚ল থেকে শুরু করে উপজেলার সকল নেতা কর্মী ভোটের ব্যাপারে খুবই সক্রিয়। আ’ লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও শুধু নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করে বেড়াচ্ছেন। তাদের একটাই কথা নৌকার মাঝি এ আসনে যেই হোক ভোটটা তাকেই দিতে হবে। এখান থেকে বোঝা যায় তারা এবারোও আসনটা ধরে রাখতে এবং তাদের পক্ষে বিজয় পেতে মরিয়া। আর সে লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. মোঃ ইউনুস আলী সরকারও দুটি উপজেলায় ব্যাপক নির্বাচনী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। এ ছাড়াও আ’ লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যারা নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা হলেন,  জেলা আ’ লীগের উপদেস্টা কমিটির সদস্য মাজেদার রহমান দুল, পলাশবাড়ী উপজেলা আ’ লীগ সভাপতি আবু বকর প্রধান, সহ- সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম মোকছেদ চৌধুরি বিদ্যুৎ, বীরমুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ( অবঃ) মাহমুদুল হক, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের যুগ্ন- সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সংরক্ষিত (গাইবান্ধা- জয়পুরহাট) মহিলা আসনের এমপি এ্যাড.উম্মে কুলছুম ম্মৃতি, সাদুল্যাপুর উপজেলা আ’ লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার খান বিপ্লব, সহ- সভাপতি অধ্যক্ষ জাকারিয়া খন্দকার, উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও শহীদ সোহরাওয়ার্র্দী হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. শাহ মোঃ ইয়াকুব-উল্যা আজাদ। তবে জেলা আ’ লীগের উপদেস্টা কমিটির সদস্য মাজেদার রহমান দুল নৌকা প্রতীক পেতে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে এবং আগামীতে এই আসনের বেকার যুবদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কর্মস্ংস্থান তৈরি, মা ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ আ’লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে  উত্তরাঞ্চলের মধ্যে এই আসনটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি কাজ করার প্রতিশশ্রতি  দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি এলাকায় দেখার মতো বেশিকিছু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তিনি তৃণমূল  নেতা-কর্মী ও জনগণের সমর্থনেই নৌকা প্রতীক পাবেন বলে আশা করছেন।
এছাড়া পর-পর ৬ বারের জাপার সাবেক এমপি ড. টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরি জাপার ( জাফর) থেকে  এবং ২০ দলীয় জোট থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। একটি সত্র থেকে জানাযায়, ড. টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী নাকি ২০ দলের প্রার্থী প্রায় হয়েই আছেন।
এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি ডা, মাইনুল হাসান সাদিকও এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা ব্যাপক তৎপরতা, গণসংযোগ, সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কাযক্রমকে গতিশীল করে নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত করতে কমর বেধে মাঠে নেমেছেন। তিনিও ইতোমধ্যেই হাই কমান্ড থেকে গ্রীণসিগন্যাল পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহ আলম সরকার টুপি আলমও দলের মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কিন্তু বিএনপির দাবী তাদের একক প্রার্থী ডাঃ মইনুল হাসান সাদিক। তবে জামায়াত থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ না থাকলেও কোন না কোনভাবে জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি ও বর্তমান পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবুল কাওছার নজরুল ইসলাম লেবু নির্বাচনে এই আসনের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিবেন।
অপরদিকে ১৪ দলীয় জোট থেকে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস. এম খাদেমুল ইসলাম খুদি এই আসন থেকে এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি একজন তরুন রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন বেশ সুনাম অর্জন করেছেন এছাড়াও ব্ংশপরম্পরায় তিনি জনগণের ভালভাসা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে দলীয় এব্ং জোটের একক প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন প্রত্যাশী।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ