1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ৯:০২ আজ শনিবার, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি




গাইবান্ধায় আদিবাসী যুব মিলনমেলা : প্রধানমন্ত্রী কাছে ১৫ দাবী

  • সংবাদ সময় : সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
  • ১১১ বার দেখা হয়েছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
‘অধিকার ও সংস্কৃৃতি রক্ষায়, আদিবাসী-বাঙালি যুব মিলি একতায়’ এই ¯েøাগান নিয়ে আদিবাসী যুব মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব গতকাল সোমবার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনডিপি-হিউম্যান রাইটস্ প্রোগ্রামের সহযোগিতায় মিলনমেলা উদ্যাপন কমিটি ও অবলন্বন এই মেলার আয়োজন করে। প্রিসিলা মুর্মুর সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল, পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া, সাদুল্যাপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জহুরুল কাইয়ুম, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহŸায়ক এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, সাহেবগঞ্জ ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে, আদিবাসী নেতা গৌড় চন্দ্র পাহাড়ী, অবলন্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী, আদিবাসী যুব মিলনমেলা উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব মাইকেল মার্ডি, সারা মার্ডি প্রমূখ। পরে অনুষ্ঠান স্থলেই প্রধানমন্ত্রী বরাবরে আদিবাসী জনগোষ্ঠির অধিকার আদায়ের জন্য ১৫দফা দাবি সম্বলিত “স্মারকলিপি” জেলা প্রশাসকের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এসময় সুলতানা কামাল তার আলোচনা বলেন, সকল বৈষম্য মানুষের সৃষ্টি’ প্রকৃতি বা সৃষ্টিকর্তা বৈষম্য তৈরি করেনি। আমরা মানুষের তৈরি বৈষম্য দুর করতে চাই। এজন্য সকল ধর্ম,বর্ণের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, আদিবাসীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় আমরা সর্বাত্বক সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। মেলায় আদিবাসী নেতারা বলেন,তাদের কৃষ্টি ও ঐতিহ্য, সামাজিক রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। এই জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য কোন প্রতিষ্ঠান তো নেইই, এমনকি তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদি স¤পাদনের জন্য কোন মিলনায়তন বা মিলন স্থান আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও কৃষ্টি সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা বিদ্যমান।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে আদিবাসী যুবাদের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটানোর লক্ষে আজকের এই যুব মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে।  এছাড়াও তারা সরকারি বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে যেমন তাদের দাবী-দাওয়া, কথাগুলো তুলে ধরতে পারবেন তেমনি, সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিকট থেকে তাদের জন্য কি ধরণের সেবা, সুযোগ-সুবিধা আছে, তা জানতে পারবেন।  এসময় তারা নি¤œলিখিত ১৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রধাণমন্ত্রী বরাবরে জেলা প্রশাশকের নিকট হস্তান্তর করেন।
১। ক্ষুদ্র নৃতাত্তি¡ক জনগোষ্ঠি নয়, আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানে স্বীকৃতি দিতে হবে।
২। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে।
৩। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভুমি কমিশন গঠন করতে হবে।
৪। ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রিয় অধিগ্রহণ ও প্রজাসত্বআইনের ৯৭ ধারার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।
৫। উপজেলা পর্যায়ে আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক একাডেমিক ভবন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৬। উপজেলায় আদিবাসী ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য পৃথক আবাসিক হোষ্টেল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৭। আদিবাসী ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তি সাধারণের চেয়ে দ্বিগুন বরাদ্দ দিতে হবে।
৮। আদিবাসীরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হওয়ায় চাকুরীতে কোটা বহাল রাখা ও কোটা অনুযায়ী আদিবাসী ছাত্র/ছাত্রীদের চাকুরী নিশ্চিত করতে হবে।
৯। ক্ষুদ্রজাতিসত্ত¡ার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনে বাদপড়া আদিবাসী জাতিগোষ্ঠির নাম অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
১০। আদিবাসীদের উপর সকল প্রকার জুলুম, নির্যাতন, হত্যা ও ভূমি দখল বন্ধ করতে হবে।
১১। আদিবাসীদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
১২। স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে আদিবাসীর জন্য সংরক্ষিত আসন দিতে হবে।
১৩। আদিবাসী যুব সমাজের জন্য উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে আলাদা করে যুব প্লাটফর্ম তৈরি করতে হবে।
১৪। আদিবাসী যুব সমাজের জন্য আলাদা ভাবে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
১৫। আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী জিনিষপত্র রাখার জন্য আলাদা যাদুঘর বা সংগ্রহশালা করতে হবে।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ