1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সকাল ৯:৪০ আজ রবিবার, ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি




গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি): আ’লীগ-জাপা-বিএনপির একডজন প্রার্থী প্রতীক পেতে দৌড়ঝাঁপ

  • সংবাদ সময় : সোমবার, ২৩ জুলাই, ২০১৮
  • ৩৪৮০ বার দেখা হয়েছে

আফতাব হোসেন:
৩৩ গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি)- দু’উপজেলা নিয়ে এই আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১১হাজার ২১৪ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৩২ এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৮২ জন।  গাইবান্ধা জেলার ৫টি আসনের মধ্যে অত্যন্ত আলোচিত এই আসনে রয়েছে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির ছয়জন শক্তিশালী নেতা, যার কারণে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে লবিং, সুসম্পর্ক আর মনজয় করা নিয়ে ব্যস্তসময় পার করছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা। আবার নেতাদের ভক্ত-সমর্থকেরা ফেসবুক ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানানোর চেষ্টাও করছেন।
গাইবান্ধা-৫ আসেন বর্তমান এমপি ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া জাতীয় পার্টির টিকিটে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করার পর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী বেগম রওশন এরশাদকে পরাজিত করে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১০ম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট নির্বাচন বর্জন করায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও এমপি নির্বাচিত হন।  এলাকার উন্নয়ন তালিকা সামনে নিয়ে তিনি ভোটারদের সমর্থনে বর্তমান সরকারের উন্নয়নধারা চলমান রাখতে একাদশ নির্বাচনে প্রতীক পাবেন-এ আশাই করছেন এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া।

অপরদিকে, আওয়ামীলীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। তরুণ উদ্দ্যোমী রিপনের যোগ্য নেতৃত্বে বর্তমানে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো এখন অনেকটাই সুসংগঠিত। বিগত দিনে নেতৃত্ব শূণ্যতার কারণে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঠিকভাবে পরিচালিত না করায় এসব নেতাকর্মী ঝিঁমিয়ে পড়েছিলেন। মাহমুদ হাসান রিপন এ দুটি উপজেলায় দলকে সুসংগঠিত করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে তিনি বেশ গ্রহণযোগ্য তরুন নেতা হিসাবে মনজয় করেছেন।  ফলে তার নেতৃত্বে আস্থাশীল হয়ে বিচ্ছিন্ন ও ঁিঝমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের মধ্যে নব-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মূলধারার নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় প্রায়ই সভা সমাবেশ, উঠান বৈঠক করে চলছেন। এছাড়াও ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব থাকাকালীন তিনি বেশ উন্নয়নমূলক কাজও করেছেন। একারণে তিনি নৌকা প্রতীক পাওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামীলীগের অপর প্রার্থী অবিভক্ত বাংলার কৃষিমন্ত্রী মরহুম আহমেদ হোসেন সরকারের নাতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজ সেবক মাহবুবর রহমান নিটল। তিনিই এলাকায় দাদার পরিচয় নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।  এছাড়াও কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি, শিল্পপতী  ড্রিম সিটি পার্কের সত্ত¡াধিকারী ফারুক আলম সরকারও নৌকা প্রতীককে নির্বাচন করার আশা করছেন। এদিকে, মানবাধিকার কর্মী সুশীল চন্দ্র সরকার নৌকা প্রতীক পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

এ আসন থেকে শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি ও  বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ নিজেই নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। জাপার এই আসনটি ফিরিয়ে নিতে রওশন এরশাদ প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবেন বলে দলের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে শোনা যাচ্ছে। তবে কোনো কারণে তিনি নির্বাচন না করলে তার পরিবর্তে প্রার্থী হবেন জাপা চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের অত্যন্ত আস্থাভাজন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রƒীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট গাইবান্ধা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার আতা। লাঙ্গল প্রতীক পাওয়ার জন্য তিনি ইতোমধ্যে তৃণমূল থেকে রাজধানীর পথ পরিস্কার করেছেন। তিনি মহাজোটের প্রার্থী হিসাবেই নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হওয়া কারিশমা জাতীয় পার্টির কাছে দেশ জুড়ে বেশ আলোচিত হয়েছেন এই নেতা।  ব্যক্তিগতভাবে আত্মবিশ্বাস এবং এলাকার তার জনপ্রিয়তায় তিনি জনগণের সমর্থন নিয়েই লাঙ্গল প্রতীক পাবেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও মহাজোটের শরীক দলের উচ্চ পর্যায়ের  নেতা-কর্মীদের সাথে তার সুসম্পর্ক  হওয়ায় লাঙ্গল প্রতীক পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানা গেছে।
এদিকে, সাঘাটা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক এবং সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু লাঙ্গল প্রতীক পাওয়ার জন্য স্থানীয় জনসমর্থন নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লবিং করে যাচ্ছেন।

স্বাধীনতার পরপরই একবার বিএনপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রোস্তম আলী মোল্লা। তবে প্রবীণ এই রাজনৈতিক রোস্তম আলী মোল্লা নির্বাচন না করলেও তার ছেলে জেলা বিএনপি’র সাঃ সম্পাদক মাহমুদুন নবী টিটুল নির্বাচন মাঠে থাকবেন। বিএনপি রাজনীতিতে ক্লিন টিটুল ধানের শীষ পেতে বেশ আগে থেকেই কাজ করে যাচ্চেন।  আবার তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে থেকে কাজ বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে আগ্রহী সাঘাটা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা রাহিদুল ইসলাম রাহী। সাঘাটা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী ধানের শীষে নির্বাচন করার জন্য স্থানীয় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সম্পর্ক রেখে যাচ্ছেন। বিএনপির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সমাজ সেবক নাজেমুল ইসলাম নয়ন। তিনি দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। এদিকে বিশিষ্ট শিল্পপতী হাসান আলী, ময়নুল ইসলাম শামীম এবং অধ্যক্ষ আরশাদুল কবির রাঙ্গা ধানের শীষ পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন ।
এ ছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা গাইবান্ধা ক্লিনিকের স্বত্ত¡াধিকারী ডা. একরাম হোসেন।
তবে এই আসনে এ্যাডভোকেট রাব্বী ও রিপনের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে মাঝ থেকে  লাভবান হবেন জাতীয় পার্টি। তবে, জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ যদি এই আসনে নির্বাচন করেন তাহলে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ অনেকটাই পাল্টে যাবে।  কিন্তু যদি জাপা এখানে প্রাথী না দেয় তাহলে মহাজোটের পক্ষ থেকে আওয়ামীলীগ থেকে যিনি  মনোনয়ন পাবেন তারই জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ