1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ৩:২৭ আজ রবিবার, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি




নাব্যতা সংকটে তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র-যমুনা :যোগাযোগ দুর্ভোগে অসহায় চরাঞ্চলের মানুষজন

  • সংবাদ সময় : শনিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৮
  • ৯৯৩ বার দেখা হয়েছে

আফতাব হোসেন :
গাইবান্ধার তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র-যমুনায় নাব্যতা সংকটের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে চরাঞ্চলের মানুষজন। জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি, সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২৭টি ইউনিয়নের  ১৬৫টি চরের চার লক্ষাধিক মানুষ দু’পাশের মেইনল্যান্ডের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অসহায় হয়ে পড়েছে। পায়ে হাটা ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে শিক্ষা, চিকিৎসা, উৎপাদিত পণ্য হাট-বাজারে ক্রয়-বিক্রয় ব্যবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে প্রতিবন্ধকতা।
জেলার মোট আয়তনের অন্ততপক্ষে ৩৫ ভাগ এলাকা নদী ও চরাঞ্চল। চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম মাধ্যম নদী কেন্দ্রিক হলেও এসব নদী পানি শুণ্য হয়ে ধূ-ধূ বালু চরে পরিণত হয়েছে। তবে প্রতিবছর এই অবস্থা বাড়ছে বলে জানান ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়লাল উদ্দিন জালাল।
গাইবান্ধার মোল্লারচর, কুন্দেরপাড়া, খারজানি, মৌলভিচর, জিগাবাড়ি, ফজলুপুর, খাটিয়ামারী, গাবগাছি, খোলাবাড়ি, কালুরপাড়া, টেংরাকান্দি, পাতিলবাড়ি, এরেন্ডাবাড়ি, গুয়াবাড়ি, কুমারপাড়া, জামিরা, দেলুয়াবাড়িসহ শতাধিক চরের মানুষের দু’পাশে মেইনল্যান্ডে আসতে অন্ততপক্ষে গড়ে ১০ কিলোমিটার হাটতে হয়। এছাড়া নৌ-ঘাটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায়  পায়ে হেটে যাওয়ার বিকল্প পথ না থাকায় এসব চরের শিক্ষার্থীরা স্কুল কলেজে আসা বন্ধ হয়েছে।
আবার চরাঞ্চলে ভুট্টা, মরিচ, পিয়াচসহ নানা ধরণের সবজি উৎপাদন হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এসব বিক্রির ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছে।
সাঘাটার জামিরা চরের নুরইসলাম জানান, ৫০মন ভুট্টা পেয়েছি, কিন্তু ৬ কিলোমিটার পায়ে হেটে সাঘাটা বাজারের যেতে হয়। ধূ-ধূ বালু চর খালি হাতে হেটে যাওয়াই মুশকিল সেখানে ভুট্টা নিয়ে প্রশ্নই আসেনা বলে তিনি জানান। একই কথা জানান ব্যবসায়ী আকতারুজ্জামান আক্তার। তিনি বলেন ভুট্টার চাহিদা আছে কিন্তু চর থেকে ভুট্টা কিনে নিয়ে আসবো কিভাবে।
ফুলছড়ির গাবগাছি চরের রাজু মিয়া। সে পড়ে ফুলছড়ি সরকারি কলেজে। কিন্তু গাবগাছি থেতে তাকে প্রতিদিন ২০ কিলোমিটার যাতায়াত করে ক্লাশ করতে হয়। নদী পানি না থাকায় এবছর এই সমস্যা পড়েছে বলে জানায়।
পারুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একজন শিক্ষক জানান, চরের স্কুলের শিক্ষকদের চরে অবস্থান করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। কেননা কোনভাবেই সম্ভব না  মেইনলান্ড থেকে হেটে এসে ক্লাশ নেওয়া। একারণেই চরের অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা নিয়ে অভিযোগ অভিভাবকের।
সদর উপজেলার মৌলভিচরের হালিমা বেগম জানান, তার ছেলের বউকে অসুস্থ অবস্থায় গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে আনার পথে হেটে ও নৌকায় সময় লেগেছে প্রায় ৪ ঘন্টা। এতে করে তার অবস্থা আরো বেশি সংকটপন্ন হয়ে পড়ে।
চরাঞ্চলের যোগাযোগের ব্যবস্থা সংকট নিরপণে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্্ সালাম জানান, চরাঞ্চলের মানুষের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা করতে হবে। এক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অবশ্যই প্রথমে রাখতে হবে। কেননা গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ব্যাপকভাবে ভুট্টা, মরিচ, গরু ও গরুর দুধ উৎপাদন হয়। কিন্তু তারা এসব যথাযথভাবে বিক্রি করতে পারেনা শুধু মাত্র যোগাযোগ প্রতিবন্ধকতায়। এজন্য তিনি শুকিয়ে যাওয়া নদীগুলোকে ড্রেজিং এর মাধ্যমে সচল করে রাখা এবং সুষ্ক মৌসুমে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার পরামর্শ প্রদান করেন।
সদর উপজেলার কুন্দেরপাড়া চর নিয়ে গবেষনাধর্মী গ্রন্থ ‘কুন্দেরপাড়া নিসর্গ ও অন্তর’ এর লেখক ও গবেষক মাহমুদুর রশিদ জানান, চরের উন্নয়নে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। কেননা পরিবর্তনজনিত জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চরের মানুষজন। প্রতিনিয়ত বাড়ছে চরের পরিধি। বাস্তহারা হচ্ছে মানুষ, কমছে আবাদী জমির পরিমান। এজন্য চরের মানুষ দায়ী না হলেও ক্ষতি পুষতে হচ্ছে তাদের। এজন্য সরকারি ও বেসকারি উদ্যোগ বাড়াতে হবে, তা না হলে সরকারের স্থায়ীত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও ব্যাহত হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ