1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ১:৪১ আজ রবিবার, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি




জিইউকে এ্যাওয়ার্ড-২০১৭ পেলেন যারা

  • সংবাদ সময় : মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৮
  • ২২৫৪ বার দেখা হয়েছে

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছরে যাত্রা শুরু করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই সংস্থাটি ২০১৮ সাল থেকে চালু করে জিইউকে এ্যাওয়ার্ড। সমাজ সেবায় ২০১৭ সালে বিশেষ অবদানের জন্য গাইবান্ধার ৩জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এই এ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।  প্রতিবছর নিয়মিতভাবে কয়েকটি বিষয়ে অবদানের জন্য জিইউকে এ্যাওয়ার্ড প্রদান করবে। জিইউকে এ্যাওয়ার্ড হিসেবে  সম্মাননা ক্রেস্ট ও প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। জাতীয় সংসদের হুই্প মাহাবুব আরা বেগম গিনি এমপি নির্বাচিত তিনজনকে জিইউকে এ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।

চিকিৎসা সেবায় পাঁচপাই ডাক্তার খ্যাত নুরুল ইসলাম সরকার:
চিকিৎসার ফি হিসেবে রোগীর কাছ থেকে মাত্র পাঁচ পয়সা নেয়ায় সবাই তাকে চেনে পাঁচপাই ডাক্তার হিসেবে। নিজ জেলা ছাড়াও আশপাশের জেলার অনেকেই পাঁচপাই ডাক্তার হিসেবে চেনেন হোমিও চিকিৎসক নুরুল ইসলাম সরকারকে।
গাইবান্ধা জেলা শহরের পুরনো বাজারে নিজস্ব চিকিৎসালয়ে তিনি রোগীদের নিয়মিত হোমিও চিকিৎসা দেন। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন তার কাছে চিকিৎসা নিতে। মানুষ পাঁচপাই ডাক্তার বলে ডাকায় এই নাম নিয়ে গর্ববোধও করেন নুরুল ইসলাম সরকার।

নুরুল ইসলাম সরকারের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের পশ্চিম কোমরনই গ্রামে। ১৯২৯ সালে এ গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৫০ সালে মেট্রিকুলেশন পাস করেন তিনি। এরপর চাকরি করেন একটি কাপড়ের দোকানে। ১৯৬৭ সালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তার পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে। স্ত্রী জমিলা বেগম গৃহিণী।
১৯৬৮ সালে প্রথম এক পুরিয়া ওষুধের দাম পাঁচ পয়সা নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন নুরুল ইসলাম সরকার। তার চিকিৎসায় মানুষ দ্রæত সুস্থ হয়ে উঠলে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। আর তখন থেকেই বিভিন্ন জেলা ও  উপজেলা থেকে মানুষ ছুটে আসে চিকিৎসা নিতে। ভোর থেকেই রোগীদের ভিড় জমে শহরের পুরাতম বাজারের চিকিৎসালয়ের সামনে।

প্রতিদিনই প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগীর চিকিৎসা দিয়ে চলেছেন তিনি। এতে ওষুধের দাম ছাড়া কোনো ফি নেয়া হয় না। বর্তমানে ওষুধের দাম দুই থেকে পনের টাকা করে নেন তিনি। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা সোয়া ১টা এবং বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত রোগী দেখেন নুরুল ইসলাম সরকার।
নুরুল ইসলাম সরকার ১৯৬৮ সাল থেকে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও নিজের চেষ্টা ও বই পড়ে চিকিৎসক হয়েছেন। আন্তরিকতা, সততা, দক্ষতার সাথে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যতদিন বাঁচবেন ততদিন এই সেবা দিয়ে যাবেন এই প্রতিজ্ঞতা তার এবং আমাদেরও প্রত্যাশা তিনি দীর্ঘদিন বেঁচে থেকে এভাবেই মানুষের সেবা দিয়ে যাবেন।

শিক্ষকতায় কিংবদন্তিতুল্য ছাত্র প্রিয়তা অর্জনে অধ্যাপক মাজহার উল মান্নান:
অধ্যাপক মাজার উল মান্নান। গাইবান্ধার গিদারীর ইউনিয়নের বাগুড়িয়া গ্রামে ১৯৪০ সালের ১৫ অক্টোবর জন্ম।  পড়ালেখা প্রাইমারী নিজগ্রামে, হাইস্কুল আশপাশের স্কুল শেষে মএইচ মডার্ণ হাইস্কুলে এসে ১৯৬০ সালে মেট্রিক পাশ করেন। এই সময়টা তার কেটেছে নিদারুন কষ্টে-ক্লিষ্টে। কখনও অন্যের বাড়িতে কাজ করে কখনও লজিং থেকে অন্যের ছেলে মেয়েকে পড়িয়ে নিজের পড়া-লেখার খরচ যুগিয়েছেন। এপর ইন্টারমেডিয়েট পাস করেন  গাইবান্ধা কলেজ থেকে। এরপর বহু চেষ্টা করে কষ্টের পর কারমাইকেল কলেজে বাংলা সাহিত্যে অর্নার্সে ভর্তি হন। ১৯৬৫ সালে শিক্ষা বোর্ডে কৃতত্বপূর্ণ ফল করে অনার্স পাস করেন। একই বিষয়ে ১৯৬৬ সালে এমএ সম্পন্ন করেন।
চাকুরী জীবনের শুরুতেই তিনি নলডাঙ্গা কলেজে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে জীবন শুরু করেন। বছর দুয়েক পরেই চলে আসেন গাইবান্ধা কলেজে। ১৯৮৩ সালে বদলি হয়ে চলে যান কারমাইকেল কলেজে। সেখান থেকেই থেকেই অবসর গ্রহণ করেন ১৯৯৯ সালের অক্টোবর মাসে।
অবসর গ্রহণ করার পরপরই গাইবান্ধার আহম্মদ উদ্দিন শাহ স্কুল ও কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৬ সালের শেষে তিনি অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় প্রফেসর রমজান আলী স্যারের মৃত্যুর একই প্রতিষ্ঠানে তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন এবং এখন পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষকতা জীবনে তিনি কিংবদন্তিতুল্য ছাত্র প্রিয়তা অর্জন করেন। তার পুরনো এবং নতুন ছাত্ররা এখন তাকে জীবনের সেরা শিক্ষক বলেই মনে করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি জনগণের জন্য কাজ করেছেন অনেক। দীর্ঘ ১৪ বছর রেডক্রসে মানবতার সেবাই ছুটে গেছেন এই জেলার আনাছে-কানাছে। মানুষের আপদে বিপদে ঝড়ে-তুফানে বন্যায় খরায় সহায্য সহযোগিতা করেছেন।
সমাজ বদলের আকাংখা নিয়ে তাকে দীর্ঘ ৩ বছর একটানা কারাবরনও করতে হয়েছে। তার আছে বেশ কিছু প্রকাশনা। এরমধ্যে আত্মজীবনমূলক গ্রন্থ চোখ ভিজে যায় জলে, হাজার হাজার পাঠককে অশ্রæশিক্ত করেছে। এছাড়াও কারাগারে কারাবাসে, জীবনপড়ে তুষের আগুন, গবেষনাধর্মী গন্ত গাঁও গেরামের কথা উল্লেখযোগ্য। তাঁর লেখা অসংখ্য গল্প, কবিতা জাতীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
তাদের একমাত্র ছেলে একমাত্র ছেলে টুটুল মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, সিংগাপুরে নাগরিকত্ব নিয়ে বসবাস করছেন। ২ মেয়ে কলেজ শিক্ষক, সাহানা ও মনিষা ঢাকা এবং রাজশাহীতে। স্ত্রী নাজমা মান্নান একজন আদর্শ হিসেবে  গৃহিনী মাজহার উল মান্নানকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপাধ্যক্ষ জহুরুল কাইয়ুম:
জহুরুল কাইয়ুম। জন্ম ১৯৫৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাগুড়া জেলায় তার মাতৃলয়ে। গাইবান্ধা ইসলামিয়া হাইস্কুল থেকে এসএসসি, গাইবান্ধা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে এমএসসি ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর তিনি ১৯৮৭ সালে সাদুল্যপুরে কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৯ সালে তিনি একই কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পান।
কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি সামাজিক আন্দোলনে ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে সক্রিয় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শিশু খেলার আসর দিয়ে তিনি সংস্কৃতিক কর্মকান্ড শুরু করেন। তিনি উদীচির জেলা ও কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য পদেও রয়েছে। জেলা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন তিনি।
নিভৃতে থাকা মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্মৃতি নিয়ে তিনি গাইবান্ধা থেকে একটি স্মরণিকা বের করে যাচ্চেন। এছাড়াও জেলায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে তাঁর রয়েছে সক্রিয় ভূমিকা। গাইবান্ধার ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষায় কয়েকটি প্রকাশনায়  তাঁর লেখা প্রকাশিত রয়েছে। একটি জাতীয় পত্রিকায় তিনি সাংবাদিকতাও করছেন। তার স্ত্রী কলেজে শিক্ষকতা এবং  ২ ছেলে পড়াশুনা করছেন।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ