1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ১:২০ আজ শুক্রবার, ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি




গণ উন্নয়ন কেন্দ্র :উন্নয়ন ও সাফল্যের ৩৩ বছর

  • সংবাদ সময় : রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • ৩৬৯৮ বার দেখা হয়েছে

উন্নয়ন প্রচেষ্টায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)’র পথ চলা শুরু ১৯৮৫ সালে।    ১ জানুয়ারি সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছরের পর্দাপন করছে। বিগত শতাব্দীর নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সকল ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমতার মাধ্যমে দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি গড়ে তোলেন গাইবান্ধার সন্তান এম. আবদুস্ সালাম। তাঁর হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি শুরুর দু’দশক পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলার মধ্যেই উন্নয়ন কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলেও পরবর্তীতে জনগণের চাহিদা ও দাতা সংস্থার অনুরোধে রংপুর বিভাগের আটটি জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের বগুড়া, জয়পুরহাট ও খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া এবং সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মাঝে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে।
সংস্থাটি বর্তমানের ২ লাখ ৭০ হাজার পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত থেকে বিভিন্ন ধরণের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বর্তমানে ১ হাজার ৪শ নিয়মিত ও ৮শ অনিমিয়ত কর্মীসহ মোট ২ হাজার ৩শ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে এই সংস্থায়-যার মধ্যে প্রায় ২ হাজার কর্মীই গাইবান্ধা জেলার স্থানীয় বাসিন্দা।
জেলায় এমন কোন ক্ষেত্রে নেই যেখানে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের উন্নয়ন ছোঁয়া নেই।  উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক এই সংস্থাটি তিন দশকে দারিদ্র্যবিমোচন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ূ পরিবর্তন, ত্রাণ ও পূনর্বাসন, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা এবং তথ্য ও প্রযুক্তি সেবার উন্নয়নে বাস্তবায়িত কার্যক্রম দেশ বিদেশে ব্যাপকভাবে  প্রশংসিত হয়েছে।

সংস্থাটি গাইবান্ধা জেলা থেকে নিরক্ষরতা দূর করতে ১৯৮৯ সালে বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। অত্যন্ত সফলতার সাথে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করে। এরপর বিদ্যালয় বঞ্চিত ও ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে শুরু করে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি। ২৮ বছর ধরে এই কর্মসূচি চালু রয়েছে। এ পর্যন্ত ৬শ টি শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ১৮ হাজার শিশুকে বিদ্যালয়গামী করেছে। ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে  আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় ২৬ কমিউনিটি বিদ্যালয় স্থাপন করেছে। শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করানো হয়ে থাকে বিদ্যালয়গুলোতে। পাঠদানের সুন্দর পরিবেশ ও খেলাধূলার দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে একাইভাবে নির্মান করা হয় বিদ্যালয়ের অবকাঠামো। তবে বিদ্যালয়গুলোর নামকরণে রয়েছে এক মহতি উদ্যোগ। স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে উল্লেখযোগ্য গুণীজন, মুক্তিযোদ্ধা, কবি-সাহিত্যিক এসকল ব্যক্তিবর্গের নামে যেমন সাহিত্যিক দৌলতন নেছা আনন্দলোক বিদ্যালয়, সুফিয়া কামাল আনন্দলোক বিদ্যালয়, বীরপ্রতিক তারামন বিবি, ইলামিত্র, কবি নজরুল ইসলাম আনন্দলোক কমিউনিটি বিদ্যালয়-এসব নামেই নামকরণ করে গড়ে তোলা হয়েছে বিদ্যালয়গুলো। এছাড়াও ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রতিটি বিদ্যাদয়ে নির্মান করা হয়েছে শহীদ মিনার। ২৬টি আনন্দলোক কমিউনিটি বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫হাজার ৯শ ছেলে মেয়ে পড়া পড়াশুণা করছে।
সংস্থাটি নিজস্ব অর্থায়নে গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলে গড়ে তুলেছে ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এগুলো হচ্ছে কুন্দেরপাড়া গণ উন্নয়ন একাডেমি, জিইউকে নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং চন্দনস্বর উচ্চ বিদ্যালয়। চন্দনস্বর উচ্চ বিদ্যালয়টি বর্তমানে এমপিওভুক্ত হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন চরের ১ হাজার ৬ শ ছেলে-মেয়ে পড়া লেখা করছে।
এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি’র পরীক্ষায় ফলাফলে জিপিএ-৫ সহ ফলাফলে জেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে যাচ্ছে। পড়ালেখার পাশাপাশি সুনাম অর্জন করেছে খেলা-ধূলাসহ জেলা পর্যায়ে জাতীয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। বিশেষ করে, জিইউকে নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিযে গড়ে ওঠা নারী ক্রিকেট ও ফুটবল দল জেলা পর্যায়ে চমৎকার নৈপূণ্য রেখে যাচ্ছে। সম্প্রতি জিইউকে পরিচালিত আনন্দলোক বিদ্যালয়ের ৪ জন নারী শিক্ষার্থী জামার্নীতে শিক্ষা সফরে যায় এবং সেদেশের শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে।
কারিগরি শিক্ষার অগ্রসরে শহরের পুলিশ লাইনস্্ সংলগ্ন বহুতল বিশিষ্ট জিইউকে ইন্সিটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি নামে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। চার বছর মেয়াদি দুটি ট্রেডে বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে ৩শ শিক্ষার্থী পড়া লেখা করছে। কারিগারি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ ও ৬ মাস ব্যাপি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টারও রয়েছে গাইবান্ধা শহরে।
এছাড়াও সংস্থাটি নিরক্ষরমুক্ত জেলা গড়তে বাংলাদেশ সরকারের ’বিকশিত গাইবান্ধা’ কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিল এবং বর্তমানে সরকারের সাক্ষরতা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

অর্থনৈতিকভাবে নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য সংস্থাটির উদ্যোগ প্রতিটি দারিদ্র প্রতিটি পরিবারের ঘরে ঘরে।  অনগ্রসর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাঁস ও জীবন-জীবিকার মান উন্নয়নে এবং সময়ের প্রেক্ষাপটে সহযোগিতা করেছে নানাভাবে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল-সমিতি, ফেডারেশন, গ্রাম উন্নয়ন কমিটি ও কমিউনিটি বেইজ অর্গানাইজেশন গঠন করে তাদের মাধ্যমে সেবা প্রদান করছে। এজন্য তাদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থনৈতিক সহযোগিতা করছে।
আবার নারীদের মাঝে উৎপাদনশীল সম্পদ হিসেবে গরু, ছাগল, হাঁস-মূরগী, ভেড়া, নানা ধরণের কৃষি উপকরণ সরবরাহ করে যাচ্ছে। দেখা গেছে, সংস্থাটির কর্মএলাকার প্রতিটি পরিবারের নারী এখন আয়-উপার্জনশীল কাজের সাথে সম্পৃক্ত। চাষীরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্য নায্যমূল্য পায় এজন্য মার্কেট লিংকেজ এর কাজটিই সংস্থা সমন্বয় করেছে। আবার স্থানীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সাধারন মানুষজনের বিশেষ করে, কৃষি, স্বাস্থ্য, পশুসম্পদ,সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সাথে সেতুবন্ধন তৈরিতেও রয়েছে বিশেষ অবদান।  জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়ে জনগণের মুখোমূখি করতেও উদ্যোগ রয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাবে প্রায় ৭০ হাজার ৩শ পরিবার তাদের অতি দারিদ্র্য অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে।

দরিদ্র নারীদের অধিকার সুসংহত করতে গণ উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। সংস্থাটি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিভিন্ন পেশাজীবী নারী পুরুষ নিয়ে ‘ চেঞ্জ মেকার’ নামে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এই নেটওয়ার্কের সাথে সম্পৃক্ত সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১ লাখ ৩০ হাজার এবং প্রতিনিয়িত এই সংখ্যা বাড়ছে।  চেঞ্জমেকারেরা ব্যক্তিগতভাবে পরিবারে নারী নির্যাতন বন্ধে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ এবং নেটওয়ার্কগতভাবেও  সংসংহত।
যে কোন ধরণের পারিবারিক নির্যাতন ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে এই নেটওয়ার্কটি। দরিদ্র নারীদের ক্ষমতায়নে গণ উন্নয়ন কেন্দ্র নারীদের উদ্বুদ্ধ করে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণে উদ্ব্দ্ধু করে। এর ফলেই সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত ৪৫ জন নারী সরাসরি ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয় অর্জন করে। সংস্থাটি ২ হাজার ৮০ জন ইউপি সদস্যকে নারীর অধিকার ও দায়দায়িত্ব, জেন্ডার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে।
স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ জনমূখী করার জন্য আজ থেকে দু’দশক আগে গাইবান্ধা জেলায় সংস্থার উদ্যোগে উম্মুক্ত বাজেট ঘোষনায় সহযোগিতা করার উদ্যোগ নেয়।  গ্রাম আদালত সক্রিয় করার কাজটিও করেছে দেড় দশক আগে-যার প্রভাব এখনও জেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদে দেখা  যাচ্ছে।

কর্মহীন বেকার বেকার যুবদের দক্ষ জন শক্তিতে পরিণত করতে সংস্থাটি গড়ে তুলেছে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, ওয়েব ও গ্রাফিক্স ডিজাইন, আইটি সাপোর্ট সার্ভিস, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, আউটসোর্সিং ও ফ্যাশন গার্মেন্টস-তৈরি পোশাক এসব বিষয়ে যুবদেরকে ৩ ও ৬ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদান করে যাচ্ছে।  গাইবান্ধাতে ৬টি নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে একই সাথে ৩শ জন প্রশিক্ষণার্থীকে আবাসিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে সংস্থাটির।
প্রশিক্ষণ প্রদান শেষে তাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার নামকরা প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানে সহযোগিতা করছে।  ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত সংস্থাটি গাইবান্ধা জেলার ৫ হাজার ১৬ জন যুব প্রশিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন  কোম্পানী ও গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকুরী প্রাপ্তিতে সহযোগিতা করেছে।

সকল ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। প্রতিটি কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধীদের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার মূল¯্রােতোধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ২ হাজার ৫শ প্রতিবন্ধী শিশুকে বিদ্যালয়গামী করেছে। একীভূত শিক্ষা বিষয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাত শতাধিক শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। ৫শ ২০টি বসতবাড়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশ গম্যতায় অবকাঠামো নির্মানে সহায়তা করেছে। সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা সেবা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে-যেখান থেকে নিয়মিতভাবে সেবা দেওয়া হয়ে থাকে।  সংস্থাটি এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৫ শ বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে সহায়ক উপকরণ বিতরণ করেছে।
প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কার্যক্রমে শ্রেষ্ঠ সংস্থা হিসেবে ২০১৬ সালে ৩ ডিসেম্বর জাতীয় পুরুস্কার অর্জন করে গণ উন্নয়ন কেন্দ্র। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট থেকে সংস্থার সদস্য সচিব পুরস্কার গ্রহণ করেন।

তথ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগ প্রসংশনীয়। জেলাকে ডিজিটাল জেলায় রুপান্তিত করার লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপও তৈরি। এলক্ষ্যে দশক আগে গ্রামীণ পর্যায়ে তথ্য কল্যাণী নিয়োগ করে কৃষি, স্বাস্থ্য, আইসিটিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিকদের ই-সেবা প্রদান শুরু করে। নাগরিকগণ যাতে ঘরে বসেই ই-সেবা পেতে পারে এজন্য প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, তথ্য কেন্দ্রেও স্থাপনসহ নানা কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

১৯৮৭ সালের পর থেকে উত্তরাঞ্চলে এমন কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেই যেখানে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা ছিল না। বন্যা, নদীভ্ঙ্গান, খরা, শৈত্যপ্রবাহ, টর্ণেডো থেকে শুরু করে সকল দুর্যোগেই আপন সংস্থা হিসেবে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের কথা মানুষ মনে রাখে। একারণে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন এবং দাতা সংস্থা দুর্যোগ কার্যক্রম সক্ষমভাবে বাস্তবায়নে উত্তরাঞ্চলে অভিজ্ঞ সংগঠন হিসেবে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রর সাথে যোগাযোগ করে এবং পরামর্শগ্রহণ করে। দীর্ঘ ৩২ বছরে গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্ততপক্ষে ২শ কোটি টাকার ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে গণ উন্নয়ন কেন্দ্র। এছাড়াও গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার চর এলাকায় ৩২টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, এবং ৬৫টি ক্লাস্টার ভিলেজ (গুচ্ছ গ্রাম), ১ হাজার ৭ টি পরিবারের বসতভিটা উঁচু করেছে। ৩ শ ১০ সামাজিক প্রতিষ্ঠান উচু করতে সহযোগিতা করেছে। বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, ক্লাস্টার ভিলেজ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান উচুকরণে ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করে অবকাঠামো নির্মান করেছে। সংস্থার দুর্যোগ সংক্রান্ত অভিজ্ঞ ৪ শতাধিক কর্মী ছাড়াও ৭শ প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার রয়েছে যারা বন্যা বা যেকোন দুর্যোগে কাজ করে থাকে। ২০০৭ সালে সাইক্লোন সিডর এ ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সংস্থাটি বরিশাল জেলায় কাজ করেছে। বর্তমানে কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে গণ উন্নয়ন কেন্দ্র কার্যক্রম শুরু করেছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জিইউকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডের সুনাম রয়েছে। যার ফলে প্রতিবছরে দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক সভা, সেমিনার-কর্মশালা, সম্মেলন ও শিক্ষা সফরে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পেয়ে থাকে। সংস্থার কর্মরত তিন শতাধিক কর্মী বিভিন্ন দেশের সভা-সেমিনার, প্রশিক্ষণ, সম্মেলন শিক্ষা সফরে অংশগ্রহণ করে।  সম্প্রতি কোপ-২৩ এ সংস্থার দু’জন সিনিয়র কর্মী অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও সংস্থাটির মাধ্যমে ১০৫ জন সমিতিভুক্ত সদস্য, শিক্ষার্থী,  সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি প্রতিনিধি বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সফরে অংশগ্রহণ করে।

গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) নামের এই সংস্থাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি অর্জন করার ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছে তিনি হলেন সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস সালাম। শুরু থেকেই নিঃস্বার্থভাবে জনকল্যাণ ও মানবতার সেবায় নিবেদিত থেকে দীর্ঘপথ পরিক্রমায় শুধু গাইবান্ধা জেলাতেই নয় গোটা দেশ এমনকি বিদেশেও এখন সমাজসেবার বরেণ্য পথিকৃতিতে পরিণত হয়েছেন তিনি।
দারিদ্র্যবিমোচন ও নারী উন্নয়ন কর্মকান্ডের নির্ভিক সংগঠক এবং মানবাধিকার উন্নয়ন কর্মী এম. আবদুস্ সালাম ১৯৬০ সালের ১ নভেম্বর গাইবান্ধা শহরের মুন্সিপাড়ায় জন্মগগ্রহণ করেন। প্রয়াত পিতা আসির উদ্দিন ছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আর মা মোছা: জমিলা খাতুন গৃহিনী। বাবা-মা’র ৫ সন্তানের মধ্যে তিনি ৩য়। দরিদ্র পরিবারে কষ্টে-ক্লিষ্টের মধ্যে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ছাত্রাবস্থায় বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতায়ও যুক্ত হন। স্কুলের ছাত্রাবস্থাতেই ‘সাপ্তাহিক মুক্তিবাণী’ পত্রিকায় সংবাদ প্রেরণের মাধ্যমেই এম. আবদুস্ সালামের সাংবাদিকতায় হাতে খড়ি। সমাজ পরিবর্তনের দুর্বার মনবাসনা থেকে কাজ করেছেন কিশোর বাংলা, গণপ্রহরী ও দৈনিক আজাদসহ বেশকিছু নামি-দামি পত্র-পত্রিকায়। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন এসব পত্রিকায়। পরবর্তী পর্যায়ে উত্তরবঙ্গের সে সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা দৈনিক করতোয়ার গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
তার জীবনে ১৯৮৫ সাল আবদুস্ সালামের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। ওই বছর ছিল আন্তার্জাতিক যুববর্ষ। চীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলন। বাংলাদেশ থেকে ১০ সদস্য বিশিষ্ট সরকারি যুব প্রতিনিধি দল ওই সম্মেলনে যোগ দেন। বাংলাদেশ গ্রামীণ যুব সমিতির গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় যোগ্যতারভিত্তিতে তিনি ওই প্রতিনিধি দলে যুক্ত হয়ে চীনে যাওয়ার সুযোগ পান। এটিই তাঁর জীবনের প্রথম বিদেশ যাত্রার অভিজ্ঞতা। ‘অল চায়না ইয়ুথ ফেডারেশন’ আয়োজিত মাসব্যাপী ওই যুব সম্মেলনে তিনি জীবন মান উন্নয়নের নানা অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ পান। ওই অভিজ্ঞতা তাঁকে তাড়িত করতে থাকলো গাইবান্ধার পিঁছিয়ে থাকা অতিদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারের নারী এবং শিশুদের উদ্দেশ্যে কিছু করার মানসিকতায়। চীনের মাটিতে বসেই তিনি স্বপ্ন দেখলেন ‘গণউন্নয়ন কেন্দ্র’র। এমনকি গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নারী পুরুষের প্রতিকৃতি, ধানের শীষ ও সাদা পায়রা সম্বলিত যে মনোগ্রামটি আজ আমরা দেখি, এটির পরিকল্পনাও তিনি সেখানে বসেই করেছিলেন। এতে তিনি ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত শান্তিময় একটি সমাজ ও দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। যে সমাজে ও দেশে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশে ফিরে গণ উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি জীবন জীবিকার প্রয়োজনে ১৯৮৫ সালের শেষের দিকে ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর হিসেবে যোগদেন রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এ। সেইসাথে দরিদ্র ও অতিদরিদ্র নারীদের সংগঠিত করে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার পথ উদ্ভাবন করার মহতি উদেশ্যে গাইবান্ধা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে তাঁর স্বপ্নের বেসরকারি সমাজসেবামূলক সংগঠন গণ উন্নয়ন কেন্দ্র’র (জিইউকে) অনুমোদন গ্রহণ করেন ১৯৮৬ সালের ২ জানুয়ারি। ১৯৮৭ সালে বাবার মৃত্যু ও গাইবান্ধায় ভয়াবহ বন্যার সময় রিক এর চাকরি ছেড়ে ঢাকা থেকে একেবারে চলে আসেন গাইবান্ধায়। সেই থেকে অবহেলিত গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলের সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা তাঁকে আর তাঁর কর্মক্ষেত্রে ফিরতে দেয়নি। সমাজসেবাকেই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে স্থির করে বন্যাকবলিতদের ত্রাণ ও পূনর্বাসনের জন্য দাতা সংস্থা অক্সফ্যাম এর সহযোগিতায় রিলিফ ওয়াার্ক দিয়ে শুরু করলেন গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। এরপর আর তাকে একটিবারের জন্যও পেঁছন ফিরে তাকাতে হয়নি। নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবেলাকে প্রাধান্য দিয়েই গণ উন্নয়ন কেন্দ্র এখন দুধকুমার, ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বিধৌত রংপুর বিভাগের ৮ জেলাসহ দেশের ১১টি জেলায়  জেলায় অত্যন্ত সাফল্য ও আন্তরিকতার সাথে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
এম. আবদুস্্ সালামের হাতে গড়া জিইউকে এখন সর্বস্তরের মানুষের একটি প্রতিষ্ঠান। গাইবান্ধা শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে গাইবান্ধা-সাঘাটা-ফুলছড়ি সড়কের পাশে বোয়ালী ইউনিয়নের নশরৎপুর গ্রামে নিজস্ব অবকাঠামো ও আধুনিক ও গ্রামীণ বৈচিত্র নিয়ে গড়ে তুলেছেন ওই প্রতিষ্ঠানটি। মূল কার্যালয়ে প্রশিক্ষণ ও আবাসিক সেন্টারে দেশ-বিদেশের সরকারি-বেসরকারি নানা পর্যায়ের মানুষ এখানে আসেন শেখার জন্য। তিনি বিশ্বাস করেন দেশের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেসমুহের যৌথভাবেই কাজ করা প্রয়োজন। এজন্য সকল ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করেন। দারিদ্র্যবিমোচনে তাঁর নতুন নতুন চিন্তা ও পদক্ষেপ দেশ বিদেশে অনেকের জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। ফলে আবদুস্্ সালামের গড়া ‘গণ উন্নয়ন কেন্দ্র’ গতানুগতিক এনজিও ধারার বাইরে একটি ব্যতিক্রমী জনগণের উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
দুই যুগ পেঁছন ফিরলে চোখে পড়বে এম. আবদুস্ সালাম যখন গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের কাজ শুরু করেন তখন তিনি কখনও বা পাঁয়ে হেঁটে কখনও বা অন্যের কাছ থেকে বাইসাইকেল চেয়ে নিয়ে শহর থেকে দূরে, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছুটে বেড়াতেন। গল্প-আড্ডায় অসহায় গ্রামীণ নারী-পুুরুষের সুখ-দু:খের কাহিনী শুনতেন। গ্রামীণ নারীদের বিপন্নতা-অসহায়ত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়টি তাঁর চেতনাবোধকে জাগিয়ে তুলতো। ১৯৯২ সালে নোবেল বিজয়ী বিখ্যাত মাদার তেরেসার আশীর্বাদ পাওয়ার দুর্লভ সৌভাগ্য হয়েছিল এম. আবদুস্ সালামের। তিনি ১৯৯৩ সালে ব্রিটিশ সরকারের স্কলারশীপে ‘প্রজেক্ট প্ল্যানিং, ডেভলপমেন্ট এন্ড ডিসেন্ট্রালাইজেশন ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করেছেন ইংল্যান্ডের ব্রাডফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে। এছাড়াও একই ইউনিভার্সিটি থেকে ‘হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে আরও একটি পোস্ট গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন ২০০২ সালে। অংশগ্রহণ করেছেন অসংখ্য আন্তর্জাতিক ট্রেনিং ও সেমিনারে। জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ‘শাপলা কুড়ির আসর’ (মুন্সিপাড়া) এবং ‘বাংলাদেশ গ্রামীণ যুব সমিতি’ গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘকাল। এছাড়াও কাজ করেছেন- গাইবান্ধার অন্যতম নাট্য সংগঠন ‘মেঘদূত’ এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। এছাড়া তিনি গাইবান্ধা ফাউন্ডেশন, গাইবান্ধা ডায়াবেটিক সমিতি, গাইবান্ধা জেলা শিল্পকলা একাডেমি, গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরী এন্ড ক্লাব, জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য। জেলার স্থানীয় সমমনা এনজিওদের নিয়ে ‘গাইবান্ধা উন্নয়ন নেটওয়ার্ক’ (জিইউএন) নামে একটি ঐক্যজোট গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘ এক যুগ দায়িত্বপালন করেছেন এডাব রংপুর অঞ্চলের চেপ্টার সভাপতি হিসেবে। গাইবান্ধা প্রেসক্লাব, গাইবান্ধা জেলা ও রংপুর বিভাগীয় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির আহবায়ক, নাট্য সংস্থা, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, জেলা কারাবন্দি পরিদর্শক কমিটি ও কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, গাইবান্ধা জেলা শাখাসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের সদস্য হিসেবেও রয়েছে তাঁর দীপ্ত পদচারণা। এছাড়াও তিনি জাতীয় আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি নেটওয়ার্ক ও ফোরামের সাথেও নানাভাবে সম্পৃক্ত আছেন। আন্তর্জাতিক, দেশীয় দাতা সংস্থা ও সরকারের আমন্ত্রণে এম. আবদুস্ সালাম ৫০টির অধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন।
ইতিবাচক, সদালাপী ও সর্বজনপ্রিয় আবদুস্ সালামের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় গাইবান্ধার শিল্প-সাহিত্যের অংগন নানাভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। গাইবান্ধাবাসীর বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলন ও সংগ্রামে আছে তাঁর এবং তার সৃষ্ট সংগঠন গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ৯০’র দশকে জেলার শ্রেষ্ঠ যুবসংগঠক হিসেবে তিনি বাংলাদেশ সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক অর্জন করেছেন জাতীয় পুরস্কার। সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের প্রতি দুর্বার আকর্ষণ থেকে পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন গাইবান্ধার অন্যতম পত্রিকা দৈনিক আজকের জনগণ এর প্রকাশনায়।
সদা হাস্যজ্জ্বল ও অত্যন্ত বিনয়ী স্বভাবের এই মানুষটির জীবন সহযাত্রী স্ত্রী শামীমা মাহমুদা ইয়াসমিন। তাদের দু’পুত্র সন্তান। বড় ছেলে আবু সায়েম মো: জান্নাতুন নূর (রিশাত) বর্তমানে ইংল্যান্ডের ব্রæনেল ইউনিভার্সিটিতে বিজনেস ম্যানেজম্যান্টের মাস্টার্স সম্পন্ন করে তাঁর সংস্থার কাজ করছেন।  আর ছোট ছেলে আবু সাদাত মো: মারজাত নূর (হৃদয়) ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনে পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছেন। আবদুস্ সালাম ছোট বেলা থেকেই মানুষকে নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন। শিশুদের প্রতি তাঁর অন্যরকম মমত্ববোধ। সময়ের প্রতি সংঘাতিক রকম যতœশীল। ভ্রমণের পাশাপাশি ভালোবাসেন বই পড়তে। ইতিহাস, রাজনীতি, জীবনী, ভ্রমণ কাহিনী তাঁর প্রিয় বিষয়। প্রিয় লেখক অরুন্ধুতি রায় ও আনিসুল হক। ইদানিং পড়ছেন হুমায়ুূন আহমেদ। তার প্রিয় রং ডিপ মেরুন। এতো বড় মাপের মানুষেও অত্যন্ত সাদামাটা জীবন যাপনে অভ্যন্ত এম আবদুস সালাম। তার ভালোবাসার আরেকটি বিষয় হচ্ছে লোকসঙ্গীত।
নিরহংকারী এই মানুষটি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময়ই ব্যয় করছেন দরিদ্র ও অসহায় নারী পুরুষ এবং শিশুদের জীবন পরিবর্তনে। নারী-পুরুষের সমতা, সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষা এবং মানুষ যেন তাঁর ন্যুনতম মর্যদা ও সম্মান নিয়ে সমাজে বাঁচতে পারে এটিই তাঁর একমাত্র চাওয়া। এম. আবদুস্ সালাম হয়তোবা একদিন থাকবেন না। কিন্তু মানুষের প্রতি যে নিখাদ ভালোবাসা তিনি তাঁর বুকে লালন করেন, সেই ভালোবাসাই তাঁকে সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখবে অনন্তকাল এবং সম্প্রসারিত হবে তার লালিত স্বপ্ন গণ উন্নয়ন কেন্দ্র।

আফতাব হোসেন, উন্নয়ন কর্মী, সাংবাদিক।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ