1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সকাল ৮:১৮ আজ বৃহস্পতিবার, ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি




প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে চলছে চরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান

  • সংবাদ সময় : বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৭
  • ২৩৩৪ বার দেখা হয়েছে

আবু তাহের:
গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা-ফুলছড়ির চরাঞ্চলের বিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দেরিতে স্কুলে পৌঁছানো, সময়ের পুর্বেই ছুটি দেয়া বা ক্লাশ ফাঁকি দেয়া ও প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাশ নেয়া, যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা না পড়ালেখার মান ক্রমেই নিন্মমূখী হয়ে পড়ছে। আর এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করে কাজের কাজ কোনটিই হয়নি বলে খোদ স্কুল কমিটিতেই ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের অব্যবস্থাপনা,শিক্ষকদের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতায় চরের স্কুল গুলোতে এমন বেহালদশা হয়েছে বলে দাবী  ভুক্তভোগিদের।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা  জানান,শিক্ষা অফিসারদের নিয়ে মিটিংয়ে যেসব কথা হয় তার সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই। তাদের মতে, বকাউল্লাহ বকে যায় শোনা উল্লাহ শুণে যায়, কাজের বেলায় শুভঙ্করের ফাকি। কোন শিক্ষকই বিদ্যালয়ে নিয়মিত নয় অনিয়মিতও আসেননা।
স্কুল ফাঁকি দেয়া শিক্ষকরা সংশি¬ষ্ট শিক্ষা অফিসারদের অলিখিত মাসোহারা প্রদানে নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন বলেও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষকগণ চরাঞ্চলে শিক্ষকতার জন্য দায়িত্বভার নিলেও তারা বসবাস করেন মেইনল্যান্ডে উপজেলা বা জেলা শহরে। মাঝে-মাঝে দুএকজন শিক্ষক নৌকা যোগে বেলা ১১টা বা ১২টায় বিদ্যালয়ে পৌছান। আবার বেলা ২টা বাজতে না বাজতেই স্কুল ছুটি দিয়ে খেয়ার নৌকা যোগে বাড়ি ফিরেন বলে স্থানীয়রা জানান।  অনেকেই আবার বদলী (স্ব স্ব এলাকার অষ্টম থেকে এসএসসি ফেল) যুবক-যুবতির মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা বেতন দিয়ে প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে করে চরাঞ্চলে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক নেতাদের স্কুলে ফাঁকি দিয়ে অন্য শিক্ষকদের চরে বদলী করে নেয়ার বাণিজ্য নিয়ে তদবির করাসহ অফিসে ঘুরঘুর করার অভিযোগ রয়েছে। আবার অনেক শিক্ষক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরি করলেও তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করান স্থানীয় বিভিন্ন কেজি স্কুলে, তাদের দায়িত্বরত বিদ্যালয়ের শত-শত কোমলমতি শিশুদের সাথে প্রতারনা করে নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যত উজ্জল করা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, হেডমাষ্টাররা অফিসে কাজের কথা বলে বেশিরভাগ সময় নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অন্য শিক্ষকরাও নিয়মিত আসেন না। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে অনেক সময় আগামিতে কেমনে কমিটিতে আসেন এমন হুমকি দেয় বলে তারা কিছুই বলতে পারেনা।
অভিভাবকরা জানায়, শিক্ষা অফিসাররা তারা বছরে একদিন চরের স্কুল দেখতে আসেনা। সে সুযোগে শিক্ষকরা ক্লাশ ফাঁকি দেয়। তারা অনেক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির ছেলে বা বউকে মাসিক দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দিয়ে প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে ব্যবহার করছে। যার ফলে কমিটির সাধারন সদস্য বা অভিভাবকরা আর কথা বলতে পারেনা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরের একটি বিদ্যালয়ের কমিটির সদস্য জানায়, আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্কুল ফাঁকি দেয়ার ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে ফোনে বারবার অবগত করি। সেই শিক্ষা অফিসার বিষয়টি আবার ওই শিক্ষককে জানালে সে আমাকে হুমকি দেয়যে, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সাঘাটায় আসলে হাত পা ভেঙ্গে দিবো। প্রশ্ন ছোড়েন আমার দিকে, তাহলে বলেন, দোষ কার ? তিনি বলেন শিক্ষকদের স্কুল ফাঁকির কারনে দিন দিন ঝড়ে পড়ছে অনেক শিক্ষার্থী।
জেলা উপজেলায় শিক্ষা কমিটির আলোচনা সভা ও বিভিন্ন সেমিনারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা নিয়ে নানান কথা উঠলেও রহস্যজনক কারণে সমস্যার সমাধান হচ্ছেনা বলে বিস্তর অভিযোগ।
চরাঞ্চলের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশীর ভাগ শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে পারিবারিক কাজে কেউ বা বিশ^বিদ্যালয়ে আরো বড় ডিগ্রি নিতে ব্যস্ত থাকেন। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয়ে এসে হৈ হুল্লোড় করে বাড়ি ফিরে। চরাঞ্চলের বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মাসে পালাক্রমে ২/১ জন শিক্ষক দেরিতে স্কুলে এলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল ছুটি দিয়ে চলে যান। কোন স্কুলে ২/৩ জন শিক্ষকের পরিবর্তে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে চালিয়ে নেয় বছরের পর বছর। ফাঁকিবাজ শিক্ষক একদিন এসে মাসের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।  অনেকেই আবার হাজিরা খাতা বাড়িতে রেখেই স্বাক্ষর করেন। সহকারি শিক্ষা অফিসারেরাও  এসে শিক্ষক ও ছাত্র হাজিরা খাতা বিদ্যালয়ে না পাওয়ার মত গুরতর অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে চরাঞ্চলের কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, আমরা সকাল থেকেই বিদ্যালয়ে পৌঁছার জন্য তৈরি হয়ে থাকি। কিন্তু খেয়ার নৌকা সকাল সাড়ে ১০টায় ছেড়ে যায়। সে কারণে বেলা সাড়ে ১১টার পুর্বে স্কুলে পৌছাঁনো সম্ভব হয়ে উঠেনা। আবার বেলা ৩টায় ওই পাড়ের খেয়া নৌকা ছেড়ে আসে তাই বেলা আড়াইটায় ছুটি দিয়ে খেয়াঘাটে আসতে হয়। নৌকা ফেল করলে ওইদিন পারাপারের আর ব্যবস্থা থাকেনা। তখন বেশি টাকা দিয়ে রিজার্ভ নৌকা নিয়ে ফিরতে হয়।
চরের প্রায় সকল স্কুল গুলোর একই চিত্র। স্কুল ফাঁকি দেয়ার সুযোগ থাকায় অনেকেই চরে বদলী নিচ্ছেন। অপর দিকে সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তারাও মোটা অংকের সেলামী পেয়ে থাকেন। শিক্ষা অফিসারের কোনদিন চর এলাকায় পরিদর্শনে যাননা, প্রয়োজনে পরিদর্শন খাতা অফিসে নিয়ে স্বাক্ষর করেন।আর সে কারনেই শিক্ষকদের দাপট বেড়ে যায়।
এছাড়াও উপবৃত্তি প্রদানে অনিয়ম, বিদ্যালয় উন্নয়নের অর্থ লোপাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু অধিকার লংঘনসহ নানা কারণে চরের প্রাথমিক শিক্ষায় অচল অবস্থা বিরাজ করছে।
সংশি¬ষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, চরাঞ্চলে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ করা হলেও আগের তুলনায় চরে শিক্ষার মান দিনদিন আরো হ্রাস পাচ্ছে।
অর্থের বিনিময়ে শিক্ষকদের স্কুলে না যাওয়ার সুযোগ দেয়া প্রসঁেঙ্গ সাঘাটা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মামুন উর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি অর্থ গ্রহনের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি অল্প কিছুদিন পুর্বে যোগদান করেছি। শিক্ষক স্কুলে না যাওয়ার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি এবং কয়েকজনকে ৪৮ ঘন্টার মাঝে জবাব দেয়ার জন্য শোকজ করেছি। এছাড়া আমার করণীয় কি আছে ? নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক সহকারি শিক্ষা অফিসার বলেন, রাজনৈতিক কারণে ওই সব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়ে উঠেনা।
সাঘাটা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আজিজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকরা স্কুল ফাঁকি দেয় ও বদলী লোক (প্রক্সি শিক্ষক) দিয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করানো হয় এটা আমার জানা নেই।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ