1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সকাল ৮:২৩ আজ সোমবার, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি




গাইবান্ধা-১ আসনে আ’লীগ’র অর্ধডজন বিএনপি-জাপার একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী

  • সংবাদ সময় : সোমবার, ৭ আগস্ট, ২০১৭
  • ২২১১ বার দেখা হয়েছে

গোলজার রহমান, সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি:
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো এক বছরের অধিক সময় বাকী থাকলেও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আসনেও বইছে নির্বাচনী হাওয়া। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীনদল আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি দলকে সুসংগ¬ঠিত করাসহ দলীয় সদস্য সংগ্রহ ও সদস্যপদ নবায়নের কার্যক্রম শুরু করেছে। সেইসাথে দলকে গতিশীল করতে দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে সংযোগ রক্ষা করার চেষ্টাসহ জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানকার রাজনীতির মাঠ এখন সরগরম।
রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন কে পাচ্ছেন তা নিয়ে এখনো নেই কেন্দ্রের কোন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা।  তবে সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, এই আসনে কে কে দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন ইতোমধ্যে ভোটাররা তাদের বিবেচনায় নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রার্থীরা দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। ০১ টি পৌরসভা ও ১৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসন। উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে নৌকার মাঝি হওয়ার আশা প্রকাশ করছেন অন্তত: অর্ধডজন আওয়ামীলীগ নেতা। তারা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহমেদ, প্রয়াত এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বড় বোন আনন্দ গ্রæফ অফ কোম্পানিজ এন্ড ইন্ডাসট্রিজ এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আফরুজা বারী, প্রয়াত এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের সহধর্মীনি সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি, পৌর মেয়র ও ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি সৈয়দা মাসুদা খাজা, জেলা আওয়ামীলীগ উপদেষ্টা সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম, দীর্ঘদিন থেকেই উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভালবাসি সুন্দরগঞ্জ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রেজাউল আলম রেজা, জাসদের একমাত্র প্রার্থী এ্যাডঃ মোহাম্মদ আলী প্রামানিক।
২০১৭ সালের ২২ মার্চ জাতীয় সংসদ উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদ বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড জনতার মাঝে তুলে ধরতে আমি সক্ষম হয়েছি। আমি উপ-নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়ে বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণ ব্রীজ- কালভাট নির্মাণ, রাস্তা পাকাকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও সংস্কার, নদীশাসন এবং তিস্তা ব্রীজ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজে হাত দিয়েছি। ফলে সাধারণ মানুষের সাথে একটা সুসস্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মাননীয় জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে সর্বস্তরের জনসাধারণের সমর্থন আগামীতেও পাব বলে আমার বিশ^াস। এদিকে আফরুজা বারী নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষদের সাথে মত বিনিময়সহ বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। গত উপ-নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। উপজেলার সকল ইউনিয়ন, ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি সেক্রেটারীসহ সকল স্তরের আ’লীগ আফরুজা বারীকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য লিখিত ভাবে সমর্থন জানিয়ে ছিলেন।
জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এবং জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি সাবেক পিপি এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জিন্নাহ। বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর প্রার্থী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও হরিপুর ইউনিয়নের ৩ বারের চেয়ারম্যান মোজাহারুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে সদস্য সংগ্রহসহ নবায়নের কার্যক্রমকে গতিশীল করে নেতাকর্মীকে উজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ২ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন- ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চেয়ারম্যান জাপা চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের আইন ও বিচার বিষয়ক উপদেষ্টা ও উপজেলা জাপা সভাপতি ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। জাপা’র মনোনয়ন প্রত্যাশী আরেকজন হলেন ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা মহসিন। এছাড়াও জামায়াত নেতা ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান সম্ভাব্য প্রার্থী। এ আসনে জামায়াতের  ভোট বেশি থাকায় ২০ দলীয় জোট সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচন করলে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান ধানের শীষ  প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারেন এবং এ সম্ভবনাই বেশি।
উল্লেখ্য দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসন থেকে আওয়ামীলীগ প্রার্থী এ্যাড. শামছুল হক নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইডিএল থেকে নির্বাচিত হন অধ্যাপক খন্দকার রেজাউল করিম। ১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪ জন প্রতিদ্ব›িদ্বর মধ্যে জাতীয় পার্টির হাফিজুর রহমান প্রামাণিক ৬৯ হাজার ৩শত ৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ আবুল হোসেন খাজা ২৯ হাজার ৩শত ৪৭ ভোট, আওয়ামীলীগ প্রার্থী এ্যাডঃ মোসলেম আলী মিয়া ১৯ হাজার ৩শত ৮২ ভোট এবং জামায়াত নেতা মমতাজ উদ্দিন পেয়েছিলেন ১৪ হাজার ৭ শত ২৮ ভোট। ১৯৮৮ সালে ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩ জন প্রতিদ্ব›িদ্বর মধ্যে জাতীয় পার্টির নেতা হাফিজুর রহমান প্রামাণিক ৫৩ হাজার ৩ শত ৮০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় বারের মত নির্বাচিত হন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সাত্তার সরকার পেয়েছিলেন ২৮ হাজার ৮শত ৭৮ ভোট।
১৯৯১ সালে ২৭ ফেব্রæয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৩ জন প্রতিদ্ব›িদ্বর মধ্যে জাতীয় পার্টির নেতা হাফিজুর রহমান প্রামাণিক ২৮ হাজার ৭ শত ৭৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় বারের মত নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াত নেতা আবু সালেহ মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া পেয়েছিলেন ২২ হাজার ৭ শত ৩২ ভোট, আওয়ামীলীগ প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আহমেদ ১৯ হাজার ৬ শত ৬০ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ আসনে অনুষ্ঠিত হয়নি। একই সালের ১২ জুন ১১ জন প্রতিদ্ব›িদ্বর মধ্যে জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা ৫৭ হাজার ৩ শত ১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াত নেতা আবু সালেহ মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া পেয়েছিলেন ৩৭ হাজার ৭ শত ৪০ ভোট এবং আওয়ামীলীগ প্রার্থী এ্যাডঃ মোসলেম আলী মিয়া ২৮ হাজার ৫ শত ৮৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন।
২০০১ সালে ১ অক্টোবর সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪ দলীয় জোটের শরীক দলের জামায়াত নেতা আবু সালেহ মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া ৭৫ হাজার ৪ শত ৭৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›িদ্ব জাতীয় পার্টি (এরশাদ)’র সাবেক এমপি ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা পেয়েছিলেন ৫৭ হাজার ৪৮ ভোট, আওয়ামীলীগ প্রার্থী সৈয়দ আবুল হোসেন খাজা ৪৬ হাজার ৮৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪ জন প্রতিদ্ব›িদ্বর মধ্যে মহাজোটের জাপা (এরশাদ) নেতা  কর্ণেল (অব.) ডাঃ আব্দুল কাদের খান ১ লাখ ৬০ হাজার ৭ শত ৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম ৪ দলীয় জোটের জামায়াত নেতা আবু সালেহ মোঃ আব্দুল আজিজ মিয়া পেয়েছিলেন ৭০ হাজর ২ শত ৬০ ভোট। এ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৭১ হাজার ৬ শত ২৩ জন। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ছিল ৮৭ দশমিক ২৮।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫ জন প্রতিদ্ব›িদ্বর মধ্যে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ১ লাখ ১৮ হাজার ১শত ৫২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটমত প্রতিদ্ব›িদ্ব জাপা নেতা কর্ণেল (অব.) ডাঃ আব্দুল কাদের খান পেয়েছেন ১৩ হাজার ভোট।
২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সাবেক এমপি আব্দুল কাদের খান জেল হাজতে আছেন।
২০১৭ সালের ২২ মার্চ জাতীয় সংসদ উপ-নির্বাচনে ৭ জন প্রতিদ্ব›িদ্বর মধ্যে উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও চন্ডিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা আহমেদ ৯০ হাজার ১মত ৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›িদ্ব উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও জাপা চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ এর আইন ও বিচার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী পেয়ে ছিলেন ৬০ হাজার ১শত ভোট।
আগামী দিনেও আওয়ামীলীগ এ আসনটি ধরে রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করছে। পাশাপাশি জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এবং ২০ দলীয় জোট আসনটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় আছে।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ