1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় দুপুর ১:১৭ আজ মঙ্গলবার, ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি




গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত: বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকট

  • সংবাদ সময় : শুক্রবার, ১৪ জুলাই, ২০১৭
  • ১৫২ বার দেখা হয়েছে

আফতাব হোসেন:
ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি শুক্রবার গাইবান্ধা জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে বন্যা কবলিত এলাকার পানিবন্দী মানুষরা খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকট, পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থাসহ নানা সমস্যায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গো-ঘাট, ফুলছড়ির কুচখালি, হারোডাঙ্গা, কাবিলপুর এলাকা অব্যাহত ভাঙ্গনে এখন বিপন্ন। এরমধ্যে ব্যাপক ভাঙনের ফলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বন্যার পানির স্রোতে কামারজানি ইউনিয়নের কলমু এসএমসি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দেবে গেছে। শুধু তাই নয়, নদী ভাঙনের ফলে কামারজানির গোঘাট এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৭০টি পরিবার তাদের বাড়িঘর সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে গেছে। এছাড়া বন্যার পানির তীব্র স্রোতের কারণে ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়িয়া বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধটি চরম হুমকির রয়েছে। জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল তাৎক্ষনিক ভাঙন উপদ্রব ৭০টি পরিবারের মধ্যে জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ বিতরণ করেন।
৪টি উপজেলায় ব্যাপক এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়ায় প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারিভাবে যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে তা চাহিদার তুলনায় একেবারে নগন্য। কোন রাজনৈতিক দল, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা এনজিওদের ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা যায়নি। ফলে বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষ জনপ্রতিনিধিদের উপর চরম অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েছে। এব্যাপারে জেলা আওয়ামী লাীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামছুল আলম হীরু বলেন, সরকারি ত্রাণ তৎপরতার সাথে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও কাজ করছে। তবে শীঘ্রই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রিলিফ বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান মন্ডল জানান, আমরা এখনও ত্রাণ তৎপরতায় বন্যা উপদ্রব এলাকায় যেতে পারিনি। তবে শীঘ্রই দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হবে। অপরদিকে জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রশিদ সরকার জানান, বৃহস্পতিবার তিনি ফুলছড়ির দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। ওই এলাকায় মানুষের এখন হাহাকার অবস্থা। শীঘ্রই জাতীয় পার্টির ত্রাণ তৎপরতা চালানো হবে।
এদিকে বন্যার পানির কারণে এরইমধ্যে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গাইবান্ধা সদর,উপজেলার নিæাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ১৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুব একটা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
৪ উপজেলার ১৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসাও রয়েছে। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ১৫টি, সদরে ১৯টি, ফুলছড়িতে ৬৫টি এবং সাঘাটা উপজেলায় ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিকের ১২টির মধ্যে সদরে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা রয়েছে চারটি, ফুলছড়ি উপজেলায় চারটি মাধ্যমি ও দুইটি মাদ্রাসা, সুন্দরগঞ্জে দুটি মাধ্যমিক ও সাঘাটায় দুটি মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ১৮ লাখ টাকা, ৩২৫ মে. টন চাল এবং ৪ হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া গেছে। তা বিতরণের কাজ চলছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ২শ’ ৪১ হেক্টর জমির পাট, আউশ ধান, আমন বীজতলা ও শাকসবজি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে ভানবাসি মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি  ও শকুনো খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। তবে বেসরকারি সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র  পানি বিশুদ্ধকরণ মেশিনের মাধ্যমে  বন্যা কবলিত এলাকায় প্রতিদিন ২ হাজার পরিবারের মাঝে পানি সরবরাহ করছেন।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ