1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সকাল ৯:২৮ আজ বৃহস্পতিবার, ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি




হেলাল পার্ক ঈদগাঁ থেকে গাইবান্ধার শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়াম

  • সংবাদ সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০১৭
  • ৫৬৩১ বার দেখা হয়েছে

আফতাব হোসেন:
গাইবান্ধার শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়াম। উত্তরজনপদের স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে অন্যতম স্টেডিয়াম হিসেবে স্থান করে নিয়েছে ক্রীড়াঙ্গনে। গাইবান্ধার হেলাল পার্ক ঈদগাঁহ মাঠ থেকেই গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন খেলার মাঠ আজকের শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়াম। যে মাঠে আজ থেকে সেই সুদীর্ঘ ৬০ বছর আগে প্রথম খেলাধুলা শুরু হয়েছিল।
১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত উত্তর জনপদের তৎকালীন গাইবান্ধা মহকুমা শহরে ছিল না কোন ফুটবল খেলার মাঠ। আন্তঃস্কুল ও মহকুমা পর্যায়ের সব গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল খেলা এবং এ্যাথলেটিকস্ প্রতিযোগিতা হতো শহরের কেন্দ্রস্থলের মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নয়তো পাশের ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। মাঠের চারপাশে জায়গা কম স্বপ্লতা থাকায় দর্শকদের খেলা দেখতে হতো পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে নয়তো বিদ্যালয়ের ছাদে উঠে। তবে সেসময়ে ক্রিকেট খেলা এতোটা জনপ্রিয় ছিল না। ফুটবল আর এ্যাথলেটিকস্ তখন ছিল অতিজনপ্রিয় খেলা।
গাইবান্ধার ক্রীড়া সংগঠকরা সেসময় খেলার মাঠের সমাধানে তৎপরতা শুরু করেন। এর ফলশ্রæতিতে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক হেলাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী শহরের দক্ষিণে রেললাইনের পার্শ্বে বিনোদনের জন্য একটি পার্ক এবং কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ মাঠ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এজন্য ৫ একর জমি সংগৃহিত হয়। অনেক মানুষ তাদের জমি স্বেচ্ছায় দান করেন। বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক প্রয়াত ফজলুর রহমান চেচারু মিয়াও এই খেলার মাঠে জমিদান করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে,  সে সময় ওই এলাকাটি ছিল নীচু জলাশয় এবং যা ছিল এ অঞ্চলের বড় বিল ভেকির বিলের অংশ। বৃটিশ আমলে এই বিলের মাঝখান দিয়েই রেললাইন নির্মিত হয়। এর পশ্চিমের অংশ এখনও ভেকির বিল নামেই পরিচিত। যদিও ইদানিং সেখানে এখন বিলের লেস মাত্র আর নাই। গড়ে উঠেছে অনেক বসতবাড়ি এবং আবাদি জমি।
মহকুমা প্রশাসক হেলাল চৌধুরী নিজেও একজন ভাল খেলোয়াড় ছিলেন। তাই তার ইচ্ছে ছিল এই ঈদগাঁহ মাঠেই দুই ঈদের নামাজ এবং পাশপাশি অন্য সময়ে তাকে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করা। অত}পর ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে সংগৃহিত জমির পূর্বপাশে একটি পুকুর খুঁড়ে সেই মাটি দিয়ে নীচু জায়গা ভরাট করে ঈদগাঁহ মাঠ নির্মাণ করা হয়। আর পুকুরটার চারপাশের পাড় মাটি দিয়ে বেঁধে পুকুরের উত্তর পার্শ্বে একটি শান বাঁধানো ঘাটও নির্মিত হয়। আর এর নাম রাখা হয় মহকুমা প্রশাসকের নামানুসারে হেলাল পার্ক।
এরপর মহকুমা প্রশাসক ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগষ্ট ঈদগাঁহ মাঠে পরিচালনার জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করে মাঠটি ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেন। শর্ত এবং চুক্তি থাকে যে, মহকুমা ক্রীড়া সংস্থা পরিচালিত ফুটবলসহ সবধরণের খেলা এই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। খেলার টিকেট বিক্রয়লব্ধ অর্থের নির্ধারিত পরিমাণ টাকা পাবে ঈদগাঁহ ট্রাস্ট। মাঠ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য। সেই ঈদগাঁহ ট্রাস্টের সদস্য ছিলেন তৎকালীন মহকুমা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক ক্রীড়া সংগঠক ডাঃ মফিজার রহমান, আব্দুল আউয়াল খাঁ, দেবেন্দ্র নাথ রায়, লাবন্য বিকাশ রায়, সাইদুর রহমান, শাহ বশির উদ্দিন, শিক্ষক আব্দুল কাদের, অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ আমির উদ্দিন সরকার, ফজলুর রহমান চেচারু মিয়া এবং এতে পদাধিকার বলে সভাপতি ছিলেন মহকুমা প্রশাসক এবং সদস্য গাইবান্ধা মিউনিসিপ্যালেটির চেয়ারম্যান।
এরপর প্রয়োজনের তাগিদে ঈদগাঁহ মাঠ পাশের জমিতে স্থানান্তর করে  এটি গাইবান্ধা স্টেডিয়াম হিসেবে পূর্ণাঙ্গ খেলার মাঠে রূপান্তরিত হয়। গাইবান্ধার কৃতি সন্তান বাংলাদেশ গণ পরিষদের প্রথম স্পীকার শাহ আব্দুল হামিদের নামানুসারে প্রাচীন এই খেলার মাঠের এখন নাম হয়েছে শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়াম। বর্তমানে এই স্টেডিয়ানে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট খেলা নিয়মিতভাবে চলে আসছে। গাইবান্ধা-১ আসনে সংসদ জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খেলা-ধূলা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও ট্ঙ্গাাইলে গাইবান্ধার মালিকানাধীন নাহীদ কটন মিলস্্ এর সত্ত¡াধিকারী জেলা ক্রীড়া সংস্থায় নিয়মিত পৃষ্টপোষকতা করায় স্টেডিয়ামটি সবসময়ে ক্রীড়া উৎসব বিরাজ করে।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ