1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় বিকাল ৩:১৫ আজ বুধবার, ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি




রৌমারী-রাজিবপুরে রি-কল প্রকল্প-পাল্টে গেছে জীবনচিত্র

  • সংবাদ সময় : বুধবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৭
  • ২৮০ বার দেখা হয়েছে

রৌমারি প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ ঘেষা বাইশপাড়া গ্রাম। প্রথমে নদীভ্ঙ্গানের শিকার ২২টি পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস শুরু করাই নাম দেয় বাইশপাড়া। পরবর্তীতে এই গ্রামে গড়ে ওঠে বসতি স্থাপন করে প্রায় ৮ শত পরিবার। ৩৫৫জন নারী, ৩৫২জন পুরুষসহ মোট ৮শর উপরে জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই গ্রামের দৃশ্যপট দেখলে মনে হবে না এটি কোন চরের গ্রাম। বাড়িতে-বাড়িতে ফ্রিজিয়ান গরুর ছোট-বড় খামার। দুধ উৎপাদন ও সংরক্ষণের আধুনিক উপকরণ, প্রত্যেক বাড়িতে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিণ, দুর্যোগ ও জলবায়ু সহনশীল উচুঁ বাড়িঘর, এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছেলে মেয়েদের জন্য পৃথক ওয়াস ব্যবস্থা, কৃষি জমিতে উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ, বীজ সংরক্ষণ, দুর্যোগকালীন আপদ মোকাবেলায় খাদ্য ব্যাংক, নারীদের বিনোদনের জন্য খেলার সামগ্রী হিসেবে আড্ডা স্থান, গ্রামভিত্তিক সংগঠন সদস্যদের সাপ্তাহিক বসার স্থান এসব দৃশ্যতই দেখা মেলে গ্রামের প্রতিটি অংশে। এছাড়াও দুর্যোগ ও জলবায়ুর পরিবর্তনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, বাল্যবিয়ে বন্ধ, কৃষিতে অধিক ফলনসহ নানা বিষয়ে সচেতনতামূলক পোষ্টার, বিলবোর্ডসহ নানা কিছুই দেখা যায়। গ্রাম ঘুরে দারিদ্রতার ছোঁয়া পাওয়া যায়না কোন পরিবারে। সবাই কাজ-কর্ম নিয়ে ব্যস্ত।
বর্তমানে গ্রামটির পরিবর্তনের পিঁছনে সময় লেগেছে মাত্র ৩ বছর বলে জানান বাইশপাড়া গ্রামের ফিরোজা বেগম। তিনি বলেন দাতা সংস্থা অক্সফ্যামের সহযোগিতায় রিজিল্যান্স থ্রো ইকোনমিক ইম্প্যাওয়ারমেন্ট ক্লাইমেট এ্যাডাপটেশন লিডারশীপ এন্ড লার্নি- রি-কল প্রকল্পে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) বাস্তবায়িত কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাবেই পুরো গ্রামটির এই চিত্র। বাল্যবিয়ে আর নারী নির্যাতনের কোন রেকর্ড নেই বাইশপাড়ায়। তিনি বলেন প্রতিবাদ করে না মানুষের মধ্যে ইতিবাচক আর নেতিবাচক বিষয়ে ধারনা দিয়েই এই ফল পাওয়া গেছে।
শুধুমাত্র বাইশপাড়া গ্রামেই না রৌমারি ও চররাজিবপুর উপজেলার  ৫টি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের চিত্র প্রায়ই একই। দেশিয় ও ফ্রিজিয়ান গরু পালন, উন্নত পদ্ধতিতে কৃষি চাষাবাদ, দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত পদক্ষেপ, নারীর নির্যাতন প্রতিরোধ এসব উদ্যোগের শুধুমাত্র প্রকল্পের সাথে উপকারভোগী ছাড়াই দেখা গেছে পুরো এলাকার লোকজন পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হয়েছেন।
বাইশপাড়া গ্রামের সুর্যমূখী সমিতির রমিচা বেগম জানান, চরের মানুষ নানা কুসংস্কারের মধ্যে বন্ধ ছিলাম, কিন্তু গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করে ব্যক্তিগতভাবে নানা বিষয় সম্পর্কে জানা হয়েছে। এখন নিজ বাড়িতে গরু পালন করে সংসারের অভাব অনটন আর নেই বলেই জানান তিনি। একই কথা রমিচা বেগমের। তিনি বলেন নিজেদের অধিকার আদায় করতে শিখেছি। সরকারি যেধরণের সেবাপ্রাপ্তির অধিকার রয়েছে-তা এখন আমরা ভোগ করছি। সরকারের লোকজনও অত্যন্ত সহায়ক বলেও তিনি জানান।  হামিদা খাতুন জানান, বাইশপাড়া গ্রামে অন্ততপক্ষে ৬শ পরিবার দুধ উৎপাদনের সাথে জড়িত। তিনি বলেন আগে দেশিয় জাতের গরুর পেঁছনে সময় ও অর্থ ব্যয় হলেও কোন লাভ হয়নি। অথচ বর্তমান গ্রামটি প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২শ লিটার দুধ সংগ্রহ  করা হয় বলেও তিনি জানান। এই গ্রামেরই ফিরোজা বেগম তার ফ্রিজিয়ান গরুর সংখ্যা বর্তমানে ১১টি। ইতোপূর্বে বিক্রিও করেছেন। সবমিলিয়ে তিনি এই সময়ের মধ্যে অর্ধ কোটি টাকা সম্পদের মালিকও হয়েছে।
সম্প্রতি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এসব সুবিধাভোগী পরিবারগুলো তাদের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। এসময় নুরমোহাম্মদ জানান, প্রচেষ্টা আর উদ্যোগ থাকলে জীবনে সফলতা আসে এটাই প্রমান করেছে বাইশপাড়া গ্রামের মানুষ।
এ প্রসঙ্গে  রি-কল প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেট মুনির হোসেন জানান, মানুষের মধ্যে নতুন কিছু গ্রহণ করার মানসিকতা এবং চেষ্টা ও উদ্যোগ থাকলে পবির্তন অবশ্যই আসে। যে পরিবর্তন হয়েছে বাইশপাড়াসহ প্রকল্পের পুরো এলাকাতেই। এক্ষেত্রে তিনি উন্নয়ন পরিকল্পনায় সরকারি-বেসরকারি এবং সিবিওদের যৌথ উদ্যোগের কথাও জানান।
এবিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান তারা জানান, প্রকল্পটি সত্যিকারভাবেই মানুষের জীবনযাত্রা সাথে সম্পৃক্তযুক্ত ছিল বলেই পরিবর্তন দৃশ্যত হয়েছে। এধরণের প্রকল্পের মেয়াদ অন্যান্য এলাকায় বাস্তবায়নের জন্য সরকার, এনজিও ও দাতাসংস্থার প্রতি পরামর্শ দেন।
বাস্তবায়নকারী সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান জানান, দুর্যোগ ও জলবায়ু ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় কমিউনিটি ভিত্তিক সক্ষমতা তৈরি করলে মানুষের জীবনযাত্রায় ক্ষতিও কমে। এজন্য তিনি জিও-এনজিও যৌথ উদ্যোগ এবং সংগঠনের কর্মীদের আন্তরিক দায়িত্ববোধের ফলে প্রকল্পের সফলতা অর্জিত হয়েছে বলে দাবী করেন।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ