1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় বিকাল ৩:০৫ আজ মঙ্গলবার, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি




ক্যা বাহে ব্যাজার হলেন?

  • সংবাদ সময় : রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৭
  • ২৬৭ বার দেখা হয়েছে

সৈয়দ নুরুল আলম জাহাঙ্গীর:
বাহে কুড়ানু ? কাল আত হাতে তোর চাচী  মোর  ঘুম হারাম করি দিচে, মুই এখন কার কাচে যাম বাহে? যদিল একখান ব্যবসা থাকলো হয়? পাটার ব্যাপারী হনুহয়, হনুহয় আজাদমিয়ার নাকান বড় একটা মুনুহারী দোকানদার । তোর চাচীর সউগ আল­াদ পুরন করনু হয়। কুড়ানু হুজ্জত আলীর কতা শুনিয়া কয়, কি হচে মোক খুলি কও। বাড়ীর ভাঙ্গা টংখানোত বসিয়া চাচা ভাস্তা  আল­াপ শুরু করতেই মজর আসিয়া হাজির , তার পাছে করিম বকস, নেদারু,  কানা তপজ্জল , সগলে আসি  বসে। সগলোরে চোকে মুকে কেমন একটা ভাব । মনেহয় কঠিন দিন যাতিছে সগলেরে। হুজ্জত আলী কয়, ক্যা বাহে তোরা এতগুলা মানুষ কোটে যান? নেদারু কয়, বাহে হুজ্জতচা, তোমার কাছে আনো বাহে, কতা আচে। হুজ্জতআলী ভাবে, আজা বছরকার পয়লা দিন, পয়লা বৈশাক, কোন বা ন্যাটা বাজাবার আচ্চে এরা। হুজ্জত আলী গলাটা খ্যাকরেয়া কয়,  তারাতাড়ি কও তো বাহে, মোর আজা ব্যাতালা আছে। নেদারু কয়, বাহে পয়লা বৈশাক পালনের সউগ খাইখরচ কিনি দিনু বাহে। হাওয়াজ, পিয়াজ, ত্যাল মসলা, গোস্ত, তামানে কিনি দিনু বাহে। তাও বৌয়ের মন ভরেনা। এই থরচখালা  আর ছল পলের বৈশাকী কাপড়  কিনতে একপালা চাউল বেচার টেকা গেল মোর, তাও বাড়ীওয়ালীর মন ভরেনা, একন বায়না ধচ্চে  রংগীন শাড়ী বেলাউজ আর হাজার পাওয়ারী রং কিনি আনা নাগবে। কওতো বাহে মুই কি করোম? হুজ্জত আলী চোখ দুটা বন্ধ করি ভাবে, চোখ পিটপিটায়, শ্যাষে চোখ খুলিয়া কয়, বাহে নেদারু যা চাবে দেওয়ায় নাগবে। নাদিলে সংসারের শান্তি নষ্ট করবু? মজর কয় বাহে এই গেরামোত কেটা খরচ করে নাই দেখাও? করিম বকস মজরোক একটা ধমক দিয়া কয়, আরেহে- গেরামের সগলে মানে? যামরা সরকারী চাকরী কচ্চে তামাক সরকার ভাতা দিচে, দেকি আয় তামার বউ ছলের তামসা । সাতদিন হাতে টাউনোত যায় আর আসে, খরচে ফুরায়না তামার। কানা তপজ্জল কয়,বাহে হুজ্জত চাজী, দক্ষিন পাড়াত বলে আজা রং খেলা হবে বাহে, ম্যায়ায় মদ্দে কমর বান্দি আচে। করিম বকস কয়, তোউবা, তোউবা- জেবনে যা দেকি নাই দেকপানাগচি, যা শুনি নাই শুনবানাগচি বাহে। আরো যে কি দেকমো আর শুনমো। কুড়ানু কয়, গাঁযোত কি হয় হোকতো, মানা করবেন, শুনবা নয়,কাঁই কার বাপের গায়োত, মাওয়ের গায়োত  রং নাগে দিবে ঠিক নাই । কানা কয়, বাহে মোর বেটাক নিয়া আর পামনা বাহে, বন্দু বান্দব নিয়া রং খেলাবে, সগলেরে বউ গুলাও বলে খাকবে। কার বউয়ের গায়োত কেটা রং দিবে ঠিক আচে? হুজ্জত আলী কয়, দেখো এগলা নিয়া বিচার শালিশ না হলে ভালো ; মজর কয় ক্যা বাহে মোর বউয়োক চেত্তর করি রং মাকি দিবেন? জায়েজ নাজায়েজ নাই? কুড়ানু কয়, দুর বাহে তোমার  বউয়োক চেত্তর করলে তার বউয়োক তুইও চেত্তর করি রং মাখি দিবেন, বাস শোদবদ হয়া যাবে। মজর কয়, বাহে টাউনোত আর যাবানম, দেখম গেরামোত কেমন করি রং খেলে ওমরা। কিন্তু কুড়ানু নাছোড় বন্দা, কয় হুজ্জতচাজী  কতা দিচেন, টাউনোত যায়া মংলু যাত্রা দেকমো। হুজ্জত কয়, হ বাহে কিসোক যে কতা দিনু বাহে?মজর কয়, বাহে হুজ্জতচা, হাটোতো যাই, মংলু যাত্রা কি বাহে? মোর চৌদ্দ গুষ্টি কবার পাবা নয়। নেদারু কয, বাহে হুজ্জতচাজী, হাটো সগলে যাই, সগলে হৈ দিয়া মোক টানাটানি করি ঘাটা ধরে। টাউনের পার্কের কানিত যায়া সগলে এনা দম নিবার জন্যে বসি। পার্কটার চারোপাকে কুরমুড়ি, খই, বাতেসা,আর খেলনার দোকান ভরি গেচে। মজর কয়, বাহে চাজী মোর মুত বাড়াচে বাহে মোতম কোটে? নেদারু খেকরী ওটে, কয় এই শালাক কনু বেশী পানি খাসনা, পৌরসভার দোকানটাত যায়া চারগ্লাস পানি খাচে। বোজেক এখন, কোটে মুতপু মোত। নেদারুর কতা শুনিয়া মজর কান্দো কান্দো হয়। কয়, দেকচেন চাজি দেকচেন? হুজ্জত আলি কয়, বাহে ওক এনা নিয়া যায়া মোতে আন  বাহে, নাহলে নুঙ্গি টুঙ্গি ভরে ফ্যালাবে। নেদারু মজরোক নিয়া মোতপার যায়। হুজ্জতআলী আম গাছটার তলোত বসে। পার্কের ডিগিটা ঘিরিয়া  ব্যাটাছল বেটিছলের মেলা নাগি গেচে। কানা তপজ্জল কয় দেকচেন বাহে চেংড়া চেংড়ী হাতধরি আসে আর গাও ঘেষটি বসে। নেদারু আর মজর দৌড়ি আসে ,নেদারু কয় হুজ্জত চাজি হাটো আজা ছটপটি খাই, সোন্দর নাগে, সুরুয়া কোনা ঝাল ঝাল আর টেংগা টেংগা।কানা তপজ্জল কয় ওগলা তাইলে বাসি বাহে। কুড়ানু কয় আস্তে কস বাহে মানসে শুনলে কবে শালা গাঁউয়াগুলা কি কয়?ওর মদে এনা তেতুলের পানি দেয়। তপজ্জল কয়, ও ..সেই জন্যে ম্যায়াগুলার এত ভীর? হেন সোমে পার্কের উত্তর মাতাদিয়া ঢাকঢোল বাজেয়া কাউলা কাউলি করি একপালা মানুষ পশ্চিম মুকে যায়, বাহে ব্যান্ড বাজায়, বাঁশি বাজায় আর ম্যায়ায় মদ্দে কি নাচোন কোদন, মিছিলের মদ্দে ঢুকি খাকা কতগুলা ইচরা পাকা চেংড়া গানের তালে তালে ঝাকি দিবা নাগচে। মজর কয় দেকচিস, দেকচিস, নজ্জা সরমের মাতা খাচে এমরা, এলা একটা হাতিও আচে বাহে,। সার্কােেসর হাতি আনচে ।নেদারু কয় বাহে এগলা নাচন কোদনের নাম মংলু যাত্রা? ভাল করিয়া চোখ ভ্যাল্টেয়া দ্যাক। কানা তপজ্জল কয় দেকচিস বাহে সগলে একখান করি মুকোস পিন্দি আচে, চেনা যায়না। চেনার কি দরকার হে?আগের জনমে মানুষ যে বাঘ, ভাল­ুক ,বান্দর আচিল সেগলা মনে করি দেওয়ার জন্যে অগলা মুকোশ পিন্দিচে। চিনি ফ্যালালে কি অর ক্যংঘট ব্যাংঘট করি নাচপে?  বাজনার তালে তালে মুখোশ পেন্দা মানুষের মিচিলটা শওরের মদ্দে চলিযায়। নেদারু কোটে পা থাকি দৌড়ি আসে,কয় বহে চাজি পার্কের ঐ কানিত মুকোস গুলা বেচপানাগচে হাটো কিনি।কুড়ানু কয় আগে ছটপটি খাই বাহে। মজর কয় কোটে বসপু তামানবাড়ি চেংড়া চেংড়ি হেলবাদুলবা নাগচে। ফির একবার গানবাজনা নিয়া মংলু যাত্রার দল পার্কের চারোপাকে ঘুরানি ফিরানি করে। নেদারু কয় দেকচিস বাহে চেংড়ীগুলা মটরত চড়িয়া নাচপা নাগচে। এগলার নাম মংলু যাত্রা বাহে? হুজ্জত আলী কয় দেকপার হয় দেক, প্যাচাল পারিসনা। দৌড়ি আসি ঝুলপি চুলকাটা চেংড়াগুলা খবর করবে। কুড়ানু কয় ওমরা কেটা? মজর কয় চিনিসনা? ভোটের সোমে ঐ মানুষগুলা ভোট চাবার গেচিলো? এমন সোমে মজরের মোবাইল বাজি উঠে মজর মোবাইল ধরিয়া সাটাসাটি শুরু করে। হুজ্জত আলী কয় সাটিসক্যা বাহে। কান্দো কান্দো হয়া মজর কয়, মোর বাড়ীত থাকায় ভাল আচিল বাহে। সগলে একসাথে কয় ক্যা? মজর কয়, পয়লা বৈশাখ মোর মানসম্মান মারিদিচে বাহে, মোর জামাইট্যা বলে শউরীক চেত্তর করি মাটিত ফ্যালেয়া সারা গায়ে রং মাকি দিচে।মজর ডুকরি কান্দে। হুজ্জতআলীমজরের কান ধরি কয়, ক্যা তোক মুই মানা করম নাই? মংলু যাত্রা দেকপার জন্যে পাগলা  হচুলু। সগলে কয় এগলা কি হতিচে বাহে? কুড়ানু কয়, হামরা পুরান কুষ্টি কালচারোত ঢুকপানাগচি। ক্যা বাহে কেউ কি ব্যাজার হলেন?  (সংখ্যা-০৫)




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ