1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ৮:৫০ আজ সোমবার, ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি




সুন্দরগঞ্জে উপনির্বাচন:জয়-পরাজয় নিয়ে ভোটারদের বিভিন্ন বিশ্লেষন

  • সংবাদ সময় : মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০১৭
  • ৪৪৩ বার দেখা হয়েছে

এ.কে.এম. শামছুল হক, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের উপ-নির্বাচনে ৫০% এর কম ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেও আ’লীগের প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হওয়ায় জয়-পরাজয় নিয়ে বিভিন্ন জন ভোট বিশ্লেষণে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করছেন। বলতে গেলে সব মহলে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। ফলাফলে দেখা গেছে গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ (নৌকা) পেয়েছেন ৯০ হাজার ১৬৯ ভোট, তার প্রতিদ্ব›দ্বী জাপার ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৬০ হাজার ১০০ ভোট। এছাড়া একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তফা মহসিন (আপেল) পেয়েছেন ১২ হাজার ২৩৩ ভোট। প্রচারণার মাঝামাঝি সময়ে অনেক এগিয়ে ছিল মোস্তফা মহসিন। কিন্তু নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসে, ততই তার ভোট কমতে শুরু করে। কারণ হল তিনিও একজন জাপা নেতা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি রাগে ক্ষোভে প্রার্থী হয়েছেন। মোস্তফা মহসিন প্রার্থী হওয়ার পর জামায়াতের ব্যাপক ভোট তার দিকে ঝুকেছিল। কারণ ২০ দলীয় জোটের কোন প্রার্থী না থাকায় তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীকেই বেছে নেয়। কিন্তু শেষ দিকে অনেক ভোট তার পিছু ছেড়ে নৌকা ও লাঙ্গলের দিকে ছুটে যায়। এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে এনপিপির জিয়া জামান খান (আম) পেয়েছেন ১ হাজার ১৯ ভোট, জাসদ’র এ্যাড. মোহাম্মদ আলী প্রামানিক (মশাল) ২৭৭, জেপি’র ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা (বাই সাইকেল) ১ হাজার ২৯৩ ও গণফ্রণ্টের শরিফুল ইসলাম (মাছ) ১৫৪ ভোট পেয়েছেন। মূল কথা হলো ইতোপূর্বে যে সমস্ত নির্বাচন হয়েছে, তাতে দেখা যায় আ’লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের প্রার্থীরা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়েই বরাবরেই ছিল। অন্যান্য দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিলেও সর্বনি¤œ ৫০ থেকে উর্দ্ধে ২ হাজার পর্যন্ত ভোট পেত। এ আসনে ভোট কেন্দ্র ১০৯ টি। ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৬। প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬২২। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৭। বৈধ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৫। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৪৯.৯৭%।
জাতীয় পার্টির ঘাটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে কেন জাতীয় পার্টির এই ভরা কডুবি তা নিয়ে শান্তিরাম ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শাহিন বলেন গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের খুনের দায় জাপার সাবেক এমপি আব্দুল কাদের খাঁন স্বীকার করার পর থেকে এ উপজেলা ভোট ব্যাংক নামে খ্যাত জামায়াতের নেতা কর্মীদের মাঝে স্বস্থি ফিরে আসে। তার দাবি জাপা নেতা কাদের খাঁনের খুনের দায় বহন করতে হচ্ছে জামায়াতকে। সে কারণে জামায়াতের লোকজন আ’লীগের প্রার্থীকেই বেছে নিয়েছেন। কারণ আ’লীগ ও জাপা ১৪ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত। একই জোট হিসেবে জাপাকে ভোট না দিয়ে জামায়াতের লোকজন আ’লীগের প্রার্থীকেই ভোট দিয়েছেন বেশি। জাপার অনেক ভোটার কাদের খানের এই ঘটনায় দলকে প্রাধান্য দেয়নি। এ কারণে নির্বাচনে প্রভাব পরে যায়। সুন্দরগঞ্জ উপজেলাটি জামায়াতের সাংগঠনিক ২টি থানা। একটি পূর্ব থানা আর এটি পশ্চিম থানা। পূর্ব থানার আওতাধীন ৬টি ইউনিয়নের জামায়াতের ভোটাররা দিধাদ্ব›দ্ব ভুলে গিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন। পাশাপাশি পশ্চিম থানার ৯টি ইউনিয়নের জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোট দিতে যায়নি। এ কারণে পশ্চিমাঞ্চলে ৯টি ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি একেবারেই কম। লাঙ্গলের ভরা ডুবির এটাই একটা কারণ।
তারাপুর ইউনিয়ন জাপার সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন জামান, দলীয় কর্মীরা তেমন একটা কাজ করেনি। তিনি আরও জানান, শুধু আমরা গুটি কয়েক কর্মী দিনরাত কাজ করেছি। অন্যান্যরা হয়তো মনে করেছিল সুন্দরগঞ্জের মানুষ সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের টানে লাঙ্গলে ভোট দিবে। তাই মাঠে তেমন কাজ করেনি নেতাকর্মীরা। তবে লাঙ্গলের প্রকৃত ভক্ত জিগাবাড়ী চরের আহসান হাবিব জানান, আমি আমার নিজের টাকা খরচ করে লাঙ্গলের প্রচারণা চালিয়েছি। পক্ষান্তরে অনেক নেতাকর্মী নির্বাচনী মাঠে কাজ করেনি।
উপজেলা নবীন প্রবীন লোকজ সংঘের সভাপতি বাউল শিল্পী একরামুল হক লাল মিয়া জানান, নৌকা মার্কার জয় হওয়ার পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। তিনি মনে করেন আ’লীগের প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ একজন প্রবীন রাজনীতিবিদ। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। দীর্ঘ রাজনীতি জীবনে তাঁর কোন কলঙ্কের অধ্যায় ছিল না। উপজেলা আ’লীগ ও অঙ্গ-সংগঠণের নেতাকর্মীরা তাকে সকলে শ্রদ্ধা করেন। এছাড়া উপজেলার পূর্ব প্রান্তে তার বাড়ি। অপর দিকে জাপা প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর বাড়ি উপজেলার পশ্চিম প্রান্তে। আঞ্চলিকতার টানে পূর্বাঞ্চলের ৭টি ইউনিয়নের সকল দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নৌকায় ভোট দিয়েছে। দল মত নির্বিশেষে ভোট পেয়ে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
উপজেলা জামায়াতের সমন্বয়কারী ও উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলায়মান সরকার সাজা (বরখাস্ত) জানান, জাপার সাবেক এমপি কাদের খান এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে পরিকল্পনা করে খুনের দায় স্বীকার করলেও জামায়াতের ১৬৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ইতোপূর্বে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় যেসব নাশকতা মূলক কর্মকান্ড হয়েছিল সেগুলো কাদের খান তার লোকজন দিয়ে করে ছিলেন। যার দোষ পরে যায় জামায়াতের উপর। খুনের দায় স্বীকার করলেন কাদের আর জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে জামায়াতের নেতাকর্মীদের। এটি একটি বড় ব্যাপার বলে তিনি মনে করেন।
তারাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আ’লীগ সভাপতি ও ইউপি সদস্য মোজাফ্ফর বসুনীয়া জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অনেক উন্নয়ন করেছেন। যা কোন সরকারের আমলে হয়নি। তাই সুন্দরগঞ্জবাসী আ’লীগের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলাটি একটি সংসদীয় আসন। ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা  এ আসনে। তার মধ্যে পূর্বাঞ্চলের ৭টি ইউনিয়ন কাপাসিয়া, চন্ডিপুর, শ্রীপুর, কঞ্চিবাড়ি, শান্তিরাম, ছাপড়হাটী ও হরিপুর ইউনিয়নের ৫৪টি ভোট কেন্দ্রের প্রত্যেকটিতেই নৌকা প্রতীক প্রথম এবং লাঙ্গল দ্বিতীয় হয়েছে। তবে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয় হয়েছে। অপরদিকে পশ্চিমাঞ্চলে ৮টি ইউনিয়ন বামনডাঙ্গা, সোনারায়, তারাপুর, বেলকা, দহবন্দ, সর্বানন্দ, রামজীবন, ধোপাডাঙ্গা ও পৌরসভাসহ ৫৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোটের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। যার কারণে নৌকা প্রতীক জয়ী হয়েছে।
এছাড়া গোলাম মোস্তফা আহম্মেদের জয়ী হওয়ার পিছনে বড় কাজ করেছে আঞ্চলিক টান। তিনি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতেন। গত ২ বছর আগে অবসর গ্রহণ করেছেন। শিক্ষকতায় নিয়োজিত থাকাকালে তিনি চন্ডিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে এমপি প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া তিনি ৩০ বছর ধরে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। এ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন ৭জন। এরা হলেন প্রয়াত এমপি লিটনের বড় বোন আফরোজা বারী, পতœী খুরশীদ জাহান স্মৃতি, জেলা আ’লীগের সহ সভাপতি মাসুদা খাজা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজা বেগম কাকলী, সুন্দরগঞ্জ পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ডি.ডবিøউ ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান সরকার ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ। এদের মধ্য থেকে বর্ষিয়ান নেতা ও ক্লিন ইমেজের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম মোস্তফা আহম্মেদকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় সকল মনোনয়ন প্রত্যাশী তার জন্য পথসভা, গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা করেছেন। তিনি ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে এ আসনটি ধরে রাখা সম্ভব হতো না।
বিজয়ী প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ জানান সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হওয়ায় আমার বিজয় নিশ্চিত হয়েছে। অপরদিকে পরাজিত প্রার্থী জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান পূর্বাঞ্চলের ৭টি ইউনিয়নে ভোটার উপস্থিতি বেশি থাকার কারণে আমার পরাজয় হয়েছে। তবে গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ পরাজিত প্রার্থীরাসহ সকল ভোটারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ