1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় রাত ৮:২৫ আজ শনিবার, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি




নাব্যতা হ্রাঁস : তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ৮০ নৌঘাট টি বন্ধ, জনদুর্ভোগ

  • সংবাদ সময় : সোমবার, ৬ মার্চ, ২০১৭
  • ২০৩ বার দেখা হয়েছে

আফতাব হোসেন, গাইবান্ধা:
ব্রহ্মপুত্র-যমুনার-তিস্তা নদীর ক্রমাগত নাব্যতা অস্বাভাবিকভাবে হ্রংাস পাওয়া কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া ও জামালপুর জেলার ১৫ টি উপজেলার মধ্যে ৮০ টি নৌঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে নৌপথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি যোগ হয়েছে চরম ভোগান্তি। লোকসানে পড়েছেন ইজারা নেওয়া খেয়াঘাট মালিকেরা।
জানা যায়, উত্তরের কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারি, কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারি, উলিপুর, রাজিবপুর ও রৌমারি উপেজেলা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা, বগুড়ার সারিয়াকন্দি ও সোনাতলা, জামালপুরের ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সাথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যমে নৌপথ। নদীর পুর্ব-পশ্চিম পাড়ের বেশির ভাগ মানুষ নৌ পথেইে চলাচল করে থাকে। কিন্তু চলতি বছর পানির স্তর দ্রæত নীচে নেমে যাওয়ায় ৩শতাধিক পয়েন্টে দুই হাজারেরও অধিক বালুচর জেগে ওঠায় বন্ধ হয়ে গেছে ৮০ টিরও বেশি নৌ রুট এবং ৬৫টি খেয়াঘাট। কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারি উপজেলার ৭টি, রৌমারির ৬টি, রাজিবপুরের ৩টি, কুড়িগ্রাম সদরের ৩টি, ভুরুঙ্গামারি ৩টি, সুন্দরগঞ্জের ৫টি, গাইবান্ধা সদরের ৪টি, ফুলছড়ির ১২টি, সাঘাটার ৬টি, ইসলামপুরের ৩টি, দেওয়ানগঞ্জের ৭টি, সোনাতলার ২টি ও সারিয়াকন্দির ৭টি নৌঘাট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে অন্তত ৩০ লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা ও বিরম্বনার সৃষ্টি হয়েছে। সাঘাটার নৌঘাট ইজারাদার জহুরুল ইসলাম জানান আড়াই লক্ষাধিক টাকা নিয়ে লিজ নেওয়ার ৬ মাসের মধ্যে ঘাট বন্ধ হয়েছে। চরের লোকজন পায়ে হেটে হাটবাজারে যাতায়াত করছে। এতে করে তাকে পুরো টাকায় ক্ষতি পুষতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
দিঘলকান্দি গ্রামের নৌ ব্যবসায়ী আঃ করিম প্রামানিক জানান, ২টি নৌকার উপরে তার সংসারের ব্যয় নির্ভর করতে হয়। কিন্তু তার বড় নৌকা চলার মতো পর্যাপ্ত পানি না থাকায় নৌকা দুটি শুকনায় পড়েছে। এতে করে বন্ধ হয়েছে তার আয়ের পথ। সাঘাটার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল জানান, হলদিয়া নদীতে পানি না থাকায় লোকজন ইচ্ছেমতো পায়ে হেটে নদী পার হচ্ছে। ফলে ঘাট ইজারাদারেরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছেন।
ফুলছড়ির দেলুয়াবাড়ির চরের মফিজ সরকার বলেন, নদীতে পানি না থাকায় সমস্যায় চরের মানুষের। মাইলের পর মাইল বালুর চর পার হয়ে হাট-বাজারে যেতে হচ্ছে।
বালাসিঘাটের ব্যবসায়ী আফসার আলী জানান, যে কয়টি রুট চালু আছে সেপথ দিয়েও নৌকা চলাচল করছে চার গুণ পথ বেশি ঘুরে ঘুরে। রাজিবপুর ঘাটের সদর উদ্দিন জানান, এই ঘাটের আসতে প্রায় ২ কিলোমিটার পথ যাত্রীদের পায়ে হেটে যেতে হচ্ছে। ফলে লোকজন কমে যাচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্ সালাম জানান জলবায়ু নেতিবাচক পরিবর্তনের ফলে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে এই অঞ্চলের নদ-নদীর উপর। ক্রমাগত নদীভ্ঙ্গানের ফলে নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাসের ফলে স্বাভাবিকভাবে গতিপ্রকৃতি হারিয়ে ফেলছে। আর এর প্রভাব পড়ছে জনজীবনে। নানা ধরণের দুর্ভোগ নিয়ে নৌ পথে চলাচল করতে হচ্ছে নৌপথে চলাচলকারী মানুষজনকে। এই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে কার্যকরী পরিকল্পনা করার কথা বলেন তিনি।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ