1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সকাল ৯:১৭ আজ বৃহস্পতিবার, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে রমজান, ১৪৪২ হিজরি




এমপি লিটন হত্যা:কাদের খান কিলারদের মোবাইলে কমিউনিকেশনে কিলিং মিশন সম্পন্ন করে

  • সংবাদ সময় : সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
  • ১৪৯ বার দেখা হয়েছে

আফতাব হোসেন:
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় কাদের খান কিলারদের সাথে মোবাইল ফোনে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রেখে এই কিলিং মিশন বাস্তবায়ন করেছে। এমনকি বগুড়ায় তার বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে নিজ গাড়িতেই কিলারদের ঢাকার বাসে তুলে দিয়ে নিরাপদে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। কাদের খান পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দির এসব তথ্য জানিয়েছেন পিপি শফিকুল ইসলাম শফি। এসব তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে আইনত এই খুনের অন্যতম মুল আসামি হবেন কাদের খান বলেও তিনি উলে­খ করেন।
এদিকে কাদের খানের ৬ মাসের প্রায় ১০ হাজার ফোনালাপ ট্যাকিং করে পুলিশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পেরেছে। যা তদন্তের স্বার্থে সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করছে না। তবে এসব ফোনালাপ থেকে পুলিশ নিশ্চিত হতে পেরেছে কারা কারা কিভাবে এই হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত।
কাদের খান প্রশিক্ষিত কিলার গ্র“প ছিনতাই করতো ঃ
কাদের খান নিজ বাড়িতে নিজের লাইসেন্স বিহীন অবৈধ পিস্তলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে মেহেদী হাসান, শামীম মণ্ডল, শাহীন, রানাকে নিয়ে যে কিলার গ্র“পটি গড়ে তুলেছিল তারা মাদকাসক্ত ছিল এবং সুন্দরগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছিনতাই ও রাহাজানি করে বেড়াতো। এসব ছিনতাইয়ের ঘটনায় কাদের খানের ওই অবৈধ পিস্তল এবং তার দেয়া বুলেটই ব্যবহৃত হতো। যে কারণে কাদের খান তার লাইসেন্স করা পিস্তলে ব্যবহারের জন্য ক্রয়কৃত ৪০ রাউন্ড বুলেটের সঠিক হিসাব পুলিশকে দিতে পারেনি। পিস্তল ও বুলেট জব্দ করার সময় সে মাত্র ১০ রাউন্ড বুলেট জমা দেয়। বাকি ৩০ রাউন্ড বুলেটের হিসাব সে দিতে পারেনি। এরমধ্যে শুধু ৫ রাউন্ড বুলেট এমপি লিটনের খুনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং ১ রাউন্ড তার বাড়িতে প্রশিক্ষণকালে অসাবধানতাবশতঃ মিস ফায়ার হয়। সে হিসেবে ২৪ রাউন্ড বুলেট প্রশিক্ষণসহ ছিনতাই ও রাহাজানি কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা গেছে। এমপি লিটনের কিলাররা গত ১ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কে ধোপাডাঙ্গায় ফাইম নামে এক যুবকের কাছ থেকে তার মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনতাই করে। ছিনতাই শেষে তাড়াহুড়া করে পালাতে গিয়ে পিস্তলের ৬ রাউন্ড বুলেটের ম্যাগাজিনটি তাদের অগোচরে রাস্তায় পড়ে যায়। যা স্থানীয় জনগণের দেয়া তথ্য অনুযায়ি পুলিশ উদ্ধার করে এবং সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি জিডিও করা হয়। লিটন হত্যাকান্ড সম্পন্ন হওয়ার পর হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বুলেট এবং ওই ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত প্রাপ্ত বুলেটের মিল পাওয়ার সুত্র ধরেই পুলিশ খুনিদের গ্রেফতার করে। অতপর জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ি কাদের খানের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয় এবং খুনের রহস্য উদঘাটিত হয়।
কাদের খানের বাড়িতে পুলিশের এখনও কড়া প্রহরা ঃ
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটি ইউনিয়নের পশ্চিম ছাপড়হাটি খানপাড়া গ্রামের বাড়িতে এখনও পুলিশ কড়া প্রহরায় ঘিরে রেখেছে। কাউকেই সেখানে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এদিকে সুন্দরগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিপুল সংখ্যক উৎসুক মানুষ প্রতিদিন কাদের খানের বাড়ি দেখতে ভীড় জমাচ্ছে। সেই সাথে তারা কাদের খানের সম্পর্কে নানা বিরূপ মন্তব্য এবং ঘৃণা প্রকাশ করছে। একজন জনপ্রিয় এমপি লিটনকে খুন করায় তারা জাতীয় পার্টির প্রতিও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে। সোমবার সরেজমিনে ওই এলাকা পরিদর্শন করে এসব তথ্য জানা গেছে।
এমপি লিটন হত্যার তথ্য দাতা চন্দন এখনও পলাতক ঃ
এমপি লিটন হত্যার অন্যতম সমন্বয়ক কট্টর লিটন বিরোধী গ্র“পের অন্যতম আ’লীগ নেতা চন্দন কুমার সরকার এখনও পলাতক রয়েছে। এছাড়া আরেক সমন্বয়ক সুবল চন্দ্র পুলিশের নজরদারিতে থাকলেও তারা এখনও গ্রেফতার এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তবে মোবাইল ফোনে, রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের বন্ধু-বান্ধবদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে জোরালো তদবির অব্যাহত রেখেছে বলে বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা গেছে।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, এমপি লিটন হত্যায় কিলিং মিশনে জড়িত গ্রেফতার হওয়া মেহেদী হাসান, শামীম মণ্ডল, শাহীন, রানা ও কাদের খাঁনের গাড়ি চালক আব্দুল হান্নানের স্বীকারোক্তিতে এ দু’জন এমপি লিটনের বাড়ি এবং তার অবস্থান সম্পর্কে মোবাইল ফোনে তাদের তথ্য প্রদান করেছে। এছাড়াও তারা নানাভাবে সহযোগিতা এবং উৎসাহ প্রদান করেছে বলে তারা তাদের স্বীকারোক্তিতে উলে­খ করেছে।




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ