এখন সময় সন্ধ্যা ৬:১৯ আজ বুধবার, ২৫শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, ১৪ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী


এই মাত্র পাওয়া সংবাদ
Home / জাতীয় / মথরপাড়া দাখিল মাদ্রারায় ৩৮জন শিক্ষার্থীর পাঠদানে ১১ শিক্ষক!

মথরপাড়া দাখিল মাদ্রারায় ৩৮জন শিক্ষার্থীর পাঠদানে ১১ শিক্ষক!

সাঘাটা প্রতিনিধি:
এমপিওভুক্ত মাদরাসার বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ৩৮ শিক্ষার্থী, তাদের পড়াচ্ছেন ১১ জন শিক্ষক। এমন দৃশ্য দেখা গেছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মথরপাড়া দাখিল মাদরাসায়। মাদরাসায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে শিক্ষকরা দাবি করলেও বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ৩৮ জন শিক্ষার্থী দেখা গেছে।প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে একজন, দুজন কিংবা তিনজন শিক্ষার্থী দিয়ে চলছে পাঠদান। কোনো কোনো শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন একজন শিক্ষক। যেন দেখার কেউ নেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় তিন যুগ আগে এমপিওভুক্ত হয় এই মাদরাসা। মাদরাসার অবকাঠামোগত কোনো সমস্যা নেই। বর্তমানে মাদরাসায় সুপার ও সহ-সুপারসহ ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। পাশাপাশি তিনজন কর্মচারী রয়েছেন। প্রতি মাসে সরকারিভাবে প্রায় দুই লাখ ২২ হাজার ২৯ টাকা বেতন উত্তোলন করেন তারা। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য নয়, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলতেই শিক্ষকরা মাদরাসায় যান- এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাঘাটা উপজেলার মথরপাড়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষকরা মাদরাসার মাঠে রোদ পোহাচ্ছেন। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মাঠে শারীরিক কসরত করাচ্ছেন একজন শিক্ষক। সাংবাদিক দেখে মোবাইলে কল দিয়ে ছাত্রদের ডাকতে শুরু করেন শিক্ষকরা। এরপর যে যার মতো শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন শিক্ষকরা।
শ্রেণিকক্ষে ঢুকেই দেখা যায়, দরজা খোলা থাকলেও বেশির ভাগ কক্ষের জানালা বন্ধ। দ্বিতীয় শ্রেণিকক্ষে দুজন ছাত্রকে পড়াচ্ছেন মাদরাসার সুপার মাওলানা শহিদুল ইসলাম ও পঞ্চম শ্রেণিকক্ষে একজন ছাত্রকে পড়াচ্ছেন আরেকজন শিক্ষক।
পাশাপাশি প্রথম শ্রেণিকক্ষে পাঁচজন, তৃতীয় শ্রেণিকক্ষে পাঁচজন, চতুর্থ শ্রেণিকক্ষে পাঁচজন, ৬ষ্ঠ শ্রেণিকক্ষে সাতজন, সপ্তম শ্রেণিকক্ষে দুজন, অষ্টম শ্রেণিকক্ষে পাঁচজন, নবম শ্রেণিকক্ষে তিনজন ও দশম শ্রেণিকক্ষে তিন ছাত্রকে পড়াচ্ছেন শিক্ষকরা।
মথরপাড়া গ্রামের আব্দুল গণি বলেন, এখানের শিক্ষকরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতেই মাদরাসায় আসেন, ক্লাস নিতে নয়। যে যার মতো ক্লাসে এসে বাড়ি চলে যান।
একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, প্রতিদিন শিক্ষকরা মাদরাসায় আসেন হাজিরা দেয়ার জন্য। হাজিরা দিয়ে মাদরাসার মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে গল্প করে দুপুর হলেই বাসায় চলে যান। পাঠদানের প্রতি মনোযোগ কিংবা শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই তাদের। মাদরাসায় ঠিকমতো পাঠদান না হওয়ায় ছেলে-মেয়েকে অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়ে ভর্তি করেন বাবা-মা।
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়ে মথরপাড়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, মাদরাসায় মোট ৩৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ ছাত্র-ছাত্রীকে বিনামূল্যের বই দেয়া হয়েছে। বাকি বইগুলো মাদরাসার অফিস রুমে আছে। সময়মতো বিতরণ করা হবে। পাশের বাড়িতে অনুষ্ঠান চলছে, তাই আজ শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম।
মথরপাড়া দাখিল মাদরাসায় শিক্ষার্থী উপস্থিতির বিষয়টি জানানো হলে সাঘাটা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

Check Also

করোনা আতঙ্কে এগিয়ে আসেনি কেউ, চার মেয়ের কাঁধে বাবার লাশ

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির লাশ শ্মশানে নিতে কেউ এগিয়ে এলো …