এখন সময় বিকাল ৫:১৭ আজ বুধবার, ২৫শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, ১৪ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী


এই মাত্র পাওয়া সংবাদ
Home / জাতীয় / জিইউকে এওয়ার্ড প্রাপ্ত ৬ গুণীজনের জীবনচরিত

জিইউকে এওয়ার্ড প্রাপ্ত ৬ গুণীজনের জীবনচরিত

আফতাব হোসেন:
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) এর ৩৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপন করা হয়েছে ১ জানুয়ারি,২০২০।  দেশ ও সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৮ ও ২০১৯ সালে গাইবান্ধা জেলার ৬ গুণীজনকে জিইউকে এওয়ার্ড প্রদান হয়েছে। এওয়ার্ড প্রাপ্ত ৬ গুনীজনের সংক্ষিপ্ত কর্মময় জীবন-চিত্র তুলে ধরা হল:

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ফিরোজা বেগম
জন্ম    :     গাইবান্ধা শহরের মধ্যপাড়ায় ১৯৪৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি
পিতা     :     মোজাহার উদ্দিন আহম্মেদ
মাতা    :     নুরজাহান বেগম
স্বামী    :     অধ্যক্ষ মোঃ আশরাফ আলী
সন্তান    :     ৩ পুত্র
শিক্ষা    :     বাংলায় স্নাতকোত্তর,    ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিদ্যালয়।
কর্মজীবন    : ১৯৬৯ সালে গাইবান্ধা মহিলা কলেজে যোগদান, ১৯৯২ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হয়ে জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে যোগদান করেন। এরপর ১৯৯৩ সালে গাইবান্ধা সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগে প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৯ সালে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসর গ্রহণের পরও শিশুদের শিক্ষার সাথে যুক্ত ছিলেন।
অবদান    : শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অবদান রাখা ছাড়াও তিনি নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষমতায়নের
লক্ষ্যে নানামুখী ভূমিকা রেখেছেন। তিনি দীর্ঘকাল জাতীয় মহিলা সংস্থা গাইবান্ধা জেলা শাখার চেয়ারপারসন এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহ সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যাপক ফিরোজা বেগমকে শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য জিইউকে এওয়ার্ড ২০১৮ প্রদান করা হয়।

সাংবাদিক গোবিন্দলাল দাস
জন্ম    :     গাইবান্ধা সদর উপজেলার হাটলক্ষীপুরে ১৯৪৬ সালের ২৫ আগষ্ট সালের ১ ৪ ফেব্রুয়ারি
পিতা     :     শশী মোহন দাস
মাতা     :     সৌদামিনি দাস
স্ত্রী         :     স্বপ্না সরকার
সন্তান   :     এক পুত্র ও এক কন্যা
শিক্ষা    :     ১৯৬৮ সালে গাইবান্ধা কলেজ থেকে ডিগ্রী পাশ। পরবর্তীতে ঢাকার মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং কলেজ থেকে বিপিএড।
কর্মজীবন    :    সাপ্তাহিক পূর্বদেশের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু ১৯৬৬ সালে। পরবর্তীতে দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক বাংলা, দৈনিক জনপদ, দৈনিক মুক্তকন্ঠ পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। গত ২০ বছর থেকে তিনি দৈনিক যুগান্তরের সাথে যুক্ত রয়েছেন।
প্রকাশিত গ্রন্থ: অস্তরবির কান্না (উপন্যাস), ফেরারী বিহঙ্গ (উপন্যাস), ধূসর গোধুলি (গল্প)।
সংগঠন: বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক, কার্যকরী সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘকাল গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বরত। বর্তমানে গাইবান্ধা ডায়াবেটিক সমিতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সভাপতি। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর গাইবান্ধা জেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে দু’বছর দায়িত্ব পালন করেন।
সম্মাননা    :    ব্র্যাক মিডিয়া  সম্মাননা,২০১৪, মানবাধিকার শান্তি পদক,২০১৫, সাহিত্য সম্মাননা রংপুর বিভাগীয় লেখক পরিষদ, ২০১৬। এছাড়াও সাংবাদিকতায় বিশেষ ভূমিকার জন্য তিনি বিভিন্ন সংগঠন থেকে সম্মাননা লাভ করেছেন।
সাংবাদিক গোবিন্দলাল দাসকে সাংবাদিকতা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য জিইউকে এওয়ার্ড ২০১৮ প্রদান করা হয়।

সাহিত্যিক আবু জাফর সাবু
জন্ম    : ১৯৪৮ সালের ২৭ জুন গাইবান্ধা জেলা শহরে
পিতা     : পিতা নাট্যব্যক্তিত্ব আব্দুর রশীদ
মাতা     :  লুৎফুন নেছা।
সন্তান: দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
শিক্ষা    :     তিনি গাইবান্ধা কলেজ থেকে ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি স্নাতক ডিগ্রী লাভ করার পর ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত সমবায় বিভাগে সহকারি পরিদর্শক হিসেবে সরকারি চাকুরীতে কর্মরত ছিলেন এবং পরবর্তীতে স্বেচ্ছায় চাকুরী ছেড়ে দেন।

পেশা: তিনি ১৯৮৬ থেকে ২০০২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০২ খ্রিস্টাব্দ থেকে দৈনিক জনকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
তিনি বর্তমানে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কর্মীহাতের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী পরিচালক, সুরবানী সংসদের সভাপতি, গাইবান্ধা ডায়াবেটিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য, গাইবান্ধা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য, নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (গানাসাস) এর সদস্য ছাড়াও একাধিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
অবদান    : পাঁচ দশকের অন্যতম ছাড়াকার। পাশাপাশি তিনি ছোটগল্প, গান, কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, জীবন ঘনিষ্ঠ ফিচার এবং ভ্রমণকাহিনী লেখায় নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে দেদীপ্যমান। যদিও সাহিত্যের নানা মাধ্যমে তিনি সক্রিয় তবুও ছড়া চর্চাতেই তাঁর সিদ্ধি ও সাফল্য উল্লেখ করার মত। গত শতকের ষাটের দশকে লেখালেখির অঙ্গণে তাঁর আবির্ভাব। পরবর্তীকালে অবশ্য সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
আবু জাফর সাবু’র ছড়ার বিষয় বৈচিত্র্য বহুমুখী হলেও দেশ ও মানুষের সমকালীন সমস্যা উপস্থাপনায় তিনি অধিকতর মনোযোগী ও পারঙ্গম। সে কারণেই তাঁর লেখা সবসময়ই পাঠকনন্দিত ও বহুলপঠিত। এছাড়া তাঁর সম্পাদিত দ্বিমাসিক ছড়া পত্রিকা ‘ইষ্টিকুটুম’ ১৯৭৯ সালের মে মাস থেকে ১৯৮০ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে সে সময় দেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল।
প্রকাশিত গ্রন্থ:     বুনো হাঁস ও নেংটি ইঁদুর (১৯৯৬), বাংলাদেশ শিশু একাডেমি,ছন্দের আল্পনা (১৯৭৭), আল্পনা প্রকাশনী, আলোকিত গাইবান্ধার প্রকাশনায় ঘুম ভাঙানিয়া ছড়া, স্বপ্নীলের জন্য ছড়া, শান্তিনিকেতন থেকে তাজমহল (ভ্রমন কাহিনী), মামা কাহিনী ও অন্যান্য গল্প ও পড়ন্ত বিকেলের রোদ।
সম্মাননা: ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থান প্রাদেশিক সরকারের মহকুমা ভিত্তিক সাহিত্য পুরস্কার,  গাইবান্ধা সাহিত্য পরিষদ সম্মাননা ১৯৯০,  অনুশীলন সম্মাননা ২০০১, গাইবান্ধা জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা ২০১৭,  রংপুর বিভাগীয় লেখক পরিষদের গুণী সাহিত্যিক সম্মাননা পদক ২০১৭,  সুরবানী সংসদ ২০১৭, বগুড়ার অন্তমিল ছড়ার পুরস্কার ২০১৮, রংপুর সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ সনদ ২০১৯ ও ত্রৈলোক্যনাথ বর্মন বাবাজি স্মৃতি পদক ২০১৮-২০১৯।
সাহিত্যিক আবু জাফর সাবুকে সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য জিইউকে এওয়ার্ড ২০১৮ প্রদান করা হয়।

সাহিত্যিক সরোজ দেব
জন্ম    : ২৭ আগস্ট ১৯৪৭ গাইবান্ধায়
পিতা     : ওস্তাদ উপেন্দ্র নাথ দেব
মাতা     :  সান্তু দেব
শিক্ষা    :  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে পড়াশুনা করেন।
অবদান    :    গাইবান্ধার সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক ভূমিকা রাখেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সংস্কৃতি সংসদ’ এবং গাইবান্ধায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সূর্যকণা’র প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। লিটনম্যাগ আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও  লিখিয়ে নির্মাণে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন।   শতাধিক লিটলম্যাগ সম্পাদনা করেছেন।
কাব্যগ্রন্থ    :    ধবল মেঘের দিনগুলো (২০০৬),    অনন্ত রোদ্দুরে এসো (২০০৯),স্বরচিত সুখের সৎকার (২০১০)  ও স্বপ্ন শুয়েছিল কুয়াশায় (২০১১)
সম্পাদিক গ্রন্থ    :    রবীন্দ্রনাথের ভালোবাসার গল্প (২০১১),শরৎচন্দ্রের ভালোবার গল্প (২০০৬),কবিতার যৌথ খামার (২০০৯), নির্বাচিত কবিতা (২০১২)।
সম্মাননা     :    মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার পদক (১৯৭৭), বিন্দুবিসর্গ সাহিত্য পুরষ্কার (২০০৩), আদিবাসী সাহিত্য পদক, ময়মনসিংহ (২০০৭), দুই বাংলার কবিতা উৎসব পদক (২০০৭), ছান্দসিক পদক (২০০৮), রংপুর অভিযাত্রিক পদক (২০০৯) ও ছোট কাগজ পুরষ্কার, ঢাকা (২০১১)।
সাহিত্যিক সরোজ দেবকে সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য জিইউকে এওয়ার্ড ২০১৯ প্রদান করা হয়।

সঙ্গীতশিল্পী শাহ্ মশিউর রহমান
জন্ম    :     গাইবান্ধা শহরে ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি
পিতা     :     ডা. আশরাফ আলী
স্ত্রী    :     রোকসানা রহমান
সন্তান    :     দুই কন্যা মুমু ও তৃষিতা
শিক্ষা    :     গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে ১৯৭১ সালে বিএস-সি পাশ
কর্মজীবন    :    খাদ্য বিভাগে পাঁচ বছর চাকুরি।
সঙ্গীত ভূবনে    :    কলেজ জীবনে সঙ্গীত চর্চা শুরু। ওস্তাদ উপেন্দ্র নাথ দেব, শামীম আহমেদ ও ইউসুফ আলীর কাছ থেকে সঙ্গীত শিক্ষাগ্রহণ। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ বেতার ও ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত। দুটি মাধ্যমেই ‘ক’ মানের শিল্পী। দীর্ঘসময় প্রশিক্ষক হিসেবে অসংখ্য খ্যাতিমান শিল্পী গড়ে তুলেছেন।
সংগঠন    :     বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখা, মোহনার প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। প্র্রথম দুটি সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি মোহনার এবং উদীচী পরিচালিত সত্যেন সেন সঙ্গীত বিদ্যালয়ের পরিচালক। তিনি ১৯৯৬-২০০২ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৪ সাল থেকে দ্বিতীয় মেয়াদে সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্মাননা    :    নজরুল সঙ্গীত শিল্পী পরিষদ, ঢাকা কর্তৃক গুণিজন সম্মাননা-২০১২, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, গাইবান্ধার সম্মাননা-২০১৪ ও বগুড়ার শুদ্ধস্বর সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিশেষ সম্মাননা-২০১৫।
সঙ্গীতশিল্পী শাহ্ মশিউর রহমানকে সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য জিইউকে এওয়ার্ড ২০১৯ প্রদান করা হয়।

পাখিপ্রেমিক মো: আহাম্মাদ উল্লাহ
জন্ম    : গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নে উত্তরপাড়া গ্রামে ১৯৮৭  সালের ০৭ ফেব্রুয়ারি।
পিতা     :  মো: আলাউদ্দিন
মাতা    :  মোছা: খুরশিদা বেগম
স্ত্রী    :     মোছা: কাওছার জাহান
সন্তান    :     এক পুত্র
শিক্ষা    :     কামিল পাশ-২০০৮ সাল
কর্মজীবন    : ২০০৭ সালে ন্যাচার এন্ড এনভায়রনমেন্ট প্রিজারভেশন অর্গানাইজেশন” (নিপো) নামে সংগঠন করে তাঁর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কাটাখালি বালুয়াহাটে বর্ণমালা মাল্টিমিডিয়া স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৯ সালে কাটাখালি বালুয়াহাট সিসিমপুর কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে প্রতিষ্ঠা করেন।
অবদান:  পশু-পাখির জন্য নিবেদিত মানুষ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আহাম্মাদ উল্লাহ। পাখিদের নিরাপদ বসবাসের জন্য গাছে-গাছে কলস বেঁধে বাসা তৈরি করে অনন্য দৃষ্টি স্থাপন করেছেন এই যুবক। কোন একসময় তিনি দেখেন, গাছের একটি গর্তে প্রবেশ করার জন্য দু’টো পাখি ঝগড়া করছিলো। কোন একসময়ে গাছের ছায়ায় দাড়িয়ে নিজের গ্রাম উত্তর পাড়ায় এমন একটি দৃশ্য বেশ ভাবিয়ে তোলে আহাম্মাদ উল্লাহকে। বাসা নিয়ে পাখির ঝগড়া দেখার পর থেকেই এই সমস্যার সমাধান খুজতে থাকেন এই যুবক। ২০০১ সালে তার মাথায় আসে কলস দিয়ে দেখা যাক পাখি থাকে কিনা। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে তিনি ৩টি কলস বেঁধে দেন। অল্পদিন পরেই তিনি দেখেন বেশ কিছু পাখি কলসে বাসা বেধেছে এবং বাচ্চা দিচ্ছে। এমন দৃশ্য তাকে আরো অনুপ্রাণিত করে। গ্রামের পর গ্রাম গাছে গাছে ঝুলতে থাকে আহাম্মাদ উল্লার কলস আর কলস। আহমদ উল্লাহর গ্রাম উত্তরপাড়া, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা এমনকি গাইবান্ধা জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে তার এই ব্যতিক্রমী কাজ। গাইবান্ধা ছাড়াও ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, গাজীপুর, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলাতেও সুনাম কুড়িয়েছে পাখির আবাসনে কলস।
সম্মাননা: রাজশাহী বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিবেশ পদক, ২০১০, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে  রিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের জাতীয় পরিবেশ সংরক্ষণ সনদ, ২০১১, জাতীয় পরিবেশ পদক, ২০১২, জাতীয় বন বিভাগের পাখি সংরক্ষণ সম্মাননা সনদ, ২০১৪ এবং  জয় বাংলা ইয়থ এ্যাওয়ার্ড সনদ,২০১৫।
পাখিপ্রেমিক আহাম্মাদ উল্লাহকে জীববৈচিত্র রক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য জিইউকে এওয়ার্ড ২০১৯ প্রদান করা হয়।

গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) এর নশরৎপুরস্থ প্রধান কার্যালয়ে  প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্্ সালামের সভাপতিত্বে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন, পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোখছানা বেগম, সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলমগীর হোসেন, গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র শাহ মাসুদ জাহ্ঙ্গাীর কবির মিলন, গাইবান্ধা জেলা আওয়ামীলীগ এর সাধারন স¤পাদক আবু বককর সিদ্দিক, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এমদাদুল হক প্রামানিক, জিইউকে নির্বাহী কমিটির সভাপতি অনুপ কুমার সরকার, সদস্য সচিব শামীমা মাহমুদা ইয়াসমিন উপস্থিত থেকে এওয়ার্ড প্রদান ও চেক তুলে দেন।

উল্লেখ্য. প্রতিবছর উল্লিখিত ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে থেকে অন্ততঃ তিনটি ক্ষেত্রে একজন করে গুণী মানুষকে বা সংস্থাকে তাদের অবদানের জন্য জিইউকে এওয়ার্ড প্রদান করা হচ্ছে- ক) মুক্তিযুদ্ধ, খ) শিল্প-সংস্কৃতি, গ) সাহিত্য, ঘ) চিকিৎসা, ঙ) সাংবাদিকতা, চ) নারী উন্নয়ন ও  ছ) শিক্ষা।
জিইউকে এওয়ার্ড এর জন্য মনোনীত ব্যক্তি/সংস্থার প্রত্যেককে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নাম এবং মনোগ্রাম সম্বলিত ক্রেস্ট, সম্মাননা সনদপত্র এবং ১৫,০০০(পনের হাজার) টাকার চেক প্রদান করা হয়। প্রতিবছর পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি নিরপেক্ষ মনোনয়ন কমিটি সার্বিক বিবেচনায় জিইউকে এওয়ার্ডের জন্য ব্যক্তি বা সংস্থার নাম চুড়ান্ত করে থাকে। বাংলাদেশের গুণীজন বা সংগঠনকে এওয়ার্ডের জন্য মনোনীত  করা হয়।
তবে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ,স্বাধীনতার চেতনা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী কোন ব্যক্তি এই এওয়ার্ড পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন না। ২০১৭ সালে সালে জিইউকে এওয়ার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং  জেলার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও চিকিৎসায় তিন গুণীজনকে এওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

Check Also

গাইবান্ধায় অক্সফ্যামের সহযোগিতায় ৪৫৫ পরিবারে হাইজিং কিটস্ বিতরণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: করোনাভাইরাস সংক্রমের ঝুঁকি রোধে গাইবান্ধা সদর উপজেলার গৃহবন্দী অতিদরিদ্র ৫শ৫৫ পরিবারের মাঝে আন্তর্জাতিক …