1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সকাল ৬:২৫ আজ শুক্রবার, ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি




নারী জাগরণে বেগম রোকেয়া-লিপু রহমান

  • সংবাদ সময় : শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৫৯ বার দেখা হয়েছে

কিছু মানুষ পৃথিবীতে জন্মেছেন তাদের কথা বার বার বললেও অত্যুক্তি হয় না। যদিও কারো কারো বিরুক্তি লাগে কিন্তু বিবেকবান মানুষ তাদের কথা বার বার শুনতে চায়। তাদের যে কর্ম, তাদের যে অবদান তা স্বীকার করা শুধু বিবেকবান মানুষ নয়, প্রত্যেক জাতির স্মরণ করা উচিত। সেই ফল প্রত্যেকে কম বেশি ভোগ করে। সেরকম একজন মানুুষ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। যাকে বাঙালি নারী জাগরণের পথিকৃত বলা হয়। কথাটি আমরা এখনকার সময়ে যত সহজে বলছি, সেসময় তিনি কাজটি তত সহজে করতে পারেননি। আজকের মতো তখন এতো মিডিয়া ছিলো না। ছিলো না লেখাপড়া করার মতো এতো সুযোগ। যার ফলে মানুষের চিন্তা ভাবনা ছিলো ধর্ম কেন্দ্রিক। আর সেই ধর্ম আঁকড়ে ধরে রাখতো পুরুষ। পুরুষ সেই ধর্মেরও সুবিধা মতো ব্যাখ্যা দিতো। পুরুষ সেই ধর্ম অনুযায়ী সমাজে শাসন চালাতো। আজকের মতো এতো ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের সুযোগ ছিলো না। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছিলেন, জ্ঞান অর্জনের জন্যে প্রয়োজনে চীন দেশে যেতে। সেই সমাজ ব্যবস্থা এই জ্ঞানার্জন শুধু পুরুষের জন্য ভেবেছিলেন। সেভাবেই তারা কাজ করতেন। ফলে নারীদেরকে অক্ষরজ্ঞানহীন করে রাখা হলো। তাদেরকে অন্দর মহলে অন্তরীন করে রাখা হলো। পর্দা প্রথার দোহাই দিয়ে তাদেরকে এক অর্থে বন্দী করে রাখা হলো। ফলে নারীরা নিজেদেরকে ভোগের সামগ্রি বলেই ভাবতে লাগলো। দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দী থাকা মানুষ যেমন দেশ-সমাজ-সংসার বিষয়ে কিছু ভাবতে পারে না। মতামত দিতে পারে না, অনেকটা সেরকম। কিন্তু বিষয়টা সেরকম নয়। আশরাফুল মাখলুকাত শুধু পুরুষ নয় নারীও। কারণ নারী-পুরুষ মিলেই মানুষ এমনকি হিজরারাও। তাই বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা আল্লাহ ও মাতার নিকট ভ্রাতাদের ‘অর্ধেক’ নহি। তাহা হইলে এইরূপ স্বাভাবিক বন্দোবস্ত হইত- পুত্র যেখানে দশ মাস স্থান পাইবে, দুহিতা সেখানে পাঁচ মাস। পুত্রের জন্য যতখানি দুগ্ধ আমদানি হয়, কন্যার জন্য তাহার অর্ধেক। সেরূপ তো নিয়ম নাই’। তিনি প্রকৃতির নিয়মটা সমাজের সামনে তুলে ধরলেন। এর মাধ্যমে তিনি আহবান জানালেন ভারতীয় নারী সমাজকে ঘর থেকে বের হয়ে আসার জন্য। তিনি নারীদের ঘরের কাজের সাথে সাথে বিদ্যা শিক্ষা অর্জনের কথা বলেছেন। যার জন্য তিনি নিজেই ১৯০৯ পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’  প্রতিষ্ঠা করলেন। পরবর্তীতে তিনি কলকাতায় ১৯১১ সালে ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৬ সালে এই স্কুলে ছাত্রী সংখ্যা একশ পেড়িয়ে যায়। পর্দার মধ্যে থেকে তিনি শিক্ষা দান করতে থাকলেন। তিনি নিজে যে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন তাঁর ভাইয়ের এবং স্বামীর কাছে। কেউ যাতে বুঝতে না পারে তাই তিনি গভীর রাতে পড়াশুনা করতেন। তিনি বুঝেছিলেন ভারতীয় নারীরা তাদের পরিবারে তাঁর মতো সুযোগ পাবে না। তাই তিনি নারীদের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেন। সেই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না হলে আজকে নারীরা এতো শিক্ষা গ্রহণ করতে পারতো না। নারীরা আজ দেশ শাসন থেকে শুরু করে চিকিৎসা, প্রযুক্তিসহ সর্বক্ষেত্রে কাজ করছে পুরুষের সাথে সমান তালে। তারা আজ কিছু কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে।

কিন্তু নারীদেরকে আজও ভোগের সামগ্রী মনে করা হয়। যা আমাদের চারপাশে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ এর চিত্র দেখলেই বোঝা যায়। কিছু ব্যতিক্রম বাদে তাদের আজও ঘর খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা পিতার ঘর, ভাইয়ের ঘর, স্বামীর ঘর, এবং পুত্রের ঘরে বসবাস করে। তাদের নিজেস্ব কোন ঘরবাড়ি নেই। অবরুদ্ধ নারীদের দিকে তাকিয়ে বেগম রোকেয়া দুঃখিত চিত্তে জানিয়েছেন-
‘গৃহহারা বন্দিনী, লাঞ্ছিতা জাগো!
বাংলার ভগিনী, বাংলার মাগো।’

বেগম রোকেয়া নারী জাগরণের কথা বলেছেন কিন্তু মাতৃত্বকে অস্বীকার করেননি। তিনি বলেছেন- মায়ের কর্তব্য না শিখে কেউ যেন মা না হয়’। তাঁর এ বাণী শুধু বাংলায় নয় সারা বিশে^ আজ প্রমাণিত। শিক্ষিত মা-ই পারে সন্তানকে শিক্ষিত করতে। আর শিক্ষিতরাই পারে উন্নত জাতি গঠন করতে। পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে শৃংখল আনয়ন করতে। ভালোভাবে ধার্মিক হতে শিক্ষা অর্জন জরুরি। নারীরা যদি সুশিক্ষা পেতো তাহলে সমাজে ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার কমে যেতো। নারীরা সুশিক্ষা পেলে সমাজে দুর্নীতিও কমে যেতো। আমাদের দেশে নারীরা নয় পুরুষরাই দুর্নীতির সাথে জড়িত। নারীরা যদি সুশিক্ষা পেয়ে স্বাবলম্বী হতো তবে পুরুষদের বলতো তোমাদের অবৈধ আয় পরিবারে ঢুকতে দেয়া হবে না। তখন আমাদের দেশে দুর্নীতি কমে যেতো। তাই তো নারীদের এখনো স্বাবলম্বী হতে বাঁধা দেয়া হয়। নারীরা যদি সুশিক্ষা পেতো তাহলে মুক্তিযুদ্ধে এতো রাজাকারের জন্ম হতো না। স্বাবলম্বী হলে তারা বলতে পারতো- দেশের সাথে বেইমানী করলে তারা তাদের সাথে সংসার করবে না। তাদের রান্না করে দেয়া, কাপড় ধোয়াসহ সংসারের কোন কাজ করবে না। কিন্তু সেই বেইমানদের পরিবারের নারীরা তা বলতে পারেনি। কারণ তারা সুশিক্ষা অর্জন করতে পারেনি বিধায় স্বাবলম্বী হতে পারেনি। রাজাকারদের গর্ভধারিণী যদি সুশিক্ষা পেতো, তবে রাজাকাররা সুনাগরিক হতো, রাজাকার হতো না। সুশিক্ষত ছিলো না বিধায় রাজাকারদের জননী, স্ত্রী, কন্যারা তাদের কর্তব্য পালন করতে পারেনি। সেই নারীরা সুসন্তান তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিংশ শতাব্দিতে বেগম রোকেয়া নারীদের অগ্রগতির জন্য যে জোয়ার তুলেছিলেন – তা আমাদের অব্যাহত রাখতে হলে আমাদের পরিবার থেকে শুরু করতে হবে। তিনি আঙ্গুল দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখিয়েছেন বলেই সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের নারীদের অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। আমরা নতুন করে কোন নারীর গর্ভ থেকে দেশদ্রোহীর জন্ম জন্ম দিতে চাই না। দুর্নীতিবাজদেরও জন্ম দিতে চাই না। তাই নারীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সাবলম্বী হওয়ার পথ পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে।

লেখক: কবি, সাহিত্যক, ছড়াকার




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ