এখন সময় রাত ১:৫২ আজ সোমবার, ৭ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ২৩শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী


এই মাত্র পাওয়া সংবাদ
Home / জাতীয় / ৪ ডিসেম্বর সাঘাটা-ফুলছড়ি হানাদার মুক্ত দিবস

৪ ডিসেম্বর সাঘাটা-ফুলছড়ি হানাদার মুক্ত দিবস

আফতাব হোসেন:
৪ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জেলার প্রথম হানাদার মুক্ত হয় সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা। মুক্তিযোদ্ধারভ পাকিস্থানী বাহিনীরা সাথে সম্মূখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে এই দু’উপজেলা হানাদার মুক্ত করে। গেরিলা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম, নাজিম উদ্দিন আব্দুল জলিল তোতা ও এনামুল হকের নেতৃত্বে ৪টি দলে বিভক্ত হয়ে ফুলছড়ি থানার চারপাশে অবস্থান নেয় এবং ভোরেই ফুলছড়ি থানায় আক্রমন করে। এতে পাকবাহিনীর ২৭ জন সৈন্য এবং ৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়। আর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমাত্বক শক্তির কাছে বেলা ওঠার সাথে সাথেই পাকিস্থানী সৈন্যরা আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়।
পাক সেনাদের অন্যতম ঘাটি ছিল গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত ফুলছড়ি থানা ও রেলওয়ে ফেরিঘাট। নৌ ও রেলপথে পাকিস্থানী হানাদারের এখানে এসে অবস্থান উত্তরাঞ্চলের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, ধর্ষন ও লুটপাতসহ সবধরণের অপকর্ম করতো। এছাড়াও নৌপতে কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ভারতের মানকার চরে যেতে না পারে এজন্য পাকিস্থানীরা নিয়মিত টহল দিতো এবং নৌকাগুলো পানিতে ডুবিয়ে দিতো। এই অঞ্চলের শক্তিশালী পাক হানাদা ঘাটি দখলে নিতে মুক্তিযোদ্ধা সংঘঠিত হয়ে পরিকল্পনা করতে থাকে তাদের পরাজিত করার জন্য। সেই অনুযায়ী চারটি দলের মধ্যে ৩টি দল ৪ ডিসেম্বর ভোররাতেই ফুলছড়ি থানায় আক্রমন করে। মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিটের সম্মুখ যুদ্ধেই পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পন করে পাকিস্থানের ২ শতাধিক সৈন্য। মুক্তিযোদ্ধারা থানার গোলাবারুদ ও অস্ত্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এই সম্মূখ যুদ্ধে শহীদ হন বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন, কবেদ আলী, জাহেদুর রহমান বাদল, ওসমান গনি ও আব্দুল সোবাহান।
শহীদদের মৃতদেহ উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী সাঘাটা উপজেলার সেগুনা ইউনিয়নের খামার ধনারুহা গ্রামে এনে কবরস্থ করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই ৫ শহীদের সম্মানার্থে ইউনিয়নটির নাম পরিবর্তন করে মুক্তিনগর রাখা হয়। বর্তমান সরকারের আমলে শহীদদের কবরস্থানগুলো সংরক্ষণ করা হয় যথাযথভাবে।
আজকের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের স্বজনদের সম্মান ও মর্যাদা জানাতে সাঘাটার মুক্তিনগরে আেেয়াজন করা হয় নানা কর্মসূচি। সর্বস্তরের মানুষ এই স্মৃতিস্মম্ভে এসে ফুল দিয়ে শহীদ ও শহীদ পরিবারের স্বজনদের সম্মান জানান।

Check Also

মথরপাড়া দাখিল মাদ্রারায় ৩৮জন শিক্ষার্থীর পাঠদানে ১১ শিক্ষক!

সাঘাটা প্রতিনিধি: এমপিওভুক্ত মাদরাসার বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ৩৮ শিক্ষার্থী, তাদের পড়াচ্ছেন ১১ জন শিক্ষক। এমন দৃশ্য …