1. aftabguk@gmail.com : aftab :
  2. ashik@ajkerjanagan.net : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. chairman@rbsoftbd.com : belal :
  4. ceo@solarzonebd.com : Belal Hossain : Belal Hossain
×
     

এখন সময় সন্ধ্যা ৬:৩১ আজ সোমবার, ২৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জুলাই, ২০২০ ইং, ২২শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী




এক পাগলের প্রাণ বাঁচাতে পাগল যখন ওসির মন

  • সংবাদ সময় : সোমবার, ১২ আগস্ট, ২০১৯
  • ৩২ বার দেখা হয়েছে

কবে,কিভাবে,কোথা থেকে কেন এখানে এসেছিল লালটু আর কেনইবা এখানে থেকে গেল সে- উত্তর যেন অজানাই থেকে গেল পুরো সাঘাটাবাসীর কাছে।। সহজ- সরল,সদা হাস্যল,নির্লোভ,নিষ্পাপ মনের ভালবাসায় স্থানীয়রা সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজারও প্রয়োজন মনে করেনি কখনও।।
ঈদ,পূজা, বিয়ে-পার্বনে মা-বোনদের সাথে গীত-গান গাওয়া অল্পদিনেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠা লালটু জীবনের অর্থ খুঁজে পেয়েছিল হয়তো নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মাঝে।।আর তাই, পাড়া-গাঁ,হাট-বাজার ঘুরে যা পেত তা দিয়ে শিশু-বাচ্চাদের চকলেট – বিস্কুট কিনে দিয়ে শুণ্য হাতে ঘুমোতে যেত খোলা বারান্দা কিংবা ভাঙ্গা গোয়াল ঘরে।।
সমাজের স্বপ্নবাজদের স্বপ্ন পূরণের প্রক্রিয়ার সাথে বড্ড অসঙ্গতিপূর্ণ লালটু তাই”লালটু পাগলা”বলেই পরিচিতি পেল।।
বানভাসি সাঘাটাবাসীর বন্যা পরবর্তীতে এখন তাদের নতুন করে পথ চলার পালা,সবকিছুর সংস্থান, সংকুলান করতেই যখন নাভিশ্বাস,লালটুকে নিয়ে কিভাবে থাকে কারোও ভাববার অবকাশ!!!আর তাই অসুস্থ হয়ে, না খেয়ে,পঁচে পড়ে থাকা দুর্গন্ধ যুক্ত লালটুর কাছেও কেউ গেল না, দোকানিরা দোকান বন্ধ করে দিল দুর্গন্ধ থেকে পরিত্রাণ পেতে। লালটুর মৃত্যুই যেন তাদের মুক্তির একমাত্র পথ।।কিন্তু সে মরল না বাঁচল এটা বলবে কে?? এ যেন বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধা অবস্থা!!! লালটু যেন পৃথিবীর সবচেয়ে নিগৃহীত প্রাণী।।।

খবর পেয়েই ছুটে এলেন  সাঘাটা থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান, সাঘাটা এ ছুটে চলার যেন শেষ নেই কবে শুরু হয়েছে সেটাও তার মনে নেই,লালটুর কাছে গেলেন ভালবাসার সুঘ্রাণে সকল দুর্গন্ধ যেন পরাজিত হল আজ। ভালবাসা পেয়ে আলিঙ্গনের আশায় লালটু জানান দিল সে এখনও মরে নাই।।
শরীর পরিস্কার করে ভর্তি করালেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।ঔষধ, ফলমূল কিনে দেওয়ার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নিয়োগ দিলেন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, পাশে দাঁড়ালেন আপন ভাই কিংবা তারচেয়েও বেশি কিছু রুপে।।
টানা দুদিন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঁঞ্জা লড়া লালটু ভালবাসার শেষ সুতোটাও ছিন্ন করে পরোলোক গমণ করেন শনিবার সকালে ।
আত্মীয় স্বজনদের না পেয়ে ওসি নিজেই লালটুর দাফন কাফনের ব্যবস্থা করলেন । এক গাগলের প্রাণ বাচানোর ক্ষীণ আশায় ওসির পাগল মনের ব্যাকুলতা ছুয়ে যায় সাঘাটা প্রতিটি মানুষের হুদয়ে। এভাবেই বেঁচে থাকুক স্বার্থহীন ভালবাসা,বেঁচে থাকুক মানবতা প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে।।। ওসি মোস্তাফিজার রহমান গাইবান্ধা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অস্ংখ্য ধন্যবাদ । এভাবে বার বার শতবার মানবতার সেবায় নিস্বার্থ আমরা-জেলা পুলিশ গাইবান্ধা। লেখাটি গাইবান্ধা জেলা পুলিশের ফেইজবুক পেজ থেকে নেয়া হয়েছে। আর যিনি এই কতজ্ঞতাবোধে লেখাটি পোষ্ট করেছেন তাদের মধ্যে অবশ্যই গাইবান্ধার সম্মানিত পুলিশ সুপার প্রকৌশলী জনান আবদুল মান্নান  মিয়া বিপিএম মহোদয় নজর রয়েছে এব্ং আমি ধরেই নিয়েছে সমস্ত জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিনি এই হৃদয়বিদারক এতসুন্দর লেখাটি পোষ্ট করেছেন।

সঘাটার ওসি মোস্তাফিজার রহমাসের  বিষয়টি কারো দৃষ্টিতে হয়তো সামান্য হলেও গাইবান্ধার স্থানীয় দৈনিক আজকের জণগণ ওসির এই মহতি, মানবিক ও  হৃদয়িক কাজটি দৃষ্টান্ত হিসাবে আমরা পত্রিকায় প্রকাশ করেছি।  ওসি মহোদয় যে শুধু লোক দেখানো এব্ং পত্রিকায় কারো দৃষ্টিতে আসার জন্য এটি করেছেন তা কিন্তু না; তিনি বলেছেন এটি আমার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ হয়ে একজন মানসিক রোগী সাঘাটা বাজারের সোনালী ব্যাংক এর নীচে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলো। আশে-পাশে সব সময় শত শত লোক থাকলেও তাকে খাওযানো বা চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাবার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। তার পায়খানার দুগর্ন্ধে আশে-পাশের দোকানীরা দোকান বন্ধ করে রেখেছিলো। অর্ধাহারে-অনাহারেই কাটছে তার কয়েকদিন। খাবার জোটাতে ও খাইতে না পারায় শরীরে জোর না থাকায় উঠতে বসতে পারেনি। ওষুধপত্র জোটেনি তার ভাগ্যে। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় অনেকেই ভেবেছে লোকটি মারা গেছে। তার মৃত্যুর খবর প্রচার হতে থাকে। এই সময়ে দৃষ্টিতে পড়ে ওসি মহোদয়ের। এরপর যা হয়েছে তা তো জেলা পুলিশের লেখা থেকেই জেনেছেন।

মৃত্যুর ৩দিন আগে লালটু সাঘাটা হাসপাতালে তখন থানায় গিয়ে কৃজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বললেন চলেন লালটু কে দেখে আসি। সাথে সা্ংবাদিক আবু তাহেরও ছিলেন। মধ্য রাতেই হাসপাতালে আসলাম। ওসি মহোদয় লালটুর সাথে কথা বললেন,কেমন লাগছে, কি খেতে ইচ্ছে হয়, সেবাযত্নে নিয়োজিত কর্মীর সাথে কথা বললেন- যাতে কোন ধরণের অসুবিধা না হয়-এসব নানা কিছু, সত্যিই আমার মনে হয়েছিল ওসি মহোদয় কোন স্বজনের খোজ-খবর নিচ্ছেন। লালটু একটু হেসে বললেন কিছুটা ভাল লাগছে, আইসক্রীম খেতে ইচ্ছে করছে।  এরপর দায়িত্বরত নার্স ও  চিকিৎসকের সাথে কথা বললেন তার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে। চিকিৎসক জানালেন তার অবস্থা বেশি একটা ভাল না, বাঁচাতে হলে ভাল হয় ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করা। এসময় তিনি পরামর্শ দেন একটু সুস্থ্ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে পারেন।  ওসি মহোদয় তার সবকথায় রাজি। জানালেন, একটু সুস্থ্ করে দেন ঢাকায় নেয়ার ব্যবস্থা করবো। চেষ্টার সবটুকু করেছেন তিনি। বাকিটুকু ছিল সৃষ্টিকর্তার উপর।

জেলা পুলিশের সাথে আমি ব্যক্তিগতভাবে এব্ং সা্ংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে সাঘাটর অফিসার ইনজার্জ মোস্তাফিজার রহমান মদোদয়কে স্যালুট! তাঁরমতো এমন দায়িত্ববান, মানবিক, মহত পুলিশের কারণে আমাদেরও ভাললাগে, গর্ববোধ করি দেশের যেকোন বিপদের মুহুর্তে দায়িত্বশীল কর্মকান্ড নিয়ে। ওসি মহোদয় বেঁচে থাকুন মানুষ ও মানবতার সাথে অনন্তকাল-এই শুভ কামনা রইল।-আফতাব হোসেন, জেলা প্রতিনিধি-মাই টিভি, নির্বাহী সম্পাদক-দৈনিক আজকের জনগণ, উন্নয়ন কর্মী- গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে)

 




সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ